ঢাকা, শনিবার 02 February 2019, ২০ মাঘ ১৪২৫, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নতুন মিয়ানমার গঠনের প্রতিশ্রুতি রাখেনি সু চি সরকার------এইচআরডব্লিউ

গণজমায়েত আইন সংশোধনের দাবিতে মিয়ানমারে বিক্ষোভ

১ ফেব্রুয়ারি, রয়টার্স: শান্তিপূর্ণ সমালোচকদের বিচারের মুখোমুখি করে মিয়ানমার সরকার মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে মনে করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গত বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ মানবাধিকার সংগঠনটি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। বলা হয়, নতুম মিয়ানমার গঠনের অঙ্গীকার সত্ত্বেও ভিন্ন মতের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে এনএলডি সরকার। মত প্রকাশ ও জনসমাগমের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং শান্তিপূর্ণ বক্তৃতাদানের বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণার আইন সংস্কারের জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

মিয়ানমারে টেলিযোগাযোগ আইনের ৬৬ (ডি) ধারার ব্যবহার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনা রয়েছে। কেউ সরকার কিংবা সেনাবাহিনীর বিরোধিতা করলে এ আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। তাছাড়া টেলিযোগাযোগ আইন, আনল’ফুল অ্যাসোসিয়েশন অ্যাক্ট, অফিসিয়্যাল সিক্রেট অ্যাক্ট, নিউজ মিডিয়া ল ও ১৯৩৪ এর এয়ারক্রাফট অ্যাক্ট-এর আওতায় সাংবাদিকদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। অফিসিয়্যাল সিক্রেট অ্যাক্ট ভঙ্গের দায়ে দুই রয়টার্স সাংবাদিককে সাত বছর করে কারাদণ্ড প্রদানের ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বিপুল সমালোচনা করে যাচ্ছে। এছাড়া মিয়ানমারে সাংবাদিকদেরকে সরকারের নীতিমালা ও কর্মসূচির খবর সংগ্রহ করতে সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে েেয়ত দেওয়া হয় না। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

৮৭ পৃষ্ঠাবিশিষ্ট প্রতিবেদনটির শিরোনাম হলো ‘আশা ভঙ্গ: মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশের অপরাধকরণ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর অস্পষ্ট ভাষায় বর্ণিত আইনের প্রয়োগ ঘটাচ্ছে অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকার। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অনলাইনে কেউ সরকার, সেনাবাহিনী এবং রাখাইন ও কাচিন রাজ্যে নিপীড়নের সমালোচনা করলে তাকে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক আইনি উপদেষ্টা লিন্ডা লাখধির বলেন, ‘অং সান সু চি ও এনএলডি একটি নতুন মিয়ানমারের অঙ্গীকার করেছিল। তবে সরকার এখনও শান্তিপূর্ণ বক্তব্য দানকারী ও বিক্ষোভকারীদেরকে বিচারের মুখোমুখি করে যাচ্ছে। পুরনো দমনমূলক আইন পরিবর্তনেও ব্যর্থ হয়েছে সরকার।’ স্থানীয় মুক্ত মতের অধিকার আদায়ের সংগঠন আথান-এর তথ্য অনুযায়ী, এনএলডি সরকার ক্ষমতাগ্রহণের পর এ পর্যন্ত ৪৩ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মিয়ানমারের ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার ও ২০১৬ সাল থেকে আইনি ও নীতিমালা পরিবর্তনজনিত বিষয়গুলো বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এর আওতায় মিয়ানমারে টেলিযোগাযোগ আইন, শান্তিপূর্ণ জমায়েত ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আইন এবং মিয়ানমারের পেনাল কোডের মতো আইনগুলোর ব্যবহার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার সরকারের উচিত শান্তিপূর্ণ বক্তৃতা ও জমায়েতের বিরুদ্ধে আইনের ব্যবহার বন্ধ করা এবং স্বাধীন মত, জমায়েত ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষায় আইনের সংস্কার করা।

উল্লেখ্য. অং সান সু চি'র সরকারি পদবী হচ্ছে 'রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা'। মন্ত্রিসভা এবং তার দলের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্বেও আছেন সু চি। দেশটির প্রেসিডেন্টকে সু চি'র কাছে জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু তারপরও সাংবিধানিকভাবে সেনাক্ষমতার কাছে তিনি বন্দি। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী দেশটির পার্লামেন্টের এক চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং সীমান্তসহ গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ে নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী। এর অর্থ হচ্ছে দেশটির পুলিশের ওপরও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেনাবাহিনীর। শক্তিশালী জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের ১১টি আসনের মধ্যে ছয়টি আসনেও রয়েছেন সেনাবাহিনী মনোনীত ব্যক্তিরা। গণতান্ত্রিক সরকার বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে এই পরিষদের। এছাড়া অনেক শীর্ষস্থানীয় পদ দখল করে আছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ