ঢাকা, সোমবার 28 January 2019, ১৫ মাঘ ১৪২৫, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বিরামপুরে ব্যাপক পান চাষ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পান চাষ বেড়েছে। ছবিটি দাউদপুর থেকে তোলা

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে এম রুহুল আমিন প্রধান : পান চাষে মিলে না কৃষি ঋণ এর পরেও কৃষকের স¦উদ্যোগে দিনাজপুরের দক্ষিন এলাকার নবাবগঞ্জ ,বিরামপুর উপজেলায় কৃষি অন্য ফসলের পাশাপাশি মাঠে এখন পান চাষ ব্যাপক ভাবে কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান উপজেলার ভাদুরিয়া ,দাউদপুর, মাহমুদপুর ও কুশদহ ইউনিয়নে পান চাষ হয়ে থাকে। পলাশবাড়ী ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আহসান হাবিব জানান কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে রঞ্জয়পুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম এক একর জমিতে পান চাষ করেছেন। পরিবেশ অনুকুলে থাকায় পান উৎপাদন ভাল হয়েছে। বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া, দামদরপুর, রণগাঁর, রামচন্দ্রপুর ও দাউদপুর গ্রামের পান চাষীরা পান চাষে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এ এলাকায় বাপ দাদা ও নাতিতে মিলে দীর্ঘদিন ধরেই পান চাষ করে আসছেন বলে পান চাষীদের অভিমত।পান চাষে উচুঁ বেলে দোআঁশ মাটি বেশ উপযোগি। বাঁশ, ছন, গুনা ও সুতলি পান চাষীদের পান বাগান বা বর্জের কাজে লাগে। বাঁশের সলি ও থিয়ন দিয়ে পিলি বানিয়ে পান চাষ হয়। তবে অন্যান্য ফসলের ছেয়ে পান চাষে বেশী রাসায়নিক সার ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দরকার হয়। এ সব এলাকায় প্রায় শতকরা আশিজন কৃষক চান চাষের সাথে সম্পৃক্ত। বিরামপুরের পান এখন রাজধানী ঢাকা শহরসহ দেশের সর্বত্রয় সরবরাহ হচ্ছে। জেলার সব উপজেলা থেকে বিরামপুর উপজেলায় পানচাষ বেশীহয় বলে এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে। রামচন্দ্রপুর গ্রামের পান চাষী মাহালি, অরুনচন্দ্র, আতারুল মেম্বাবার জানান, অনেক আগে থেকেই আমরা পান চাষ করে আসছি। এটা আমাদের পুরনো পেশা। অন্যান্য ফসলের চেয়ে পান চাষ আমাদের কাছে বেশ লাভজনক। চৌঘরিয়া গ্রামের সুলতান মাহমুদ, নাসির উদ্দিন, তকিমুদ্দিন ওরফে ফেলু, দামদরপুরের নুরল ইসলাম, অহেদুল, রণগাঁও এর ওসমান, সাদ্দাম, সরিফুল ও দাউদপুরের মহাসিন মিজানুর কবিরাজসহ আরো অনেকেই জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে পানের ব্যাপক চাহিদা ও বাজার মুল্য ভাল।উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আগের ছেয়ে পান চাষে উন্নতি হচ্ছে। পান চাষ বেশ লাভজনক পেশা। অন্যান্য ফসলের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ফসল হিসেবে তুলনামুলক খরচ ও কম। তবে পান বাগান পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষণিক লেবার লাগাতে হয়। চাষীদের অভিযোগ দেশের সরকারি ব্যাংকে কৃষিঋনের ব্যবস্থা থাকলেও পানচাষের কোন কৃষিঋণ তাঁরা পাননা। পান চাষের উপরে প্রশিক্ষণ না থাকায় পানের পচন মড়কসহ নতুন নতুন রোগ সনাক্ত করতে ও প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেরি হওয়ায় ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। এলাকার পান চাষীরা এই অর্থকারি ফসল পান চাষের জন্য ব্যাংক সুদমুক্ত কৃষিঋণসহ পান চাষীদের পান চাষের উপরে প্রশিক্ষণের জন্য এলাকার সকল পানচাষী ও সর্বস্তরের সচেতনমহল সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দফতরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ