ঢাকা, বুধবার 23 January 2019, ১০ মাঘ ১৪২৫, ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেতশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): বাঁশের তৈরী উপকরণ বিক্রি করছে কারিগররা।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে: শাহজাদপুরে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেতশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। পুঁজির অভাব, উপকরণেরন্ত দুষ্প্রাপ্যতা ও পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উপজেলার পাথালিয়াপাড়া, নরিনা, গ্রামের ৫০টি পরিবার অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাঁশ ও বেত  শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই বাবা-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। এক সময়ে পাথালিয়াপাড়া ও নরিনা  গ্রামের শতাধিক পরিবার নিপুণ হাতে তৈরি করা উন্নতমানের ধামা, ঢোল, ডালা, চাটাই, খাড়ই, হাঁড়ি, কুলা, পালা, চালন, মোড়া, ঝুড়ি, চেয়ার, বুকসেলফ, কলমদানিসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তখন বাজারে বাঁশ ও বেতের তৈরি এসব পণ্যের চাহিদা থাকায় অনেক মানুষ বাড়িতে গিয়ে অর্ডার দিত। এতে তাদের জীবন-যাপন স্বচ্ছন্দময় ছিল। কিন্তু বর্তমানে চাহিদা না থাকায় এসব পরিবারে অভাব-অনটন নেমে এসেছে। তারপরও বারৈয়ার ঢালা বহরপুর এলাকার হিন্দু পরিবারের বিরাট একটি অংশ পূর্বপুরুষের পেশাকে এখনো আঁকড়ে পড়ে আছেন। বেত শিল্পের সঙ্গে জড়িত পাথালিয়া পাড়া গ্রামের কাদের ও নরিনা গ্রামের সুনীল চন্দ্র দাশ জানান, আগে এলাকায় প্রচুর বেত উৎপাদন হতো। স্বল্পমূল্যে অনায়াসে বেত পাওয়া যেত। এখন বেত নেই বললেই চলে। দূর-দূরান্ত থেকে বেত কিনে আনতে হয়। দামও অনেক। বর্তমানে বেতের তৈরি মাঝারি আকারের একটি ধামার দাম ১৫শ টাকা পড়ে। প্রয়োজন থাকলেও এত বেশি দামে অনেকেই কিনতে চায় না। এ পেশায় জড়িত আরো অনেকে জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলে বাঁশ সহজলভ্য ছিল। ৪০ থেকে ৫০ টাকায় একটি বাঁশ কেনা যেত। এখন একটির দাম দেড়শ থেকে দুইশ টাকা। কিন্তু সে অনুপাতে তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। পাশাপাশি প্লাস্টিকের তৈরি দ্রব্যাদির কারণে এগুলোর চাহিদাও কমে গেছে। পাথালিয়াপাড়ার এলাকার ফাতেমা আক্তার ও জোৎস্না বেগম ক্ষোভ ও হতাশার সঙ্গে জানান, বাঁশ দিয়ে একটি খাঁচা তৈরি করতে ২০ টাকা খরচ পড়ে।
অথচ বাজারের তা ২০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর দাবি- পরিবারভিত্তিক ব্যাংকঋণ প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করলে কুটির শিল্পটাকে একমাত্র অবলম্বন করে টিকে থাকা এখনো সম্ভব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ