ঢাকা, শুক্রবার 25 January 2019, ১২ মাঘ ১৪২৫, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনার বিএনপি নেতারা উপজেলা নির্বাচনে যাচ্ছে না 

 

খুলনা অফিস : বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে পূর্ণ আনুগত্যে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। খুলনার নয়টি উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে এ সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন না তারা। তাহলে শক্ত প্রতিপক্ষ ছাড়াই একপেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সূত্র মতে, উপজেলা নির্বাচন হবে পাঁচটি ধাপে। আর মাত্র নয়দিন পর, তফসিল আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হতে পারে। প্রথম ধাপে উপজেলা নির্বাচন ৮ অথবা ৯ মার্চ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে আগাম প্রচার-প্রচারণা ও লবিং-গ্রুপিং শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ঠিক তার উল্টো চিত্র বিএনপি শিবিরে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আপাতত নির্বাচন নিয়ে ভাবছে না বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল না গেলেও ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করবেন কি না? এমন প্রশ্ন করলে রূপসা উপজেলার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, আবু হোসেন বাবু ও মোল্লা খায়রুল ইসলাম, তেরখাদার এসএম মেজবাউল আলম ও এফ এম হাবিবুর রহমান, দিঘলিয়ার এম সাইফুর রহমান মিন্টু ও শরীফ মোয়াজ্জেম হোসেন, দাকোপের আবুল খায়ের খান, পাইকগাছার ডা. আব্দুল মজিদ, কয়রার এডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম ও নুরুল আমীন বাবুল সকলেই এক বাক্যে উত্তর দিলেন ‘না’। তারা বললেন, ‘এ সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচন নয়।’ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন তারা।

ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ বলেন, ‘গত নির্বাচনে ভোট লুটপাট চিত্র শুধু দেশবাসী নয়, বিশ্ববাসী দেখেছে। এ অবস্থায় দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ সরকারের অধীনে আর নির্বাচনে যাবে না। তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সাথে সম্পূর্ণ একমত।’

ফুলতলা উপজেলা পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর ভাই সরদার সেলিম হোসেন বলেন, ‘বাবা ও ভাইকে হারিয়েছি রাজনীতির কারণেই। তারা দু’জন সারাজীবন ফুলতলাবাসীর খেতমত করেছেন। দল যদি নির্বাচনে যায় আমি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চাইবো। তবে দল যদি নির্বাচনে না যায়, আমিও দলের সিদ্ধান্ত নেমে নেবো।’

খুলনা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান বলেন, ‘কিছুদিন আগে দেশবাসী দেখেছে এ সরকারের অধীনে নির্বাচন কেমন হয়! মানুষের ভোটের অধিকার হরণকারীদের নিয়ন্ত্রিত ও ফলাফল পূর্ব নির্ধারিত নির্বাচনে যাবে না বিএনপি।’

খুলনা জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বললেন, ‘ন্যক্কারজনক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উলঙ্গ লুটপাটের পর সেই সরকারের অধীনে দেশে আর কোনদিন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। তাই এ সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবার কোন সম্ভাবনাই নেই বলে দাবি করে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, যদিও কেউ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন; সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়, সাংগঠনিক নয়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ