ঢাকা, সোমবার 04 February 2019, ২২ মাঘ ১৪২৫, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে এসিটি শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ এসিটি এসোসিয়েশনের উদ্যোগে চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : চাকরি স্থায়ীকরণ অথবা পরবর্তী প্রকল্পে স্থানান্তরের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেছে সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টে (সেকায়েপ) নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষকরা (এসিটি)।
গতকাল রোববার সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ এসিটি অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৌশিক চন্দ্র বর্মন, শিক্ষক নেতা রাফিউল ইসলাম রাফি, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. রইজ উদ্দিন, মো. ওসমান গণি প্রমুখ।
চাকরি স্থায়ীকরণ অথবা নতুন প্রকল্পে স্থানান্তর করা না হলে ঘরে না ফেরার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ এসিটি অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৌশিক চন্দ্র বর্মন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চাকরি স্থায়ীকরণের সুপারিশের চিঠি উপেক্ষা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের রাখতে চাচ্ছে না। তাহলে সেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কে আছে, কারা আছে? প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কৌশিক চন্দ্র বর্মন বলেন, মৌখিক আশ্বাসে আমরা এতদিন ক্লাস নিয়ে এসেছি। আর বিলম্ব নয়। আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণের লিখিত আদেশ পেলেই স্কুলে ফিরে যেতে চাই। প্রেস ক্লাবের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষকরা বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সবচেযে প্রকট সমস্যা যখন মানসম্মত শিক্ষকের অনুপস্থিতি তখনই ২০১৫ সালে সরকার প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করা শুরু করে। বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে ও অর্থায়নে সেকাযেপ প্রকল্পের অধীনে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষক (এসিটি) হিসেবে দেশের ২৫০টি উপজেলার ২ হাজার ১০০টি মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে ৩ বছরের জন্য ৫ হাজার ২০০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।
এসিটি শিক্ষকরা দাবি করে বলেন, ব্যানবেইসের হিসেব মতে, তিন বিষয়ে তারা মোট ক্লাস নিয়েছেন ৩৭ লাখ২০ হাজার ৯৪টি। যা সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রে রেকর্ড। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরে প্রকল্পের এসব মেধাবি ও তরুণ শিক্ষকদের বিনা শর্তে সরকারি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে চাকরি স্থায়ী করার কথা থাকলেও গত ১৩ মাসেও তা চুড়ান্ত করা হয় নি। চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাঁচ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রকল্প শেষ হয়ে গেছে।
শিক্ষকরা বলেন, মৌখিক আশ্বাসে ক্লাস করে আসছি। চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কয়েক দফা মানববন্ধন করেছি। আশ্বাস অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে নতুন প্রকল্প এসইডিপিতে সেকায়েপের বিভিন্ন কম্পোনেন্টের (পাঠাভ্যাস ও উপবৃত্তি) কার্যক্রম চালু হলেও এসিটিদের চাকরি স্থায়ী করার কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এতে চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন অভিজ্ঞ এ শিক্ষকরা। অনতিবিলম্বে এ ব্যাপারে একটা কাঙ্কিত সমাধাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ