ঢাকা, শুক্রবার 25 January 2019, ১২ মাঘ ১৪২৫, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ফরেন পলিসির তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে 'দৃঢ়চেতা ব্যক্তি' অ্যাঙ্গেলা মের্কেল প্রতিরক্ষায় শ্রেষ্ঠত্ব ইরানি কমান্ডারের 

 জানুয়ারি ২৪, ইন্টারনেট : বিগত এক দশকে চিন্তার জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি। ওই ব্যক্তিদের ১০টি বিষয়-শ্রেণীতে (ক্যাটাগরি) অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১০০ জনের নাম প্রকাশ করেছে তারা। এতে দৃঢ়চেতা ব্যক্তি নামের ক্যাটাগরিতে চতুর্থবারের মতো শীর্ষস্থান পেয়েছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রয়েছেন তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছেন একজন ইরানি কমান্ডার, সম্প্রতি ট্রাম্পকে হুমকি দিয়ে যিনি আলোচনায় এসেছেন। 

বুধবার (২৩ জানুয়ারি) সাময়িকীটি তাদের দশম বার্ষিকীর বিশেষ সংস্করণে এসব চিন্তাবিদের নাম ও কাজের বর্ণনা প্রকাশ করে। গত ১০ বছরে বিশ্বের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০টি পৃথক বিষয়শ্রেণী করেছে। চিন্তার পৃথক পৃথক এলাকায় রয়েছে দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব, অনুর্ধ্ব চল্লিশের চিন্তাবিদ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চিন্তাবিদ, জ্বালানি ও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট চিন্তাবিদ, প্রযুক্তি চিন্তাবিদ, অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতের চিন্তাবিদ, বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিষয়ক চিন্তাবিদ নামের ৮টি বিষয়শ্রেণী। এছাড়া পাঠকের পছন্দের ভিত্তিতে একটি তালিকা করা হয়েছে। সঙ্গে বিগত ১০ বছরে পৃথিবী ছেড়ে ব্যক্তিত্বদের নিয়ে করা হয়েছে আরেকটি তালিকা।

তালিকায় দৃঢ়চেতা ব্যক্তি নামের বিষয়শ্রেণীর শীর্ষে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল। ফরেন পলিসি বলছে, গত এক দশক গণতন্ত্রের জন্য কঠিন সময় ছিলো। পশ্চিমা দেশগুলো বিভাজনে বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারী নেতার অর্জন ও একত্রীকরণ বেড়েছে। বিভাজনের ক্ষেত্রে জাতীয়বাদকে সামনে আনা হয় এবং সবার মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। ফলে কাঠামোবদ্ধভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতান্ত্রিক রীতি। বর্তশানের ভøাদিমির পুতিনের রাশিয়া, রদ্রিগো দুয়ের্তের ফিলিপাইন, শি জিনপিংয়ের চীন, এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রেও এমন চিত্র স্পষ্ট। তারা সবাই পরস্পরের সাফল্য ও ব্যর্থতা খুঁজে বেড়াচ্ছে। স্ট্রংম্যান ক্যাটাগরির শীর্ষস্থানে থাকা ম্যার্কেলকে নিয়ে বলা হয়, বিগত ১৩ বছরে তিনি চতুর বাস্তবতার নিরীখে ইউরোপীয় প্রকল্পগুলোকে ধরে রেখেছে। এই সময় অন্যান্য রাজনীতিবিদরা হয়তো দুর্বল হয় পড়তে পারতেন, কিন্তু তিনি ইউরোপের সব সংকটেই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন এবং শরণার্থীদের পাশে ছিলেন।

অনুর্ধ্ব চল্লিশের তালিকার শীর্ষস্থানে স্থান হয়েছে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদের্নের। ফরেন পলিসি লিখেছে, ৩৮ বছর বয়সী জাসিন্দা ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিপরীত উদাহরণ। সমঅধিকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ২০১৭ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি নেন তিনি। অল্পসময়েই নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামজিক সেবার সংষ্কার করেন। ২০২৫ সালের মধ্যে নৃগোষ্ঠীর ভাষা মাওরীকে স্কুলে পাঠদান শুরুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগে তালিকার শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিয়েছেন ইরানের কুদস বাহিনীর কমান্ডার কাসেম সুলেমানি। তার নেতৃত্বে এক দশক ধরে বাহিনীটি গোপন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এখন ইয়েমেন থেকে শুরু করে ইরাক-সিরিয়া পর্যন্ত সবকিছুই তার নখদর্পনে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরান বিরোধী বক্তব্যের জবাব দিয়ে দেশেও এখন দারুণ জনপ্রিয়। ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনার ভাবতেও পারবেন না আমরা আপনাদের কত কাছে। আমরা প্রস্তুত।

জ্বালানি ও জলবায়ু বিষয়ক ক্যাটাগরির শীর্ষে রয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জেরি ব্রাউন। পরিবেশ নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি একটি বিলে স্বাক্ষর করে যার মাধ্যমে ২০৪৫ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ শতভাগ কার্বনমুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়। পৃথক আরেক নির্বাহী আদেশে তিনি একই বছর ক্যালিফোর্নিয়াকে কার্বন নিউট্রাল করে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

তালিকায় তার পরে রয়েছেন তেলুরিয়ানের চেয়ারম্যান ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা শারিফ সুকি। লেখক অমিতাভ ঘোষ, টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির ক্লাইমেট সাইন্স সেন্টারের পরিচালক ক্যাথরিন হায়হো, পরিবেশস প্রতিরক্ষা তহবিলের প্রেসিডেন্ট ফ্রেড ক্রুপ, আয়নিক ম্যাটেরিয়ালসের প্রতিষ্ঠাতা মাইক জিমারম্যান, ফিজি প্রধানমন্ত্রী ফ্র্যাংক বেইনিমারামা, আলাস্কার সিনেটর লিসা মুরোকোস্কি, জিই রিনিউয়েবল এনার্জির অনশোর উিইন্ডের প্রধান নির্বাহী পিট ম্যাককেবে এবং মেমফিস মিটসের সহ প্রতিষ্ঠাতা উমা ভ্যালেতি ও নিকোলাস জেনোভেসেকো।

প্রযুক্তি নামের বিষয়শ্রেণীর শীর্ষে রয়েছেন ‘সেপিয়েন্স: এ ব্রিফ হিস্টোরি অব ম্যানকাইন্ড’র লেখক যুবাল নোয়া হারারি। তার দাবি, মনুষ্য প্রজাতির এত সফলতার কারণ হচ্ছে সামষ্টিক কল্পনায় বিশ্বাস করা। অর্থনীতি ও বাণিজ্যের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হয়েছেন জিনা মিলার। খুব অল্পসংখ্যক মানুষই সরকারের বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে জয় পেয়েছে। জিনা মিলার তাদেরই একজন। ২০১৬ সালে তিনি ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেন। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া চলেও তিনি থেমে নেই। তিনি ব্রেক্সিটের বিরোধিতায় তার অভিযান চালিয়েই যাচ্ছেন। একইসঙ্গে নিপীড়ন, বর্ণবাদ নিয়েও কাজ করছেন তিনি। ফরেন পলিসির অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের চিন্তাবিদদের মধ্যে তিনিই শীর্ষে। বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য চিন্তায় শীর্ষে রয়েছেন প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের প্রেসিডেন্ট লিনা ওয়েন। ২০১৮ সালে মার্কিন এই সংস্থার দায়িত্ব নেন তিনি। মানবাধিকার ও শিল্প ক্যাটাগরির শীর্ষে রয়েছেন উগান্ডা শিল্পী ও রাজনীতিবিদ ববি ওয়াইন। বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্য। তার নেতৃত্বে দেশটির অনেক তরুণ দারিদ্র বিমোচনের আন্দোলনে নেমে এসেছে।

পাঠকের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিশ্বের একমাত্র রুপান্তরকামী মন্ত্রী অন্ড্রে তাংক। তাইওয়ানের তারকা উদ্যোক্তা ও প্রোগ্রামার এখন দেশটির ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী। এই দশ বছরে যেই বিশিষ্ট মানুষরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন তাদের নিয়ে আলাদা তালিকা করেছে ফরেন পলিসি। তাদের মধ্যে চিন্তাবিদ হিসেবে শীর্ষে রয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখিকা মারসেলিন লোরিদান। নিজের বই ও চলচ্চিত্রে জার্মান হলোকাস্ট নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ