ঢাকা, শুক্রবার 01 February 2019, ১৯ মাঘ ১৪২৫, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার: আজ শুক্রবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হচ্ছে। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এ মেলা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের মেলার মূল থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বিজয় : ১৯৫২ থেকে ১৯৭১, নবপর্যায়’। আজ শুক্রবার বিকাল তিনটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলা একাডেমিতে এই মেলা উদ্বোধন করবেন। মেলা উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভারতের কবি শঙ্খ ঘোষ, মিসরের লেখক ও গবেষক মোহসেন আল আরেশি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, সচিব আবদুল মান্নান ইলিয়াস, মেলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিরাপদ মিডিয়ার চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ। মেলার সার্বিক বিষয় নিয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন একাডেমির পরিচালক ও মেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। এবারের মেলা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৩ লাখ বর্গফুট এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। মোট স্টল থাকছে ৭৭০টি। গত মেলার চেয়ে এবার ৫১টি স্টল বেড়েছে। প্যাভিলিয়ন রয়েছে ২৪টি। এছাড়া লিটন ম্যাগাজিন চত্বরে ১৫৫টি স্টল থাকবে। শিশুদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে শিশু চত্বর। ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার থাকবে শিশুপ্রহর। এতে শিশুরা অভিভাবকদের সাথে মেলা উপভোগ করবে।

মেলা সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে পরিচালনা করার জন্য অন্যান্যবারের মতো র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দোসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাকর্মীরা প্রহরায় থাকবে। পুরো মেলায় স্থাপিত হয়েছে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মেলা থাকবে সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধুমপানমুক্ত। মেলায় ২৫ ভাগ কমিশনে বই বিক্রি করা হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন মূল মঞ্চে শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমকালীন প্রসঙ্গে সেমিনার, বিশিষ্ট বাঙালি মনীষার জন্মশতবার্র্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং তাঁদের কর্মজীবন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিশু-কিশোরদের অংশগহণে থাকবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। মেলার বই নিয়ে এবং স্টল সাজ-সজ্জার উপর কয়েকটি পুরস্কার প্রদান করা হবে।

বইমেলায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা, নজরদারি: অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি রাখা হচ্ছে। বইমেলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখতে এসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দীর উদ্যানে মেলার নিরাপত্তাপ্রস্তুতি দেখতে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। ডিএমপির কন্ট্রোল রুমেও যান। পরে ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলা একাডেমির সহায়তায় সুদৃঢ় নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছি। যা যা করণীয়, তা সকলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুচারুভাবে দেখা হবে। মেলার প্রতিটি ইঞ্চি সিসিটিভির মাধ্যমে মনিটর করা হবে। তিনি বলেন, মেলার বাংলা একাডেমি অংশে দুটি প্রবেশপথ থাকবে, বের হওয়ার জন্য থাকবে একটি পথ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার যে অংশ আছে, সেখানে তিনটি প্রবেশপথ ও তিনটি বের হওয়ার পথ থাকবে। আর্চওয়ে মেটাল ডিরেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হবে। প্রবেশপথে নারী ও পুরুষদের আলাদাভাবে তল্লাশি করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘জঙ্গিদের সংঘবদ্ধ আক্রমণের সম্ভাবনা নেই। তবে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একজন অপতৎপরতা চালাতে পারে। আমাদের উদ্যমী অফিসার, সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন এবং অহর্নিশ কাজ করে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কোনো হুমকি নেই। লেখক, ব্লগারদের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও যদি কেউ পুলিশকে জানান, তাহলে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান মেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখতে আসেন। মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিও রয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার জন্য তাঁরা সজাগ রয়েছেন। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এবারের মেলার নিরাপত্তায় র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কাজ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ