ঢাকা, সোমবার 04 February 2019, ২২ মাঘ ১৪২৫, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনায় সোনালী ব্যাংকের ৪ শাখা ঋণ খেলাপী!

খুলনা অফিস : খুলনায় সোনালী ব্যাংকের চারটি শাখা ঋণ খেলাপী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শাখাগুলোতে খেলাপী ঋণের পরিমাণ ১৮শ’ কোটি টাকা। খেলাপী ঋণ আদায়ের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শন ও সোনালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্যাংকের খেলাপী শাখাগুলো হচ্ছে খুলনা কর্পোরেট, দৌলতপুর কর্পোরেট, দৌলতপুর কলেজ রোড ও খালিশপুর। খেলাপী তালিকার উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস্ ও সোনালী জুট মিলস্ লি.।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোট ঋণের ৮৪ শতাংশ খেলাপী। গুরুতর অনিয়ম, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এক ধরনের অসৎ ব্যবসায়ী টাকা আত্মসাৎ করেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ লুটের সাথে সোনালী ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহযোগিতার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকায় ব্যাংকের খুলনা কর্পোরেট শাখার ডিজিএম (বরখাস্ত) নেপাল চন্দ্র সাহা, এ্যাসিসেন্ট অফিসার কাজী হাবিবুর রহমান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ তৈয়েবুর রহমান ও সাবেক ডিজিএম সমিত কুমারের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে।
ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, খেলাপী ঋণের মধ্যে খুলনা কর্পোরেট শাখা ৮৭১ কোটি, দৌলতপুর কর্পোরেট শাখায় ৫৭১ কোটি, বিএল কলেজ শাখায় ৩৪৩ কোটি এবং খালিশপুর শাখায় ৭২ কোাটি টাকা। খুলনা অঞ্চলে সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ ৩০ ঋণ খেলাপীর কাছে পাওনা এক হাজার ৬৮ কোটি টাকা। তার মধ্যে এমদাদুল হোসেন বুলবুলের সোনালী জুট মিলের কাছে ১২৭ কোটি টাকা, একে জুট ট্রেডিং এর কাছে ১১৭ কোটি টাকা, রেজা জুট ট্রেডিং এর কাছে ৩৮ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ট্রেডিং এর কাছে ৯২ কোটি টাকা, শরীফ জুট ট্রেডিং এর কাছে ৬৩ কোটি টাকা, জুয়েল জুট লিঃ এর কাছে ৪৯ কোটি টাকা, মেসার্স সিরাজুল ইসলামের কাছে ৪০ কোটি টাকা, আলিফ জুট ট্রেডিং এর কাছে ৩৬ কোটি টাকা, অনিক জুট ইন্টা. কাছে ৩০ কোটি টাকা, অগ্রণী পাট সংস্থার কাছে ২৮ কোটি টাকা।
ব্যাংকের খুলনা কর্পোরেট শাখার ডিজিএম গোপাল চন্দ্র গোলদার জানান, এ শাখায় খেলাপী ঋণের পরিমাণ ৮১৭ কোটি ৫২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫৪ টাকা। খেলাপী ঋণ আদায়ের জন্য ৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঋণ খেলাপীরা হচ্ছে সোনালী জুট মিলস্, জাতীয় জুট মিলস্, আলিম জুট মিল, এফ আর জুট, শাহ চন্দ্রপুরী, জয় জুট মিলস্, বাংলাদেশ সি ফুড, লকপুর সি ফুড, সম্পা সি ফুড এবং ৫৪টি কাঁচা পাট কোম্পানি। পাটের খেলাপী ঋণ নিয়মিত করার জন্য সরকারি নীতিমালার আলোকে প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তুাব পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, কর্পোরেট শাখায় ১২৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা ছিল না। তার মধ্যে ৫৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। সর্বোচ্চ ঋণ আদায় বলে তিনি দাবি করেন। গত বছর কর্পোরেট শাখা ৩৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা মুনাফা করে।
এই শাখার অপর সূত্র জানান, মিরেরডাঙ্গাস্থ সোনালী জুট মিলের মালিক এস এম এমদাদুল ইসলাম বুলবুল ৮৫ কোটি ৮০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। সুদে আসলে দাঁড়িয়েছে ১২৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ঋণ পরিশোধ না করে মালিক মিলে অনুপস্থিত রয়েছেন। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন বাদি হয়ে খানজাহান আলী থানায় পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা করেন। স্থানীয় সিএমএম আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ব্যাংকের ডিজিএম মো. শাজাহান আলী শেখ জানান, সকল শাখায় খেলাপী ঋণ আদায়ের জোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে পাট ব্যবসায়ীদের নীতিমালার আওতায় আনার চেষ্টা চললেও ৩০ নবেম্বর শেষ তারিখ হওয়া সত্ত্বেও তারা এ সুযোগ নিতে পারেনি। তারা সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব রেখেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনি। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশ পেলে পূর্বের খেলাপী ঋণের অর্থ ব্লক রেখে নতুন ঋণ প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য প্রভাষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অর্থ ঋণ দেওয়া ও তা সময় মতো আদায় করার আন্তরিকতার অভাবেই খেলাপী ঋণের পাহাড় সৃষ্টি হচ্ছে। পাট ব্যবসা নিঃসন্দেহে লাভজনক। তাহলে কেন বছরের পর বছর পাট ব্যবসায়ীরা ঋণ খেলাপী তা আজ বড় প্রশ্ন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ