ঢাকা, শনিবার 23 February 2019, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

২৬ ধনীর হাতে বিশ্বের অর্ধেক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সমপরিমাণ সম্পদ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্ধেক অর্থাৎ ৩৮০ কোটি গরিব মানুষের মোট সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ কেন্দ্রীভূত রয়েছে মাত্র ২৬ শীর্ষ ধনীর হাতে। গতকাল সোমবার দাতব্য প্রতিষ্ঠান অক্সফামের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অক্সফাম এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।এতে বলা হয়, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী ধনকুবেরদের প্রতিদিন সম্পদ বেড়েছে ২শ’ ৫০ কোটি ডলার করে। বাংলাদেশ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এখানে নারীদের চেয়ে পুরুষরা ছয়গুণ বেশি ভূমির মালিক। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জেফ বেজসের সম্পদ বেড়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলার। তার এই সম্পদের মাত্র এক শতাংশ ১০৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়ার পুরো স্বাস্থ্য বাজেটের সমান।

এর বিপরীতে গত বছর ৩শ ৮০ কোটি দরিদ্র লোকের সম্পদ ১১ শতাংশ কমেছে ।

প্রতিবেদনে অক্সফাম জানিয়েছে, ২০১৮ সালের বিশ্বের ধনীরা  আরও ধনী হয়েছে এবং দরিদ্ররা হয়েছে দরিদ্রতর। সম্পত্তির এই বিশাল ব্যবধানের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই। যদি শীর্ষ ধনীদের আয়ে এক শতাংশ সম্পদ কর আরোপ করা হয়, তাহলে বছরে ৪১৮ বিলিয়ন ডলার অর্থ আসবে। এই অর্থ দিয়ে স্কুলে যাচ্ছে না এমন শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে ৩০ লাখ মৃত্যু এড়ানো যাবে।

অক্সফাম বলছে, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সম্পদের এই ব্যাপক বৈষম্য দারিদ্র্য বিরোধী লড়াইকে গুরুত্বহীন করে তুলছে। এছাড়া অর্থনীতিকে করেছে ক্ষতিগ্রস্ত এবং গণঅসন্তোষকে তীব্র করছে।

অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বব্যাপী জনগণ ক্ষুব্ধ ও হতাশ।

অক্সফাম সতর্ক করে বলছে, একই সময়ে দেশে দেশে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো সেবা খাতগুলোতে অর্থায়ন কমিয়ে এই বৈষম্যের আরো বিস্তার ঘটাচ্ছে।

অক্সফামের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অতিধনী ব্যক্তি ও কর্পোরেশনগুলো কয়েক দশকে তাদের কর দেয়ার পরিমাণ কমিয়েছে। ফলে, শিক্ষকহীন শিক্ষার্থী, ওষুধবিহীন ক্লিনিকের এখন ছড়াছড়ি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ