ঢাকা, বৃহস্পতিবার 24 January 2019, ১১ মাঘ ১৪২৫, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারটি পর্যটকমুখর হয়ে উঠেছে

খুলনা অফিস : শীত মওসুমেই পর্যটকমুখর হয়ে উঠছে সুুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক আসতে শুরু করেছেন এখানে। বিশ্বের এতিহ্য সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে মেতে উঠছেন সবাই। তবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশুদের আনন্দ একটু অন্যরকম বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন পর্যটকরা। এ পর্যটক কেন্দ্রে সুন্দরবনের মায়াবী চিত্রল হরিণ কাছ থেকে দেখার দৃশ্য মানুষের আকর্ষণীয় করে তুলছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, স্বল্প খরচে লোকালয় থেকে খুব কাছে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ভ্রমণ করেই পর্যটকেরা উপভোগ করছেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের শ্বাসমূলে ভরা গেওয়া, গরান, বাইন, পশুর, গোলপাতা, হোগলাপাতা, বানর, মায়াবী হরিণ, মদনটাক পাখিসহ হাজারো প্রাণিবৈচিত্র্য। বুড়িগোয়ালিনি স্টেশন থেকে অনুমতি নিয়ে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার কিংবা নৌকায় কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারে নামতেই পর্যটকদের স্বাগত জানায় একঝাঁক বানর। কারো হাতে খাবার দেখলে মাঝে মাঝে ছিনিয়েও নিয়ে যায়। একই সাথে শত শত বানরের বাচ্চার খেলা দেখে মুগ্ধ হন পর্যটকেরা। ওয়াচ টাওয়ারে উঠে যত দূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। কেউ বানরের খেলা দেখে মুগ্ধ, কেউ বা ছবি কিংবা সেলফি তুলেই হারিয়ে যেতে চান প্রকৃতির মধ্যে। আবার সুন্দরবনে হাটার জন্য ফুট্যুইল রাস্তা হেটে মানুষ অনেক দুর আনন্দ উপভোগ করে তা চোখে পড়ার মতো।
ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলাতে মো. আব্দুল বাতেন এসেছে এখানে বেড়াতে তিনি জানান, সুন্দরবন ভ্রমণের স্বপ্ন দীর্ঘ দিনের। প্রকৃতির সৌন্দর্যে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। সুন্দরবনের সৌন্দর্য্যরে গুণ বলে শেষ করা যাবে না। সব সময় বইয়ে পড়েছি। আজ দেখার সুযোগ হলো। এখানে এসে মনে হচ্ছে এতো সুন্দর জায়গা আগে দেখা হইনি কেন। বার বার আসার যদি সুযোগ হয় তাহলে আসতে পারাটাই তার অনেক পাওয়া।
রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত পর্যটক মজিবার রহমান পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসেছেন। তিনি বলেন, এই নিয়ে ছয়বার সুন্দরবনে এসেছি। বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করে। তাই ছুটি পেলেই চলে আসি বাংলাদেশের সাহসের প্রতীক রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশে। এখানে বন কর্মীদের আন্তরিক ও সহযোগিতায় তাকে মুগ্ধ করে বলে প্রত্যায় ব্যক্ত করেন।
সাতক্ষীরা সদরের বিল্লাল হোসেন বলেন, এই অঞ্চলে মানুষের চিত্র বিনোদনের কোন ব্যবস্থা নেই। যে কারণে মানুষ একটু সময় পেলে মনমুগ্ধকর কলাগাছিয়া আসতে বাধ্য হই। তার মতে বন বিভাগ আরও একটু নজর দিয়ে সৌন্দয্যবর্ধক কাজ করলে সাধারণ পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণ হতো। আর বন বিভাগ বেশি করে রাজস্ব আদায় করতে পারতো এ খাত থেকে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নীলডুমুর ট্রলার চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম বলেন, বাংলাদেশের যে কয়টি জেলার সীমানার মধ্যে সুন্দরবন রয়েছে তার মধ্যে একমাত্র সাতক্ষীরা জেলা দিয়েই সড়কপথে বাস থেকে নেমেই সুন্দরবন দেখা যায়। দেশের যেকোনো এলাকা থেকে বাসে শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে নামলেই সামনে পড়বে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। একটু ভেতরে যেতে চাইলে লোকালয় থেকে একেবারেই কাছাকাছি কলাগাছিয়া। খুব অল্প খরচে ট্রলারে যাওয়া যায় কলাগাছিয়ায়। শীতের শুরু থেকেই পর্যটকেরা এখানে আসতে শুরু করেছেন। পর্যটকদের সেবা দিতে তারা সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন বলে তিনি জানায়।
বুড়িগোয়ালিনি স্টেশন কর্মকর্তা কেএম কবির উদ্দিন বলেন, সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে পর্যটকদের সেবা দিতে বন বিভাগ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। কলাগাছিয়ায় রেষ্ট হাউজের পরিবেশ সুন্দর করার পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের আন্তরকিতার কারণে বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর অনেক বেশি পর্যটকরের আনাগনা বুদ্ধি পাচ্ছে গলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে। এ ছাড়া পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে এ বছর কলাগাছিয়ায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জিএম রফিক আহমেদ বলেন, পর্যটন মওসুম শুরু হয়েছে। সে কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা সুন্দরবনে আসতে শুরু করেছেন। প্রতিদিন শত শত পর্যটক সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ট্যুরিজম সেন্টারে আসছেন। এ জন্য সুন্দরবন ভ্রমণে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল-আল-মামুন বলেন, সাতক্ষীরা রেঞ্জের কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে পর্যটকদের বেশি বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কোন পর্যটক যাতে কোন বিড়ম্বনা না পড়ে তার জন্য বন কর্মীরা আন্তরকিতার মধ্যে দিয়ে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটকদের সেবায় বন বিভাগের কর্র্মীরা সব সময় নিয়োজিত রয়েছেন বলে তিনি জানায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ