ঢাকা, শুক্রবার 25 January 2019, ১২ মাঘ ১৪২৫, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুমেক হাসপাতালের বারান্দা লিফটের সামনে সর্বত্রই রোগী আর রোগী

খুলনা : খুমেক হাসপাতালের বারান্দা লিফটের সামনে চিকিৎসকদের চেম্বার থেকে বাথরুমের দরজা পর্যন্ত রোগী শুয়ে আছে.....

খুলনা অফিস : জনবল সংকট এখনও নিরসন হয়নি পাঁচশ’ শয্যা বিশিষ্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে চিকিৎসা পাওয়ার আশায় হাসপাতালের বারান্দা, চিকিৎসকের চেম্বার, লিফট এর সামনে থেকে শুরু করে বাথরুমের দরজা পর্যন্ত সর্বত্র রোগী। বুধবার হিসাব অনুযায়ী নতুন ভর্তিসহ শুধুমাত্র আন্তঃবিভাগেই ১২শ’ এর অধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করা চিকিৎসক কর্মচারীরা বলেছেন, তাদের জীবনে এতো রোগী কখনই দেখেন না তারা। আর রেকর্ড সংখ্যক এ রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। 

খুমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের সার্জারি ৯-১০ ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা ৪৬টি তবে বুধবার পর্যন্ত এ ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী দেড়শ’ ছাড়িয়েছে। সার্জারি ১১-১২ ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা ৪৫টি এই ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দেড়শ’ এর বেশি। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা মেডিসিন ওয়ার্ডে মেডিসিন এর ৫-৬ ও ৭-৮ ৯০টি বেড়ের বিপরীতে বুধবার রেকর্ড সংখ্যক রোগী ভর্তি ছিল। এখানে প্রায় ৪ শতাধিক রোগীদের সেবা দিয়েছে চিকিৎসকরা। মেডিসিন ৫ ওয়ার্ডে মাত্র ২২টি বেডের বিপরীতে প্রায় একশ’ রোগী ভর্তি হয়েছে বুধবার দিবাগত রাত নাগাদ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডা. শাহীন। রোগী ভর্তির একদিন পর থেকে হাসপাতালের ফ্রি খাবার খায়। সে হিসাবে গত সোমবার খাবার খেয়েছে ৯শ’ ২৮ জন রোগী মঙ্গলবার খাবার খেয়েছে ৯৫৬ জন রোগী। এদিকে বুধবার খাবার খেয়েছে ৯৬০ জনের বেশি। সাধারণত খাবার পাওয়া রোগীর সাথে নতুন ভর্তি রোগী যোগ করলে বুধবারের খুমেক হাসপাতালে আন্তঃবিভাগে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১২শ’ ছাড়িয়েছে। যা এ যাবত কালের সব থেকে বেশি বলে মনে করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম তুষার আলম, ছাত্র অবস্থায় তিনি কলেজেরই ছাত্র ছিলেন। বলেন এই হাসপাতালের সাথে ১৬-১৭ বছরের সম্পর্ক তার, তবে একসাথে এত রোগী দেখেছি বলে মনে হয় না। ব্লাড ব্যাংকের বাড়ান্দায়ও রোগী চলে এসেছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম মোর্শেদ বলেন, ব্যাপক চাপ রোগীদের। হাসপাতালে ৫শ’ বেডের জনবল না থাকলেও ৫শ’টি বেড রয়েছে।

 কিন্তু ভর্তি সকল রোগীই খাবার পাচ্ছে। প্রতিদিনই আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হাসপাতালের পরিবেশ ঠিক রাখা চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে এত সংখ্যক রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ