ঢাকা, শুক্রবার 01 February 2019, ১৯ মাঘ ১৪২৫, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জীবননগরে এক মাসে ১২ গরু চুরি খামারীরা শঙ্কিত

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার লক্ষীপুর-মনোহরপুরে গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। এ অঞ্চলে গত এক মাসের ব্যবধানে ১২ টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘন ঘন গরু চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অন্য গরু চাষীরা তাদের পোষা গরুর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে। জানা গেছে,উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সম্প্রতি ঘন ঘন গরু চুরির ঘটনা ঘটছে।  গরু চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও এ পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত চোর চক্রকে সনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। প্রতিটি চুরির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডাইরী কিংবা অভিযোগের ঘটনা ঘটলেও কোন ভাবেই গরু চুরি থামানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র, মধ্যবিত্ত কিংবা খামারিদের মধ্যে চুরি আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক কৃষক রাতের ঘুম হারাম করে চুরি ঠেকাতে গোয়াল পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের ধারণা উপজেলায় দীর্ঘদিন গরু চুরির ঘটনা না ঘটলেও অতি সম্প্রতি আশঙ্কাজনক হারে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলায় প্রতি সপ্তাহে গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু চোর চক্রের সদস্যরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গরু চুরির ভয়ে ক্ষুদ্র মোটাতাজাকরণ খামারিরা গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত এক মাসের ব্যবধানে মনোহরপুর শিমূলতলাপাড়ার ঝন্টু মিয়ার চারটি, লক্ষীপুর কলেজপাড়ার শজিদুল ইসলামের চারটি, মহাসিন মিয়ার দুইটি গরু ও পিয়ারাতলার আব্দুল হাকিমের বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে অজ্ঞাত চোরেরা গরুগুলো রাতের আধারে চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার শিকার কৃষকেরা মধ্য আয়ের পরিবারের সদস্য চুরির ঘটনায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকেই বাড়িতে ক্ষুদ্র পরিসরে গরু মোটা তাজাকরণ করলেও গরু চুরি হওয়ার ঘটনায় তারা যে আশা নিয়ে গরু পালন করে ছিলেন সে আশায় গুড়ে বালি। ভুক্তভোগীদের দাবি একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র পরিকল্পিতভাবে রাতের আধারে একের পর এক গরু চুরি ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। পিয়ারাতলা গ্রামের আব্দুল হাকিম বলেন, আমার একটি এড়ে গরু নিজ বাড়ীতে মোটাতাজাকরণ করে তা ঈদের সময় বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা পাবো আশায় ছিলাম। গরুটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা হবে। কিন্তু গরুটি রোববার গভীর রাতে চোর চক্রের সদস্যরা গোয়াল ঘরের তালা কেটে চুরি করে নিয়ে যায়। গোয়াল ঘরে থাকা দুটি গরুই চোর চক্রের সদস্যরা খুলে ছিল। কিন্তু একটি গরু তাদের থেকে ছুটে আসে। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে জানা গেছে, চোর চক্রটি মিনি পিকআপ ভিড়িয়ে গরু চুরির ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, গরুর ঘটনায় পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। চোর চক্রটি সনাক্ত করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ