ঢাকা, সোমবার 04 February 2019, ২২ মাঘ ১৪২৫, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ৯৩২৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কার ৪০ শিক্ষক-পরীক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার : সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে ৯ হাজার ৩২৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে আটটি সাধারণ বোর্ডের ৪ হাজার ৮৯৫ জন এবং মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪ হাজার ৪২৯ জন।
গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় এসব পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। তবে এদিন পরীক্ষায় অনৈতিক কাজের জন্য ৪০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গতকাল সারাদেশে এসএসসির বাংলা (আবশ্যিক) ২য় পত্র, সহজ বাংলা-২য় পত্র ও বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি-২য় পত্র ও মাদসারা বোর্ডের অধীনে আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন কারিগরি বোর্ডের কোনো পরীক্ষা ছিল না।
তথ্যমতে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চার লাখ ৭৪ হাজার ৬৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল এক হাজার ৪১৮ জন ও চট্টগ্রাম বোর্ডের এক লাখ ২৬ হাজার ১৬৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮৪ জন। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডের এক লাখ ৮২ হাজার ৭২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮৯ জন, বরিশাল বোর্ডের ৮৭ হাজার ৬২০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯৫ জন, সিলেট বোর্ডের ৯০ হাজার ২৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৬ জন, দিনাজপুর বোর্ডের এক লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮১ জন, কুমিল্লা বোর্ডের এক লাখ ৭০ হাজার ৩২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১২ জন এবং যশোর শিক্ষা বোর্ডের এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৩৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯০ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
এই আটটি শিক্ষা বোর্ডের ১৪ লাখ ৪৪ হাজার ২৩৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল চার হাজার ৮৯৫ জন। অপরদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ৪২৯ জন অনুপস্থিত ছিল। মাদরাসা বোর্ডের বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ১৭ জন।
সব বোর্ড মিলিয়ে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ১০ জন, বরিশাল বোর্ডে পাঁচজন, কুমিল্লা বোর্ডে ৪ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র ঢাকা বোর্ডের চারজন পরিদর্শককে অনৈতিক কাজের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ দিকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে ভুল ও বিতরণসহ সব অভিযোগ ও গাফিলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া প্রশ্নফাঁস বন্ধে কঠোর নজরদারি রয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
গতকাল রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদরাসা পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় সবচেয়ে বেশি নজরদারি করা হচ্ছে। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পর কোনও শিক্ষার্থী হল থেকে বের হতে চাইলে প্রশ্নপত্র রেখে বের হতে হবে। মূলত, পরীক্ষা শুরুর পর অনলাইনে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়া বন্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস বন্ধে মিডিয়া ও অভিভাবকদের সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম সাইফউল্লা উপস্থিত ছিলেন।
=

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ