ঢাকা, সোমবার 28 January 2019, ১৫ মাঘ ১৪২৫, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দৌলতপুর বাজার খেয়াঘাটটি ঝুঁকিপূর্ণ

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর বাজার খেয়াঘাটটির অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিনই নৌকায় যাত্রী ওঠানামা করতে গিয়ে পা স্লিপ করে পড়ে গিয়ে ৫/৭ জন আহত হচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধা, নারী ও শিশু এবং রোগীদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ঘাটের ঠিকাদার মিজান। তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে ঘাটের অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সিঁড়ির খাতগুলো সমান্তরাল হয়ে গেছে। জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের একাধিকবার ডেকে এনে এ ভয়াবহ অবস্থার কথা জানালেও সমস্যার সমাধান হয়নি। শুধু আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ জন্য এ ঘাট দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। আগে প্রতিদিন ৬০/৭০টি মোটরসাইকেল পারাপার হতো। কিন্তু এখন সেখানে ৩/৪টি মোটরসাইকেল পারাপার হয়। নারী-শিশু, বয়স্ক আর রোগীরা অন্য ঘাট দিয়ে পারাপার হয়। একইভাবে মোটরসাইকেলও অন্য ঘাট দিয়ে পারাপার হয়। এতে করে প্রতিদিন ২শ’র মত যাত্রী কমে গেছে। মাসে দুই হাজার টাকা লোকসান।
লোকসানের বোঝা বইতে গিয়ে ঘাটের ইজারা টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ছে বলে ঠিকাদার সুজন জানান। সোমা বেগম নামের একজন মহিলা যাত্রী বলেন, তিনি থাকেন মহেশ্বরপাশায়। তার মায়ের বাড়ি দিঘলিয়ায়। তিনি অসুস্থ। নিয়মিত চিকিৎসার জন্য নদীর এপার আসতে হয়। তার মা নাজমীম আক্তারের আনা-নেওয়ার দায়িত্ব অনেকটা তাকেই বহন করতে হয়। তিনি বলেন, ঘাটের সিঁড়ির খাতগুলো একেবারে সমান হয়ে গেছে। নৌকায় উঠতে বা নামতে খুবই কষ্ট ভোগ করতে হয়। অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এ ঘাট দিয়ে পারাপার হতে হয়। যাত্রীর স্বার্থে এ ঘাট মেরামতের দাবি করেন তিনি। একই কথা বললেন ওই খেয়াঘাটের মাঝিদের নেতা আব্দুল হান্নান। ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘাটটি জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রণ করে। তারপরও বাজারের অনেক ব্যবসায়ী এ ঘাট দিয়ে নদী পার হয়। ঘাটের যা করুণ অবস্থা তাতে যাত্রী পারাপার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে কথা বলবেন বলে জানান। ভুক্তভোগী যাত্রী রেজাউল করিম রেজা জানান, এ ঘাট দিয়ে নৌকায় ওঠার সময় তিনি পা স্লিপ করে পড়ে যান। এতে তার বাম পা ভেঙে যায়। শুধু তিনি একা নন, এভাবে ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে নৌকায় ওঠানামা করতে গিয়ে পা স্লিপ করে পড়ে আরও অনেকের হাত অথবা পা ভেঙেছে। যার সংখ্যা হবে কমপক্ষে ১৫ জনের মধ্যে।
জেলা পরিষদ থেকে কর্মকর্তারা একাধিকবার আসলেও যাত্রীর দুর্ভোগ লাঘব হয়নি। এ ঘাটের ব্যাপারে আর আশ্বাস নয় তিনি সমাধান চান। ঐতিহ্যবাহি দৌলতপুর বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের বড় অংশ নদীর ওপারে বসবাস করে। তারা নিয়মিত এ ঘাট দিয়ে নদী পার হয়। এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ত্রিশ হাজার যাত্রী পারাপার হয়। বিশেষ করে বিএল ও দিবানৈশ কলেজের শিক্ষার্থীরা এ যাত্রীদের তালিকায় রয়েছে। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান খান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তারা ঘাট পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ