ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 January 2019, ৪ মাঘ ১৪২৫, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শেকওয়া ও জওয়াবে শেকওয়া বিশ্বাসী কবিতার বিস্ফোরণ

 

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ হাসসান :

শেকওয়া কী? অভিযোগ, আপত্তি, নালিশ। কার বিরুদ্ধে? স্বয়ং স্রষ্টার বিরুদ্ধে। মারাত্মক কথা! নিশ্চয়। এ মারাত্মকতাই সেদিন মার্জিত করেছিল পুরো পৃথিবীর মুসলিম মানসকে। অনুধাবিতপূর্ব অনেক কিছুই শিখিয়েছিল কবিতাদ্বয়। কতিপয় অতলচিন্তামুক্তদের মস্তিষ্কে ঝালও ছিটিয়েছিল। হৈহৈ করে ওঠেছিল অনেকে- মর্মগভীরে পৌঁছার আগেই।

কী মজার ব্যাপার! তাওহিদ-অনুধাবনের অতলান্ত ডুবুরি কবিতার কবিকে পেতে হলো ‘কাফের’ খেতাব। তিনি বুঝলেন, এ অতলাশ্রয়ী দর্শনচিন্তার চাষবাস এ ভূমিতে চলে না। পাতলা পালে হাওয়া ধরবে না তেমন। হিতে বিপরীত হবে। বুঝিয়ে দিতে হবে তাদের। ‘অভিযোগের জবাব’ লিখতে হবে Ñ জওয়াবে শেকওয়া, লিখলেন তিনি এক বছর পর।

কেমন ছিল সেই আকাশবিদারী অভিযোগ? কেমন অভিমানক্ষুব্ধ কণ্ঠ চিরে বের হয়েছিল সে অনুযোগ-পঙক্তিমালা? দেখা যাক দুচারটি চরণ, হে আল্লাহ! এবার বন্ধুদের কিছু অনুযোগ শোন

নিত্য গুণগাহিয়েদের কিছু অভিযোগও শোন।

তুমি তো জানই, এ পৃথিবীতে তোমার নাম নেবার কেউ ছিল কিনা?

মুসলমানদের বাহুবলেই তুমি পরিচিতি লাভ করেছ এ ধরায়।

তাওহিদের চিত্র হর দিলে বসিয়েছি আমরাই

তরবারির তলে থেকে এ বাণী শুনিয়েছি আমরাই।

এরকম দীর্ঘ অভিযোগ-নামা। ৩১ স্তবকের দীর্ঘ কবিতা। প্রতিটি স্তবকে ৬টি পঙক্তি করে মোট ১৮৬ পঙক্তি। ঝিনুকমালার মতো অভিনব সাজে থরে থরে সাজানো। 

যারা কবিতা বুঝে না, কবির হৃদয়-আকুতি বুঝে না; প্রেমিক হৃদয়ের মান-অভিমানের উপজীব্য যাদের অজানা, কবিতায় সুফি দৃষ্টিভঙ্গির নিগূঢ় রহস্য যাদের অনাস্বাদিত; তারা হৈচৈ তোললেনÑ ইকবাল পথচ্যুত; তিনি আল্লাহর বিরুদ্ধে কণ্ঠ বাজিয়েছেন। ইকবাল ভালো করে ধরতে পারলেন, আল্লাহ-প্রেমের আনাড়িদের কাছে এমন প্রেমপ্লাবিত কবিতার আবেদন বোধগম্য নয়। তাদের বোঝাতে হবে। রচনা করলেন ‘জওয়াবে শেকওয়া’। তিনি মুসলিম জাতির দুঃখ-দুর্দশা ও সমগ্রপ্লাবী অধঃপতনের কারণ বিশ্লেষণ করলেন। জ্বালিয়ে দিলেন আরেক অনল শিহরণ।

তোমাদের হৃদয়ে অনুভূতি নেই, প্রচ- দরদ ও জ্বালা নেই 

তোমাদের কাছে মুহাম্মদ স.-এর বাণীরও কোনো মর্যাদা নেই।

আজানের শুধু প্রথা আছে, বেলালি আজানের প্রাণ নেই

দর্শনচর্চাও টুকটাক আছে, গাজালির সেই বিপ্লবী পঠন নেই।

মসজিদগুলো শোকবাণী ছড়াচ্ছে, মুসল্লি নেই মুসল্লি নেই

মুসল্লি আছে, তবে হিজাজি গুণের কেউ তো নেই।

ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা যদি রক্ষা করতে পার মুহাম্মদের সাথে

মাটির পৃথিবী কিইবা জিনিস! লওহে মাহফুজও তোমার হবে।

এরকম ৩৬ স্তবকের মোট ২১৬টি পঙক্তি দিয়ে রচিত ‘জওয়াবে শেকওয়া’ Ñঅভিযোগের উত্তর বা কারণ। ৩১ স্তবকের অভিযোগ আর ৩৬ স্তবকের অভিযোগের জবাবÑ এখান থেকেও আমরা বুঝতে পারি, যার কাছে অভিযোগের চেয়ে অভিযোগের যৌক্তিক কারণ ও জবাব বেশি, তিনি অভিযোগ করতেই পারেন। মনে রাখা উচিত, অভিযোগের জবাবে তিনি শুধু মুসলমানদের ভুল ধরেন নি, তাদের মাঝে ফুলও ছড়িয়েছেন; তাদের বাগানে ফুলও ধরিয়েছেন ।

॥২॥

আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিমানক্ষুব্ধ অভিযোগ করা, সে অভিযোগ দীর্ঘ কবিতার মাধ্যমে মানুষের কাছে প্রচার করা; এই ইতিহাসের চাঞ্চল্যকর সূচনা ইকবালের শেকওয়া দিয়েই। অবশ্যি, এর আগেও আরবি কবিতায় টুকটাক অভিযোগ-কবিতা পাওয়া যায়Ñ নিতান্তই অঙ্গুলিমেয়। তবে সেসবের কোনো ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক মূল্য নেই। এমনকি, শেকওয়ার পরেও কোনো উল্লেখযোগ্য কবি শেকওয়া-কাব্য লিখেছেন, এমন ইতিহাস আমাদের হাতে আসেনি।

সঙ্গত কারণেই ভাবতে হচ্ছে, ইকবাল কেন এরকম একটি কবিতা লেখার দুঃসাহস করলেন, যা লিখে তাকে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়েছে? এটা লিখতে কি তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন? উদ্ধত হয়েছেন? বাধ্য হয়েছেন? বিষয়টা আসলেই কি?

বিষয়টি বুঝতে হলে ইকবালের কবি-মানসের বন্দরে নোঙর ফেলতে হবে; ইতিহাসের আশ্রয়ও নিতে হবে খানিকটা। ইকবালের সৃষ্টিশীল সময়পরিসর চল্লিশ বছর ব্যাপৃত। সে সময় তিনপর্বে পর্বায়িত। ইউরোপে যাওয়ার আগের রচনা (ছাত্র জীবন থেকে ১৯০৫)। ইউরোপে থাকাকালীন রচনা (১৯০৫-১৯০৮)। ইউরোপ থেকে দেশে ফেরার পর (১৯০৮-১৯৩৬)। প্রথম পর্বের রচনার উপজীব্য বিষয় জাতির উত্থান-পতনের কারণ নির্ণয় ও মুসলিম জাতির চিন্তাশক্তির জাগরণ। দ্বিতীয় পর্বের রচনায় দেশাত্মবোধ, ধর্মতত্ত্ব জ্ঞান, আলোকিত জীবনভাবনা ও মুসলিম বিশ্বে শান্তিপ্রতিষ্ঠার দিকনির্দেশনা পরিস্ফুটিত করেছেন এক অনন্য অন্তর্জ্বালায়। তৃতীয় পর্বটি তাঁর কবিতা রচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। এ পর্বে ইসলামের দর্শন, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সুফিতত্ত্ব, বিশ্বনবীর আদর্শ-অনুসরণ, ইসলামের শাশ্বত আদর্শ প্রতিষ্ঠার দরদী আহ্বান এবং মুসলিম জাতির অগ্রগতির প্রেরণাদান ইত্যাদি বিষয়ে বিপ্লবী কাব্য রচনা করেন। আমাদের আলোচ্য দুটি কবিতা এ তৃতীয় পর্বেই রচিত। শেকওয়া ১৯১১ ও জওয়াবে শেকওয়া ১৯১২ সালে রচিত। ইউরোপ থেকে যখন তিনি দেশে ফিরছেন তখন তার ঈমানি আবেগ ছিল তুঙ্গস্পর্শী। ইউরোপকে তিনি দেখেছেন খোলাচোখে, খোলামনে, খুব কাছ থেকে। ইউরোপীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি-সভ্যতার অসারতা ও ঠুনকোপনা তার কাছে জ্বলন্ত সত্য প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামের অন্তর্নিহিত শক্তি ও সৌন্দর্য, সমকালীনতা ও চিরন্ততা, তার অটুট স্থায়ী বিজয়-ক্ষমতা ও শাশ্বত বিপ্লবী শক্তির প্রতি তার পূর্বে যে আস্থা ছিল, তাতে যোগ হয়েছে নতুন নতুন মাত্রা। ইসলামের এত শক্তি, মুসলমানদের এত কুরবানি, আল্লাহর জমিনে খেলাফত-প্রতিষ্ঠার এত সাধনা ও জেহাদ! তবু তারা অধঃপতিত কেন? তাদের মর্যাদা ভুলুন্ঠিত কেন? কবির মনে জমা হলো দলা দলা প্রশ্ন, জমাটবদ্ধ খেদ। মনের পর্দা চিরে সে খেদ বেরিয়ে পড়ল কবিতার সূর্যালোকে।

অভিযোগমাত্রই মন্দ নয়। অভিযোগ মানেই অবিশ্বাস বা বেয়াদবি নয়। অভিযোগের ইতিবাচক দিকও আছে অগনিত। হৃদয় দিয়ে বুঝলে, অভিযোগ একপ্রকার বিনয়ও। তবে এ বিনয়ের একটা বলিষ্ঠ আবেদন আছে, সাহসী উচ্চারণ আছে।

এই যে দোয়া, যা আমরা পড়ি বা করি, তা কি বিনয়-প্রকাশ, না অভিযোগের উচ্ছাস, নাকি, ভাবোচ্ছ্বাসের নীল-বিনয়ী আকাশ? আসলে, দোয়াও তো একধরনের অভিযোগ। নাহয়, আপাদমস্তক নেয়ামতে ডোবা একজন নগণ্য বান্দা কীভাবে বলতে পারে, ‘আল্লাহ! আমি তো অমুক অমুক কষ্টে-বিপদে চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছি, তুমি দয়া কর, উদ্ধার কর।’ যুগে-যুগে নবীরাও এমন বলেছেন।

ইয়াকুব আ. বলেছেন, ‘ইন্নামা আশকূ বা”চী ওয়া হুযনী ইলাল্লাহ’Ñআমি দুঃখ ও অস্থিরতার অভিযোগ আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি। প্রিয় মুহাম্মদ স. বলেছেন, ‘মাতা নছরুল্লাহ’, Ñআল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?

অভিযোগের বিনয়ী উচ্চারণ, হয়তো, যে কেউ করতে পারে, কিন্তু অভিযোগের সাহসী উচ্চারণ যে কেউ করতে পারে না। তার জন্য লাগে কলম-কলব উভয়টার অমীয় শক্তি, শক্তির ¯্রােতধারা; ¯্রষ্টার সাথে সম্পর্কের পদ্মা-যমুনা। সেটা সবচেয়ে মার্জনা-সুন্দর শৈলীতে করতে পেরেছেন কবি ইকবাল। এ জন্য শেকওয়া রচনা ইকবালকেই সাজে।

॥৩॥

‘শেকওয়া ও জওয়াবে শেকওয়া’কে কাব্যিকভাবে কী অভিধায় অভিধিত করা যায়, সে এক চাঞ্চল্যমধুর ব্যাপার! ‘বিশ্ববিখ্যাত’ ও ‘আলোড়ন সৃষ্টিকারী’র মতো কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন গবেষকগণ। আমার কাছে মনে হয়েছে, এ শব্দগুলোর ভেতর এমন বৈশিষ্ট্যগম্ভীর ভাব নেই, যা কবিতাদ্বয়ের মূল বার্তা বহন করে চলে। আমি মনে করি, এ কবিতাদ্বয় অনবদ্য এক ‘বিপ্লবপত্র’, যার পরিণত বিস্তার ঘটেছিল ‘আসরারে খুদি’ (১৯১৫) রচনার মধ্য দিয়ে।

‘খুদি’ কী? আত্মার জাগরণ, সঠিক আত্মোপলব্ধির বলীয়ান বিকাশ। এ খুদিই ইকবালের কাব্যদর্শনের মূল সুর। এ খুদির মাধ্যমে তিনি বিপর্যস্ত মানবতার সংকট-মুক্তির আকুতি জানিয়েছেন। খুদিকাব্যের প্রতিটি ছত্রে তিনি মানবদরদের দূর্গ-কলিজাকে ফালি ফালি করে কেটে পরিবেশন করেছেন আত্মভোলা জাতির দস্তরখানে। আত্মার জাগরণকে তিনি এমন উঁচু স্তরে নিয়ে যাবার আহ্বান জানিয়েছেন, যে স্তরে উন্নীত হলে বান্দার প্রতি আল্লাহপাক সম্পূর্ণই সন্তুষ্ট হয়ে যান। আর সেই সন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ বান্দার তাকদির (ভাগ্যলিপি) বান্দার সম্পূর্ণ অনুকূলেই লিখে দেন।

‘খুুদি কু কর বুলন্দ এতনা কে হর তাকদির সে পেহলে

খোদা বন্দে সে খোদ পূছে বাতা তেরী রেযা কিয়া হ্যায়?’

খুদিকে এমন উঁচুতায় নিয়ে যাও যাতে আল্লাহ স্বয়ং বলেন, 

বান্দা তোমার সন্তুষ্টি কীসে বল, আমি সেটাই লিখে দেই।

বিখ্যাত এ খুদিদর্শনের মূল বীজ ছিল এ অভিযোগকাব্য। যার ভেতর খুদি থাকবে, জাগ্রত আত্মা থাকবে, অক্ষত-নিটোল আত্মোপলব্ধি থাকবে, তার কাছে অভিযোগ থাকতেই পারে; অভিযোগ করা তাকেই সাজে। বিশ্বচরাচরে যার কীর্তি অজর-অমর, যার অবদান অনবদ্য; তার অভিযোগ মানেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, কৃতির কথা মনে করিয়ে দেওয়া। আর সেই কৃতির কথা যদি বান্দা মনে করিয়ে দিতে পারে স্বয়ং আল্লাহকেই, তাহলে সেখানে মহব্বতের খেলা জমবেই। আল্লাহর সাথে এশক-প্রেমের হাট জমেছিল ইকবালের। কবিতার মাধ্যমে তিনি আবদ ও মাবুদের মাঝে বাক্যালাপ জুড়িয়ে দিয়েছিলেন। এ নিগূঢ় সম্পর্কের কারণে ঊর্ধ্বজগতে এ ‘শেকওয়া’কে ‘শোকর’ অভিধায় বরণ করা হয়েছে। (এসব অবশ্যি কবিকল্পনারই বিষয়, বাস্তবে ঊর্ধ্বজগৎ থেকে কোনো কথা বা আওয়াজ এসেছিল, এমন নয়।)

দেখুন, কী চমৎকার অভিব্যক্তি!

আয়ী আওয়াজ গমাংগীয হায় আফসানা তেরা

এশকে বেতাব সে লবরীয হায় পায়মানা তেরা॥

আসমাঁ গীর হুয়া নারায়ে মস্তানা তেরা

কিস কদর শওখ যবাঁ হায় দিলে দেওয়ানা তেরা॥

শোকর শেকওয়ে কো কিয়া হুসনে আদা সে তূ নে

হামসুখন কর দিয়া বন্দুঁ কো খোদা সে তূ নে॥

আসমান থেকে আওয়াজ আসল, তোমার কাহিনী বড় বিষাদময়

ব্যাকুল প্রেমে ভরে গিয়েছে তোমার হৃদয়ের পেয়ালা।

আসমান স্পর্শ করেছে তোমার করুণ কান্না

কত যে নির্ভীক সাহসী তোমার প্রেমিক মন!

চমৎকার ভঙ্গিতে তুমি শেকওয়াকে রূপ দিয়েছ শোকরের

আল্লাহর সাথে বান্দার বাক্যালাপ জুড়িয়ে দিলে তুমিই।

॥৪॥

‘শেকওয়া’র প্রথম বিশটি স্তবকে মুসলিম উম্মাহর দরদী কবি বর্ণনা করেছেন মুসলমানদের কৃতিত্বের কথা, বীরত্বের কথা, দ্বীনপ্রতিষ্ঠার জন্য তাদের সাধনা ও জেহাদের কথা। বর্ণনা করেছেন এক আশ্চর্য কুশলী কাব্যিক দক্ষতায়, যাতে শেকওয়া পেয়েছে শুকরিয়ার অনন্য শিরোপা; অভিযোগ পেয়েছে কৃতজ্ঞতার অভিনব কাব্যরূপ। তার পরের স্তবকগুলোতে মুসলমানদের পতন ও পচনের মূল কারণ উদঘাটন করেছেন, এবং সবশেষে আল্লাহর কাছে মুক্তির প্রার্থনা করেছেন।

শেকওয়ার সঙ্গীত ও সুরে মেতে ওঠবে না এমন বেসুরো মন কোনো মুসলমানের হতে পারে না। যে আবেগোত্তালতা কবি ভরিয়ে দিয়েছেন শেকওয়ার কাব্যসাগরে, তা কোনো হৃদয়কে প্লাবিত না করে পারে না। আত্মজাগরণি সেই উত্তাল সাগরে আমরাও একটু ডুব দেই।

কবি বলছেন, আমি মানুষ; শ্রেষ্ঠ মাখলুক; জমিনে আল্লাহর খলিফা। আমার কলবে ও কণ্ঠে নির্ভীক শক্তি আছে। তাহলে আমি অসহায় বুলবুলির মতো বিলাপ করব কেন? করুণ কান্নায় ভেসে যাব কেন? চুপ থেকে স্বেচ্ছাক্ষতির দিকে পা বাড়াব কেন? আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে। আমি অবাধ্য-উদ্ধত ব্যক্তির হুংকার দিচ্ছি, এমন তো না। পৃথিবীতে আমরা সভ্য-শিষ্ট ও ভদ্র-ন¤্র হিসেবে প্রসিদ্ধ। সারাটা জীবন আমরা তোমারই গুণ গেয়ে আসছি। কিন্তু‘, আজ বুকটা ভীষণ ভারাক্রান্ত। কষ্টের কিছু কাহিনী শুনাতে হচ্ছে। একান্ত অনন্যোপায় মনে করে ক্ষমা করে দিও প্রভু।

আমাদের পূর্বে পৃথিবীর দৃশ্যই ছিল ভিন্ন। মানুষেরা অদৃশ্যের পূজার প্রতি চরম তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করত। তারা শুধু দৃশ্যমান বস্তুতেই বিশ্বাসী ছিল। ফলে চন্দ্র-সূর্য-পাথর-বৃক্ষ যে যেটাকে বড় মনে করত, তারই পূজা করত। আপনার নামটা পর্যন্ত উচ্চারণ করবে, এমন তো কেউ ছিল না। আমরাই আপনাকে চেনাবার পক্ষে দুর্মর গতিতে কাজ করেছি। 

সমগ্র পৃথিবীতে বহু জাতি ছিল। কেউ তো তোমার কালিমা বুলন্দ করার জন্য তরবারি ধরে নি, ধরে নি কুফর-শিরক উৎখাত করার জন্যও। যা ধরেছি আমরাই ধরেছি। তাজা প্রাণ পেতে দিয়েছি কখনও তরবারি তলে, কখনও তরবারি উপরে। তাওহিদের তাকবিরধ্বনিতে হুংকারের ঝঙ্কার ছড়িয়েছি ইউরোপের গির্জায়, আফ্রিকার তপ্ত মরুভূমিতে। কোনো প্রতাপশালী মহারাজকেও আমরা ভয় করিনি। সটান বুক টেনে দাঁড়িয়েছি নির্ভীক ভঙ্গিতে।

হে আল্লাহ! তুমিই বল, হাজার হাজার মূর্তি কারা ভেঙেছিল? কিসরা-কায়সার কারা ধ্বংস করেছিল? শত বৎসরের প্রজ্বলিত অগ্নিকু- নির্বাপিত করেছিল কারা? এসবের সাথে আমরা তোমার ইবাদতেও কোনো কসুর করি নি। লড়াইয়ের কঠিন মুহূর্তে আমরা নামাজে দাঁড়িয়ে গেছি কাতারবদ্ধ হয়ে। তখনও ধনী-গরিব, রাজা-প্রজার মাঝে কোনো ভেদরেখা ছিল না। 

কিন্তু‘, এতসব কি আমরা নিজেদের স্বার্থে করেছি? পদ-সম্পদ ও ক্ষমতার জন্য করেছি? তাও তো না। তাহলে মূর্তি ভাঙলাম কেন? মূর্তি না ভেঙে মূর্তি নিয়ে ব্যবসা করলেই তো লাভ হত বেশি। তারপরও তুমি আমাদের উপর নারাজ। আমাদের ব্যাপারে অভিযোগ করছ যে, আমরা কৃতজ্ঞ নই। শোন, আমরা যদি কৃতজ্ঞ না হই, তাহলে তুমিও তো এতবড় আল্লাহ হয়ে দয়াবান নও।

তোমার হয়ে যাদেরকে পরাভূত করেছি, আজ তারাই আমাদের দুর্দশা দেখে ঠাট্টা করছে। এমন হলে তোমার তাওহিদ আবারও হুমকির সম্মুখীন হবে। সেটা নিয়েও কি তোমার কোনো ভাবনা নেই? তোমার দয়ার ছায়া এভাবে উঠিয়ে নিলে কেন? আমরা তো তোমার দ্বীনকে নিয়ে জিন্দা থাকতে চাই। আমরা না থাকলে তোমার দ্বীন জিন্দা করবে কে?

অবস্থা এখন আগের মতো নেই। সবই বদলে গেছে। কেন বদলে গেছে? আমরা বদলে গেছি বলেই। স্বীকার করছি, যে গুণের ওপর মুসলমানদের অবিচল থাকার কথা ছিল, সে গুণের ওপর তারা এখন নেই। তুমি দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছিলে; দুনিয়াবাসীকে দান করেছিলে প্রেমের আগুন; শিখেয়েছিলে বিশ্বনবীর ভালোবাসার অনবদ্য পাঠ। কিন্তু‘, আমাদের হৃদয় তো তোমার ও তোমার প্রিয় রসুলের ভালোবাসা থেকে একদম খালি। শরিয়তে এখন আমাদের মন বসে না। শত্রুদের সব বিষয় এখন আমাদের জন্য স্বাদের ও সম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন বাগানে পূর্বের সেই বাহার নেই। এখন বাগানে পুষ্পলতা ও ফুল ফুটে না। কুসুমডালে বুলবুলিদের গান আর শোনা যায় না। ছনবনের ডানা ছেড়ে ঘুঘুর দলও চলে যাচ্ছে। শুষ্ক হয়ে ঝরে যাচ্ছে ফুলের পাপড়িও। তবে কি নিরাশ হয়ে বসে থাকবে সবাই? না। এমন খরামৌসুমেও ডালে বসে একটি দুঃখী বুলবুলি (ইকবাল) গান গেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু‘ সেই গান শোনার তো কেউ নেই, বোঝার মতো কেউ নেই। (৩৩-এর পাতায় দেখুন)

এখন আমি অস্থি’র বেকারার। বুকে আমার শুধু জ্বলন্ত অগ্নিশিখা। এখন না জীবনে শান্তি, না মরণে শান্তি। ইচ্ছে হয়, হৃদয়ের রক্ত পান করি। আশা করি, তাতেই মুক্তি।

তোমার কাছে প্রার্থনা করছি, তুমি পুনরায় আমাদেরকে পূর্বের অবস্থায় নিয়ে যাও। পতঙ্গের প্রাণে আবার আত্ম-বিসর্জনের শক্তি দান কর। পুরনো বিদ্যুতকে হৃদয় জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দাও। হেজাজগামী ডানাহীন পাখিদের তুমি পাখা দিয়ে সাহায্য কর। অস্থি’র বাগানের প্রতিটি ডালে ফুলের যে গন্ধ জড়িয়ে আছে, তাকে একটু নাড়া দাও। নাড়া দিলেই ছড়িয়ে যাবে মুহূর্তেই।

সংক্ষেপে এটাই শেকওয়া। বিশদ শেকওয়া আরও অনেককিছু। সেই অনেককিছুতে যেকেউ ঘোড়া দৌড়াতে পারবে না। পিছলে যেতে পারে ঘোড়ার পা, মটকে যেতে পারে সওয়ারির ঘাড়। সাবধান এ জন্য! তৎকালীন ‘বাঘারা’ও পিছলা খেয়েছিলেন। কিন্তু‘ তাদের সৌভাগ্য, তারা উঠে দাঁড়াতে পেরেছিলেন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গভীরতার কারণে।

॥৫॥

‘শেকওয়া’ ও ‘জওয়াবে শেকওয়া’ একই সাথে একই সময়ে একই প্রেক্ষাপটে রচিত কাব্য নয়। শেকওয়া রচনার এক বছর পর রচিত হয় জওয়াবে শেকওয়া। এ দীর্ঘ সময়ে শেকওয়া বিভিন্ন অঙ্গনে উথাল-পাতাল করে দিয়েছে। দেশ ডিঙিয়ে বিদেশের পলিমাটিও ভিজিয়ে দিয়েছে। ছড়িয়েছে চাপ ও উত্তাপ। কি আলেম, কি নন-আলেম, কি বিদ্বৎসমাজ কি সাধারণ মানুষে, সকলকে কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত করেছে হৃদোৎসারিত এ কথামালা। সঙ্গত কারণেই এ কাব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সবকিছু পৌঁছেছে কবির কাছে। এসব কবিকে কখনও দুলিয়েছে, কখনও ঝুলিয়েছে। এ প্রতিক্রিয়াগুলোই কবিকে পথ দেখিয়েছে, সামনে কী লিখতে হবে। বলা-না-বলা অনেকগুলো প্রশ্ন ঝুলছিল নানা বৃক্ষে, নানান লতায়-গুল্মে। জবাব দিতে হবে কবিকেই। লিখলেন ‘জওয়াবে শেকওয়া’।

জওয়াবে শেকওয়ার মূল সুর গুঞ্জরিত হয়েছে তিনটি জিনিসকে ঘিরে : মুসলমানদের অধঃপতনের কারণ, জেগে ওঠলে পূর্বমর্যাদা ফিরে পাবার আশাবাদ, জেগে ওঠার আহ্বান ও উত্তরণের উপায়-নির্দেশ।

কবি বলছেন,

আমি একজন মুসলমান হিসেবে নালিশ যা ঊর্ধ্বজগতে পৌঁছিয়েছি, তা কিছুতেই বেয়াদবি বা অমূলক নয়। আমি মাটির তৈরী মানুষ হলে কি হবে, আমার জন্ম তো ঊর্ধ্বজগতের চিররমণীয় জান্নাতে। আমার দৃষ্টি ও দৃষ্টিভ্রমণ, হৃদয় ও হৃদয়যাত্রা ঊর্ধ্বজগতের দিকে। সবার কি জানা নেই, আমাকে ফেরেশতারা সেজদা করেছিলেন?

কিন্তু‘ হায় আফসোস! আমরা মুসলমানরা শুধু নালিশ পাঠালে হবে না, শুধু গিরয়াজারি করলে হবে না, আল্লাহর কাছ থেকে দুহাতভরে নেওয়ার যোগ্যতাও আমাদের থাকতে হবে। দুঃখজনকভাবে সেটা আমাদের নেই।

পরম দয়ালু আল্লাহ সর্বদা দিতে প্রস্তুত, কিন্তু হাতপ্রসারী ভিখারি তো নেই। পথ কাকে দেখাবেন তিনি? পথপ্রার্থীর কোনো চিহ্ন তো নেই পথে। যে মাটি দিয়ে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছিল, সে মাটির চিহ্নও তো নেই। ফেরেশতারা সেজদা করবে কাকে? যোগ্য ব্যক্তি পেলে আল্লাহপাক রাজার সম্মান দিতে দেরি করেন না। প্রকৃত আকুতি নিয়ে যারা চান, তাদেরকে তিনি নতুন নতুন জগতের সহজ দিশা দিয়েই থাকেন। কে বলে মুসলমানদের জন্য শুধু হুরের ওয়াদা, আর কিছু নেই? সব কিছু আছে, তবে নেবার তো কেউ নেই। হুরের আগ্রহও তো তারা হারিয়ে ফেলেছে। তুর পাহাড়ে আগের মতোই জ্যোতি আছে, কিন্তু নেবার জন্য তো মুসা দরকার। তাদের মাঝে কোনো মুসা তো নেই।

আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার যে মূল শর্ত ঈমান সেটা কই তোমাদের? অন্তঃসারশূন্য ঈমান নিয়ে কি তোমরা ইবরাহিমি ভূমিকা পালন করতে পারবে আজরের সামনে। বরং ইবরাহিমের আওলাদরা মূর্তি ভাঙা দূরের কথা, প্রত্যেকে আজর সেজে বসে রয়েছে।

এ পৃথিবীতে শুধু মুসলমানরাই অলস, কর্মহীন, কর্মহারা। আজ তারা পূর্বসূরীর কবর বিক্রি করে খাচ্ছে। যারা কবর বিক্রি করে নিজেদেরকে ধন্য মনে করে, তারা মূর্তি পেলে তাও বিক্রি করে খাবে না, সে নিশ্চয়তা কে দিবে? 

মুসলমানদের সবকিছু এক : ঈমান, দ্বীন, কাবা, নবী, কুরআন সবকিছু এক, কিন্তু এক নয় শুধু তাদের হৃদয়টা। সেটা শতধাবিভক্ত। ফালি ফালি করে কাটা হয়েছে যেন। ঘিরে আছে তাদেরকে দল-কোন্দল, ফেরকাবাজি, জাত্যাভিমান, এবং আরও কতকিছু। এসব ধ্বংসাত্মক হৃদয়বৃত্তি নিয়ে কেউ দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে?

কত সহ¯্র গুণের আধার ছিল মুসলিম জাতি! কিন্তু আজ কোথায় তাদের ন্যায় বিচার, পক্ষপাতমুক্ততা, বীরত্ব, আপোষহীনতা? সংখ্যায় যেভাবে মুসলমান বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে পৃথিবীময় হৈ চৈ পড়ে গেছে ঠিক, কিন্তু প্রকৃত মুসলমান, বিশ্বনবীর আদর্শবাহী কয়জন পাওয়া যাবে? তাদের চরিত্রে, তাদের চালচিত্রে ইহুদি-নাসারার বৈশিষ্ট্যই ফুটে ওঠেছে। তাদের দেখে আজ অমুসলিমরাও তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে।

শোন হে মুসলিম! তুমি সৈয়দ হতে পার, মির্জা হতে পার, হতে পার আফগানি ও ইরানি। কিন্তু সত্য করে বল, তুমি প্রকৃত মুসলিম হতে পেরেছ? তোমার ভেতর আল্লাহর ভালোবাসা নেই; নবীপ্রেম নেই। তাহলে তুমি কীসের মুসলমান?

পশ্চিমাপ্রীতি আজ তোমার ভেতর মহামারীর আকার ধারণ করেছে। আধুনিক যুগে বস্তুবাদী অগ্রগতিকে তুমি অনেক বড় কিছু মনে করছ, অথচ এসব সকল জাতির জন্যই ধ্বংসের কারণ। মুসলমান যদি আধুনিকতার পরিবর্তনকে ভালো করে বুঝতে না পারে, তাহলে অন্য জাতির তুলনায় তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এমনতরো আরও অনেক অনেক কথা, হে মুসলিম ভাই! কিন্তু শোন, এভাবে আর কতদিন? তোমার দিকে চেয়ে আছে পুরো পৃথিবী। তুমি জাগলে জাগবে পৃথিবী। তুমি যদি ঈমানে আনতে পার ইবরাহিমি রং, তাহলে পুরো পৃথিবী ইবরাহিমি বাগানে পরিণত হবে।

এই যে করুণ অবস্থার বর্ণনা দিলাম, এটা কিন্তু হীনমন্যতায় হারিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, নতুন নতুন স্বপ্নে জেগে ওঠার জন্য; জাগিয়ে তোলবার জন্য। এ দশা দীর্ঘদিন থাকবে না। আঁধারি কেটে পূর্বদিগন্তে নতুন আলোকরশ্মি দেখা দিবে, দেখা দি”েছও। শহিদের রক্ত বৃথা যায় না। আমরা নানা সময় নানা অনুষঙ্গে বুকের অঢেল তাজা রক্ত ঢেলেছি। একটু ওঠে দাঁড়াও। একটু হাতপা ছড়াও। চিন্তাচেতনাকে একটু চাঙ্গা কর। বারুদবাক্যে ছড়িয়ে দাও তোমার প্রেম ও প্রেরণা, চেতনা ও চারিত্র্য।  বাগান শুকিয়ে যায়, আবার তাজা হয়ে ফল-ফুল ছড়ায়। মুসলমানদের উপমাও সেরকম। এবং আরও কতকিছু ...।

মনে রেখ, এমনি এমনি জাগা যায় না, স্বপ্নে শান দেওয়া যায় না। তার জন্য দরকার অনেক কিছু। সবচেয়ে বড় জিনিস হলো ঈমান এবং নবীর অনুসরণ। পৃথিবীর প্রতি এদুটি জিনিসের দরদি আহ্বান ছড়িয়ে দাও। দেখবে, তারা শান্তির শামিয়ানার দিকে সাগ্রহে অগ্রসর হচ্ছে। তারা বুঝছে না, তোমরা মুসলমানরা বেঁচে থাকলেই এ নশ্বর পৃথিবী টিকে থাকবে। ইসলাম চিরকালীন ও শাশ্বতকালীন।

নবীপ্রেমের শক্তি দিয়ে পৃথিবীর সকল নীচুতাকে আকাশের উঁচুতায় নিয়ে যাও। প্রিয় নবীর নামের আলোয় ঝলমলিয়ে তোল পুরো পৃথিবী। আর শেষ কথাটি শোন, বুদ্ধি ও জ্ঞান তোমার সম্পদ। প্রেম হলো তরবারি। তুমি আল্লাহর বন্ধু। পৃথিবীময় চলবে তোমার রাজত্ব, তোমার প্রতিনিধিত্ব। জগতের সকল শক্তির বিরুদ্ধে তোমার একটি তাকবিরই যথেষ্ট। তুমি যে মুসলমান, সে সুবাদেই তোমার সকল চেষ্টাসাধনাকে তোমার অনুকূলে করে দেওয়া হয়েছে। যদি তুমি প্রিয় নবীর নিটোল আনুগত্য করতে পার, তাহলে লওহে মাহফুজও তোমার। এ পৃথিবী তো অতি তুচ্ছ।

॥৬॥

রহস্য ও রোমাঞ্চÑ সফল কবিতার দুটি অনন্য বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে। এ দুটির মধুরতা ও মাদকতা আমাদের মজা দেয়, শাসনও করে। রহস্য ও রোমাঞ্চের মালঞ্চময় এ দুটি কবিতা বোধে ও উপলব্ধিতে, টেকনিকে ও শৈল্পিক সিদ্ধিতে, চিত্রকল্পে ও নির্মাণে এক অসাধারণ বহুতলীয় কবিতা। 

এ কবিতা মানুষের কণ্ঠে-কণ্ঠে উচ্চারিত। তার মর্ম প্রতিটি হৃদয়ে গুঞ্জরিত ও ঝঙ্কৃত। কবিতা নয়, যেন নতুন শপথের উচ্চারণ; বিশ্বাসী কবিতার বিস্ফোরণ।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ