ঢাকা, সোমবার 28 January 2019, ১৫ মাঘ ১৪২৫, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইসরাইলী দখলদারিত্ব প্রতিহত করতে গিয়ে ফিলিস্তিনী নিহত 

২৭ জানুয়ারি, আল জাজিরা : দখলকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলী দখলদার ও সেনা সদস্যদের প্রতিহত করার সময় গুলীবিদ্ধ হয়ে এক ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে। রামাল্লাহর উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় আল মুঘেইর গ্রামে এই ঘটনার সময়ে আরও অনেক ফিলিস্তিনী আহত হয়েছে। গত শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামদি নাসান নামে ৩৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি পিঠে গুলীবিদ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে আনা হলে তিনি নিহত হন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে।

পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর এবং গাজায় ফিলিস্তিনীদের কাছ থেকে দখল করা এলাকায় ছয় থেকে সাড়ে সাত লাখ ইসরাইলী বাস করে। ফিলিস্তিনী ভূমিতে তৈরি এসব ইহুদি বসতিতে দখলদাররা বসবাস করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম দখলকৃত এলাকা বিবেচনা করে আর এসব ভূমির সব ইহুদি বসতিকে অবৈধ বিবেচনা করা হয়। ফিলিস্তিনী শহর এবং গ্রামের ভিতরে ও বাইরে বসবাসকারী এসব দখলদারদের সঙ্গে প্রায় নিয়মিতভাবেই ফিলিস্তিনীদের বিরোধ বাঁধে। তা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনী নেতৃত্বের বিরোধীতা সত্ত্বেও দখলকৃত এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলী সেনা সুরক্ষায় ইহুদি দখলদাররা আল মুঘেইর গ্রামে অভিযান চালালে তাদের প্রতিরোধ শুরু করে ফিলিস্তিনীরা। আল মুঘেইর গ্রাম পরিষদের প্রধান আমিন আবু আলিয়া জানিয়েছেন, ইসরাইলী সেনা সদস্যরা ঢুকে পড়ার আগে ইসরাইলী দখলদাররা গুলীবর্ষণ শুরু করে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, শুরুতে দখলদাররা গুলীবর্ষণ করে পরে সেনা সদস্যরা আর টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। ইসরাইলী সেনা কর্মকর্তারা দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজকে নিশ্চিত করেছেন, ঘটনার সময়ে দখলদাররা গুলী ব্যবহার করেছে।

ফিলিস্তিনী রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ওই ঘটনার সময়ে কমপক্ষে আরও ৩০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ছয় ফিলিস্তিনী গুলীবিদ্ধ হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আহত অবস্থায় গ্রামে থাকা অনেককে সরিয়ে নেয়ার কাজ করছে তারা।

ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে ইসরাইলী দখলদারদের আক্রমণের নিন্দা জানানো হয়েছে। ওয়াফা বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই (হামলা) আবারও নিশ্চিত করে যে ইসরাইলী সরকার উত্তেজনাবৃদ্ধির নীতি অব্যাহত রেখেছে’। এর ফল মারাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়ে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে এটি আরও উত্তেজনা এবং মারাত্মক অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশের দিকে পরিস্থিতি ঠেলে দিতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ