ঢাকা, শুক্রবার 01 February 2019, ১৯ মাঘ ১৪২৫, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কবিতা

আঘাত

আকিব শিকদার

 

অবহেলা নিয়ে বাঁচার চেয়ে মৃত্যু ভাল, করুণা চাই না

তীব্র আঘাত দাও

আলো দিতে না পারো যদি অন্ধকারেই ঠেলে দাও

গায়ে আগুন ধরাতে পারো, মিথ্যা ছায়া আমি চাই না।

 

যেটুকু আঘাতে পাথরে ফুটে ফুলকী, সেটুকু আঘাত যদি পাই

আগুনের যন্ত্রণা ভুলে যাবো আলো-প্রাপ্তি আনন্দে

পতঙ্গের পাখা পুড়ে যায় বকুলের আঁচে, কামিনীর গন্ধে

তাই সে পারে না উড়ে যেতে অন্য কোথাও।

 

পিঁপড়ের পরিবার ভেঙে গেলে পড়ে রয় গুড়িমাটি রন্ধ্রে

সে মাটি দেখার সাধ পিঁপড়ের নাই

ছলনা ভুলতে চাইÑ

তীব্র আঘাত দাও, করুণা আমি তো চাই না।

 

 

যাযাবরের চিঠি 

তাসনীম মাহমুদ 

 

সাইবেরিয়া থেকে আগন্তক কোনো শীতের পাখি কিংবা

পাসপোর্টশূণ্য বর্ডার পলাতক কোনো ফেরার নই আমি।

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া আর রূপসা থেকে পাথুরিয়া

সমস্ত কাদামাটি জলে মিশে আছে আমার পূর্ব পুরুষের গন্ধ!

 ভোরের কুয়াশায় নেমে আসা শিশির; কচি কাঁচা সবুজ ঘাস

মেঠো পথে লেগে থাকা ধুলো আর ছাতিবা বেগমের ধোঁয়া ওঠা 

সন্ধ্যার ভাপা পিঠা আমাকে চেনে। চিলের তীক্ষèস্বর

গ্রীষ্মের দুপুরে যে শিমুল ফুটে লাল; সে আমাকে চেনে।

 

আমি কখনো পাহাড়; কখনো সমুদ্র, কখনো বা

রাতজাগা নব-দম্পতির নিঃশ্বাস ধরে হেঁটেছি পথে পথে!

পথ আমাকে টেনে নিয়েছে হা-ডু-ডু-র চূড়ান্ত জঙ্গে

পৌষ-পবন, মাঘের জারি শারি ভাটিয়ালি আসরে।

 

চৈত্রের দুপুরে সূর্য্যরে মত ঘেমে ওঠা শরীর দেখে সাগরদীঘি 

প্রেমে-মমতায় আমাকে করেছে আকণ্ঠ আলিঙ্গন। 

ধানের মাঠ; ফসল তোলা বিকেলে চেয়ে চেয়ে দেখেছে

কিভাবে ফুরিয়ে যায় পিতামহ নাতীর মেরুদ-ের ভাঁজে ভাঁজে!

 

আমি ফেরার নই; আমি আগন্তক নই। বৈঠার বায়ে; কুলকুল ছন্দে 

আজন্মকাল ফিরে ফিরে এসেছি এই ভাটিপাড় গাঙ্গে

এই গ্রাম এই নগর এই জনপথ শত শতাব্দী ধরে জানে

আমি আমার মায়ের এক দূরন্ত অবোধ যাযাবর বালক।

 

রোদ আসুক

পঞ্চানন মল্লিক

 

আমার জানালার কার্নিশে ধানগন্ধি রোদ আসুক আবার

ওম শুষুক পাখিদের বৃক্ষাবাস।

জানালায় তো ভাজ হয়ে আছে কপাট সোয়েটার

পাশের হড়হড় ক্ষেতে শালিকের তুমুল বিবাদ।

আমি যে ভ্রমে কেটে ফেলেছি দাদা কলকসুন্দার ডাল

বারান্দার বেলকনি থেকে দেখছি না আর।

এখন ক্ষেতে ক্ষেতে যে সোনালি মটর ফলে আছে

তা কুড়িয়ে নিচ্ছে কৃষকের দল।

আমনের শীষে ভিজছে কৃষানীর হাত, 

কলই ক্ষেতসহ আঁচলে বেঁধে নিচ্ছে সব।

জ্যাকেটের ওমের আদর খুঁজছে পাখি’র শিশুদল

চড়–ইয়ের ঠোঁটে ঠোঁটে যে ধান ছড়াচ্ছে তারও আর্দ্র প্রাণ।

তুমুল শিশিরে ভিজে আছে যে ঘাসের মাঠ

সেখানে পিতার কড়া দৃষ্টির মতো রোদ উঠুক আবার।

 

 

মানুষের আর্তনাদ 

আরিফুল ইসলাম সাহাজি

 

দাও খুলে দাও ঐ সীমান্ত ফটক,

রক্ষা কর মোদের মৃত্যুপুরী হতে

হায়েনার লাল চোখ আজ বড় উজ্জ্বল

কোটর হতে ঝরে লাল আগুন,

পারছি না আর সইতে এ যাতন

রক্ষা কর মোদের এ মৃত্যুপুরী হতে,

খোলো সীমান্ত ফটক

আমরা বাঁচতে চাই।

তোমরা কি সব পাথর হয়ে গেছে,

হে সভ্য ভ্রাতা পিতা পিতামহ

ভুলে গেছে কি ভাতৃত্ব বন্ধন,

দেখতে পাচ্ছ কি

আমাদের শিশুদের শব ছড়ানো

রয়েছে মাঠ পথ ও নদে,

আমাদের নারীরা আজ স¤্র¢ম হারানো

নির্জীব প্রতিমা, আমাদের যুবারা আজ

গুলীবিদ্ধ, ছুরির আঘাতে দ্বিখ-িত হয়ে

পড়ে আছে রাজপথে!

তোমরা কি সব পাথর হয়ে গেছে!

এই হিং¯্র হায়েনাদের জন্য একটা বুলেট ও

কি অবশিষ্ট নেই তোমাদের কাছে!

তোমরা কি সব পাথর হয়ে গেছো!

 

 

প্রজাপতির অপরাহ্নে

হাসান নাজমুল

 

কয়েদে আটকে থাকা সিংহ হৃদয়কে

রিলিজ করেছি আজ;

হাওয়াহীন কয়েদে জীবন জড়বস্তুর মতো

অচল-অসাড় হয়ে পড়েছিল এতদিন,

‘হৃদয় আমড়া কাঠের ঢেঁকি নয়’-

এ কথা শুনেছি স্বয়ং জীবনের কাছে থেকে,

তাইতো আজকে জীবনানন্দে-

ছুটে চলছি আনন্দের সমাহারে,

বিষন্ন মেঘের কোল ছেড়ে

সহ¯্র কূপের জল সেঁচে

প্রাচীন আলসে দুপুরের ঘর ভেঙে-

ছুটে চলছি প্রজাপতির অপরাহ্নে।

 

 

কোথাও যেন কী নেই

মোহাম্মদ ইসমাইল

 

কোথাও যেন কী নেই;

আর হাত বাড়ালেই যেন মনে হয় চারিদিকে

কেমন জানি শুধু এক অঘোষিত অন্ধকার!

অথচ আকাশে কোনো মেঘ নেই; বৃষ্টি নেই,

তবু হন্যে হয়ে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছি এ-ই নিজেকে

যেন চোখের সামনে নিজের চোখকে বিশ্বাস না করার সমাহার!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ