ঢাকা, শনিবার 24 August 2019, ৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে বসলো ষষ্ঠ স্প্যান

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে বসানো হল আরও একটি স্প্যান।এর ফলে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেতুর ১০৫০ মিটার অংশ দৃশ্যমান হল।

সেতু বিভাগের প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর জানান, বুধবার সকাল ১০টায় পদ্মাসেতুর ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিয়ারের ওপর ধূসর রঙের স্প্যানটি বসিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়।

এ নিয়ে সেতুর জাজিরা প্রান্তের মোট ছয়টি স্প্যান বসানো হল। এর আগে ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর পিয়ারে পাঁচটি স্প্যান বসানোর মধ্যে দিয়ে জাজিরা পাড়ের সঙ্গে পদ্মা সেতুর সংযোগ ঘটে।

এছাড়া মাওয়ার দিকে সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিয়ারের ওপর আরেকটি স্প্যান বসিয়ে রাখা হয়েছে গতবছর।

ওই স্প্যানটি তৈরি করা হয়েছে ৬ ও ৭ নম্বর পিয়ারে বসানোর জন্য। কিন্তু নকশা জটিলতায় ওই দুটি পিয়ার তৈরি না হওয়ায় এবং ওয়ার্কশপে জায়গা না থাকায় অস্থায়ীভাবে সেটি ৪ ও ৫ নম্বর পিয়ারে তুলে রাখা হয়।

এখন নকশা জটিলতা কেটে যাওয়ায় ৬ ও ৭ নম্বর পিয়ার তৈরি হলে স্প্যানটি সেখানে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রতিটি ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের মোট ৪১টি স্প্যান ৪২টি পিয়ারের ওপর বসিয়েই তৈরি হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু। দ্বিতল এই সেতুতে থাকবে রেল চলাচলের ব্যবস্থাও।

ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর প্রায় ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছরের মধ্যেই সব স্প্যান বসিয়ে ফেলা যাবে বলে আশা করছেন তারা।

প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর জানান, জাজিরা প্রান্তের ষষ্ঠ স্প্যানটি আরও আগেই বসানোর কথা ছিল। কিন্তু কুমারভোগের ওয়ার্কশপ থেকে প্রায় তিন হাজার টন ওজনের স্প্যানটি নিয়ে বিশাল আকারের ভাসমান ক্রেইনের জাজিরা যাওয়ার মত পানি নদীতে ছিল না।

মাঝের চর নামের বিশাল একটি চর কেটে সেতুর জন্য যে চ্যানেল করা হয়েছিল, তার প্রায় পুরোটায় গত বর্ষা মৌসুমে পলি জমে গভীরতা কমে যায়। সে কারণে চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির তিনটি ড্রেজার এবং স্থানীয় আরও চারটি ড্রেজার দিয়ে গত কিছুদিন পলি সরানো হয়।

চ্যানেলে প্রয়োজনীয় গভীরতা ফেরার পর ভাসমান ক্রেইন তিয়ানি হাউ মুন্সীগঞ্জের কুমারভোগের ওয়ার্কশপ থেকে স্প্যানটি নিয়ে মঙ্গলবার জাজিরা পৌঁছায়। বুধবার ওই ক্রেইন দিয়েই স্প্যানটি বসানো হয় পিয়ারের ওপর।  

সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর নীচে মাটির নানা বৈচিত্রতার কারণে বেশ কিছু খুঁটির নাকশায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে। সঠিক ও যোগ্য পরিমাপের মাটির স্তর না পাওয়ায় এ পরিবর্তন আনতে হয়। এতে কোথায়ও কোথায়ও খুঁটির গভীরতা কমাতে বাড়াতে হয়েছে। তা করতে গিয়ে নকশার পরিবর্তন ঘটাতে হয়। এতে করে চূড়ান্ত নকশার অনুমোদন পেতে কিছুটা সময় লাগে।

জানা গেছে, সবার আগে শুরু হওয়া সেতুটির মাওয়া প্রান্তে ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটির নকশা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও সফল সমাপ্তি হয়েছে। এখন মাওয়া প্রান্তে পুরোদমে কাজ শুরু হচ্ছে। মাওয়া প্রান্তেই রয়েছে মূল পদ্মা নদী। বর্ষায় খরশ্রোতা মাওয়া প্রান্তে কাজ করতে আনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। এখন শুস্ক মৌসুম তাই এ প্রান্তে কাজ করার এটাই উপযোগী সময়। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে এ প্রান্তের সকল খুটির পাইলিং শেষ করে পিলার নির্মাণের উপর জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। সেতুর ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর ৫টি প্যান বসানো হয়েছে।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ