ঢাকা, সোমবার 28 January 2019, ১৫ মাঘ ১৪২৫, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের ফুটপাত দখলদারদের কাছে ॥ কর্তৃপক্ষ অসহায়

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে যখন চলছে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান তখন নগরীর শিল্পাঞ্চল খালিশপুর বিআইডিসি রোডে চলছে ফুটপাত দখলের প্রতিযোগিতা। ফুটপাত দখলবাজদের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন।এমনকি মূল রাস্তা দখল করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার কারণেই সম্প্রতি কেসিসি থেকে বসানো সোলার লাইটগুলিও মূল রাস্তার মাঝে বসাতে হয়। অর্থাৎ আগে মূল রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক পোলগুলি বসানোর পর এখন তা’ থেকে কয়েক হাত সরে গিয়ে রাস্তার মাঝেই আরও এক সারি পোল বসানো হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্বিতীয় সারি তৈরি করে সোলার লাইট স্থাপন করতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে অবৈধ দখলদারদের কারণে কর্তৃপক্ষ অনেকটা অসহায়। বিআইডিসি রোডের স্থায়ী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, খালিশপুর বণিক সমিতির আওতাধীন বিআইডিসি রোডের দুই পাশের ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসলেও এক শ্রেণীর হকার সামনের ফুটপাত দখল করায় তাদের ব্যবসা বন্ধের পথে। ফুটপাত হকার্স সমিতির নাম দিয়ে অবৈধভাবে বেচা-কেনা ও ছাউনী দিয়ে ঘর তৈরি করে স্থায়ীভাবে ব্যবসা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তাদের অবৈধ দখলের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ হতে চলছে। পাশাপাশি ফুটপাত এবং ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার উপক্রম হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। খালিশপুর চিত্রালী এলাকার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, হকাররা ফুটপাত দখল করায় পথচারীদের যেমন চলাচল করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনাকবলিত হতে হচ্ছে।
অস্থায়ী ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করায় স্থায়ী অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও অনেকে অভিযোগ করেন। তারা বলেন, খালিশপুরের একটি বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠনের জনৈক নেতার ভাই হকার সমিতির নেতৃত্বে থাকায় বিষয়টি নিয়ে ওই সংগঠনের যেন কোন মাথা ব্যথা নেই। বিআইডিসি রোডের দু’পাশ দু’টি ওয়ার্ডের আওতাধীন। যে পাশ অবৈধ দখলদাররা দখল করে আছে সেটি ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। অপরপ্রান্ত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। এ পাশেও কিছু অবৈধ দখলদার থাকলেও তা অস্থায়ী। কিন্তু ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পার্শ্ববর্তী অবৈধ স্থাপনা অনেকটা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। অবৈধ দখলদার সম্পর্কে কেসিসির ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী তালাত হোসেন কাউট বলেন, খুলনায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের যে অভিযান শুরু হয়েছে তা থেকে যেন খালিশপুরও বাদ না যায় সে ব্যাপারে তিনি তৎপর। বিশেষ করে জনসাধারণের চলাচলের বিঘœ ঘটিয়ে কোন মহল যাতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলতে না পারে সে ব্যাপারে তিনি নগর পিতার সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন। খালিশপুর বিআইডিসি রোডের পাশাপাশি নগরীর বয়রাস্থ খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন রাস্তার ড্রেনজুড়েও গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। অথচ ওই রাস্তার অপরপ্রান্তেই গড়ে তোলা হয়েছে ভারতীয় সহকারী কমিশনারের কার্যালয়। প্রশাসনেরও বিশেষ নজর রয়েছে ওই এলাকার নিরাপত্তার বিষয়ে। কিন্তু এক শ্রেণির অবৈধ দখলদার কিছু বিশেষ লোকের ছবি টানিয়ে ড্রেন দখল করে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এ ব্যাপারে কেসিসির এস্টেট অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন পর যেহেতু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে এখন পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় এটি চলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ