ঢাকা, শুক্রবার 25 January 2019, ১২ মাঘ ১৪২৫, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাগমারায় কৃষকরা বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন

বাগমারা (রাজশাহী) থেকে আফাজ্জল হোসেন: রাজশাহীর বাগমারা ও তার পার্শ¦বর্তী এলাকায় শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরীর অধিক হারে বেড়েছে। ধানের ন্যায্য মূল্য কৃষকদের হাতে না পাওয়ায় লোকশানের বোঝা মাথায় নিয়ে আবারো বোরো ধান চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক হাত বদলিয়ে ধানের বাজার অস্থির মনে হলেও এর ন্যায্য দাম থেকে কৃষক বঞ্চিত। চাষিদের দাবি ১৫ বছর আগে ৯শ টাকা মন ছিল দান। শ্রমিকের মুজরী ৮০ টাকা, চাকরির বেতন এক জনৈক পেত ৮ হাজার টাকা। এখন শ্রমিক নেয় ৪ শ টাকা, চাকরিতে মিলছে তার ২৫ হাজার টাকা উৎপাদনের উপকরণের দাম বাড়লেও ধানের দাম আজও ৯ শ টাকা মন রয়ে গেছে। গ্রামের কৃষকদের অবলম্বন এক মাত্র কৃষির প্রধান ফসল ধান। অন্য কোন উপায় না থাকায় লোকশান নিয়ে আদি পেশা কৃষি উৎপাদনে মওসুমের বোরো ধান চাষ করতে বাধ্য হচ্ছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগমারাসহ পার্শ¦বর্তি বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। যুগ যুগ ধরে ফসলি জমিতে আলু, পাট, ধান, আম ও শাক সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ফলায়ে জীবন ধারন করে। কয়েক দফায় হাত পাল্টিয়ে শহর-বন্দরে ধান-চালের মূল্য দেখা গেলেও প্রকৃত কৃষককের ন্যায্য দাম হাতে পায় না। এতে কৃষককের উৎপাদিত ফসলের মূল্য হ্রাসে উৎপাদন খরচ জুটছে না। ফলে কৃষকরা উৎপাদনে মুলধন হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের ভাষ্যমতে, অসময়ে ধানের দাম বাড়লেও মওসুমে চড়া সুদের টাকা পরিশোধ করতে গোলার ধান শূন্য হয়ে পড়ে।। মহাজনেরর ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারিনি এ অবস্থায় ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। একই গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, এবারে আমন ধানের ভালো ফলন, কিন্তু কম মূল্যের কারণে বিঘাই ৮/১০ হাজার টাকা তাকে লোকশান গুণতে হয়েছে। বীজ, পাওয়ারটিলারের ডিজেল খরচ, শ্রমিক খরচ দিয়ে ১ বিঘা জমিতে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যে ধান ৯ শ টাকা থেকে এক ১ হাজার টাকায় বিক্রি হবার কথা তা না হয়ে মাত্র ৭শত টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। একই ভাবে  দেউলিয়া গ্রামের কৃষক মুকবুল হোসেন জানান, গত বছর বোরো ধানের ভালো ফলন ও দাম পেয়ে বেশী লাভের আসায় এবারে বেশী রোপা আমন ধান চাষে করে ব্যাপক ক্ষতিতে বসেছেন। ৩ বিঘা ধান চাষে ২৫ হাজার টাকা তার লোকশান। এবারে ধানের চাষে গত বারের তুলনায় বেশী খরচ হবে জেনে তিনি শুধুমাত্র খাবার পরিমাণ ধান চাষ করবেন বলে জানান তিনি। বালানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন জানান, বাপ দাদার পূর্ব পুরুষ ধরে কৃষি কাজে জড়িত, বর্তমানে কৃষি কাজে নিঃস্ব হয়ে গেলাম। কিন্তু কি উপায় বিকল্প কোন পথ নেই, তাই লোকশানের বোঝা মাথায় নিয়েও বোরো ধান চাষে নেমেছি। একই ভাবে গ্রামের কৃষক এরশাদ আলী জানান, আলু, পিঁয়াজ, ধানসহ বিভিন্ন ফসল আজ থেকে ১৫ বছর আগে যে দামে বিক্রি হয়েছে তা এখনও বিদ্যমান। অথচ ওই সময় একজন শ্রমিক ৭০ থেকে ৮০ টাকায় মিলেছে অথচ এখন শ্রমিকের মজুরীর বেড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকাও কাজ করতে চায় না। এতে কৃষির উপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখের পরিমাণ বেড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, বর্তমানে ইরি-বোরো ভরা মওসুমে এই উপজেলায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। তার মতে কৃষি শ্রমিক না পাওয়ায় চাষাবাদও কিছুটা কমেছে। কারণ শ্রমিকের মজুরী বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা।

কৃষি কর্মকর্তার মতে, কৃষিতে পুরোমাত্রায় যদি প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয় তবে এই সংকট অনেকাংশে কমে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ