ঢাকা, মঙ্গলবার 05 February 2019, ২৩ মাঘ ১৪২৫, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হোয়াইট হাউসকে রক্তে রঞ্জিত করার হুঁশিয়ারি মাদুরোর

৪ ফেব্রুয়ারি, গার্ডিয়ান/রয়টার্স : ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তাকে উচ্ছেদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে নোংরা সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তাকে উৎখাতে জিদ করে থাকেন তাহলে তাকে রক্তে রঞ্জিত হয়ে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে। স্প্যানিশ সাংবাদিক জোরদি ইভোলি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

নিকোলাস মাদুরো বলেন, ‘থামুন। থামুন, ট্রাম্প! এখানেই থেমে যান! আপনি এমন ভুল করছেন যা আপনার হাতকে রক্তে রঞ্জিত করবে। রক্তের দাগ নিয়ে আপনাকে প্রেসিডেন্সি ছাড়তে হবে। কেন আপনি ভিয়েতনামের পুনরাবৃত্তি চাইছেন?’

ভেনেজুয়েলায় আট দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন দিতে ইউরোপের কয়েকটি দেশ যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তাও নাকচ করে দিয়েছেন মাদুরো। তিনি বলেন, আমরা কারও কাছ থেকে আলটিমেটাম গ্রহণ করি না। আমি এই মুহূর্তে নির্বাচনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করছি। ২০২৪ সালে নির্বাচন হবে। ইউরোপ কী বললো তাকে আমরা গোণায় ধরি না। নিকোলাস মাদুরো বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আপনি আল্টিমেটামের ওপর ভর করতে পারেন না। এসব ঔপনিবেশিক সময়কালের জন্য প্রযোজ্য।

নিজের রাজনৈতিক গুরু হুগো শাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় আসেন বামপন্থী রাজনীতিক নিকোলাস মাদুরো। ভেনেজুয়েলা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান এই রাজনীতিক। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলেন, উত্তর আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদীরা হামলা চালালে আমাদের নিজেদের রক্ষা করতে হবে। দেশকে আমরা তাদের হাতে ছেড়ে দেবো না।

তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় কোনও মানবিক সংকট নেই। এখানে যা রয়েছে তা হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট।

 ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত অন্তর্র্বতীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো’কে অভ্যুত্থানের কৌশল থেকে সরে আসারও আহ্বান জানান মাদুরো। তিনি বলেন, আপনি কি করছেন; সে সম্পর্কে সাবধানে চিন্তা করুন।

বর্তমান সংকট যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কা করছেন কিনা; এমন প্রশ্নের উত্তরে মাদুরো বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের উন্মত্ততা ও আগ্রাসনের ওপর। এটা আমাদের ওপর নির্ভর করছে না। তবে নিজেদের অধিকার রক্ষায় ভেনেজুয়েলাও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর আগে সিবিএস টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি তার বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বৈঠকে বসার আহ্বান তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির বিপরীতে গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটিগুলো পরিদর্শন করছেন মাদুরো। একটি নৌ ঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা কী উপনিবেশে পরিণত হতে পারি?

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভেনেজুয়েলার নির্বাচন। তাতে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। কিন্তু বিরোধী দলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। বিরোধীদের এমন দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। অর্থনৈতিক সংকটে জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। আর ব্যাপক এই বিক্ষোভের জেরেই গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্র্বতীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদোকে আমি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছি।’ মাদুরোর পক্ষে দাঁড়িয়েছে চীন ,রাশিয়া ও তুরস্কের মতো দেশ। অন্যদিকে বিরোধী নেতা জুয়ান গুইদোকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, এমনকি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। এমন পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প ও মাদুরোর পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি উচ্চারণের ঘটনা ঘটেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি বিকল্প পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।

গতক রোববার সিবিএসে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

পদত্যাগের জন্য ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ওপর দেশে-বিদেশের চাপ ক্রমে বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য এল।

তবে ভেনেজুয়েলায় বিদেশি রাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, সামরিক হস্তক্ষেপের পরিণতি ধ্বংসাত্মক।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলায় বিরোধী নেতা ও স্বঘোষিত অন্তর্বরতীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়াসহ মিত্র কয়েকটি দেশ মাদুরোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার বিরোধীরা মাদুরোর পদত্যাগ চাইছেন। একই সঙ্গে তারা নতুন করে অবাধ ও স্বচ্ছ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দাবি করছেন। এসব দাবি নাকচ করেছেন মাদুরো। তবে তিনি দেশটিতে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলায় চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় সম্পর্কে ট্রাম্প তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেন, সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চয়ই একটি বিকল্প।

ট্রাম্প জানান, মাস কয়েক আগে মাদুরো একটি বৈঠকের ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা নাকচ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তার অবস্থান, আলোচনার আর সুযোগ নেই। রাশিয়া বলেছে, সীমান্ত পেরিয়ে ধ্বংসাত্মক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভেনেজুয়েলাকে সাহায্য করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ