ঢাকা, মঙ্গলবার 05 February 2019, ২৩ মাঘ ১৪২৫, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

‘হিজাব’ আমার সম্মান আমার অধিকার

রুকসানা ফেরদৌসী : নাজমা খান, বাংলাদেশী এমেরিকান। তার নিজস্ব চিন্তা ও পরিকল্পনার ফল ১লা ফেব্রুয়ারি "বিশ্ব হিজাব দিবস" যা ২০১২ সাল থেকে পালন হয়ে আসছে।
কেন এই উদ্যোগ শোনা যাক তার ভাষায়---" ১১বছর বয়সে যখন আমি স্কুলের একমাত্র "হিজাবী" মেয়ে ছিলাম, তখন আমাকে কেবলমাত্র হিজাব পড়ার কারণেই আচরণগত নানা বৈষম্যের স্বীকার হতে হয়েছে। মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় আমাকে বলা হত "ব্যাটম্যান অথবা নিনজা " আর ৯/১১ এর পরে তারা আমাকে ওসামা বিন লাদেন/টেরোরিস্ট এসব পর্যন্ত বলত!!যা সত্যিই আমার জন্য দুঃসহ ছিল!!"
প্রত্যেকটা জাতির নিজস্ব কিছু ধর্মীয় পোশাক রয়েছে। যা সম্পর্কিত থাকে জীবনাচারের সাথে, যা পোশাক হিসাবে অনেক বেশি সম্মানিত। ইহুদিদের রয়েছে প্রার্থনার টুপি, খ্রিষ্টান নানদের লম্বা গাউন আর হেড স্কার্ফ, শিখদের মাথার পাগড়ি, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের গেরুয়া বসন।
তেমনি ধর্মীয় পোশাক হচ্ছে মুসলিম মহিলাদের বোরকা, হিজাব, নেকাব ইত্যাদি।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-------
"হে নবী মোমিন স্ত্রীলোকদের বলুন, তারা যেন নিজেদের চোখকে নিম্নগামী রাখে,নিজেদের লজ্জাস্তানের হেফাজত করে এবং নিজেদের সাজসজ্জা না দেখায় ;কেবল সেসব জিনিস যা আপনা থেকে প্রকাশিত হয়ে পড়ে এবং নিজের বুকের ওপর ওড়নার আঁচল ফেলে রাখে। (সূরা নূর, আয়াত :৩১)
মুসলিম নারীদের মাথা,বুক ঢেকে রাখা ফরজ। পৃথিবীজুড়ে আর কোন ধর্মাবলম্বীদের পোশাক নিষিদ্ধ হচ্ছেনা, সমালোচনা হচ্ছেনা। কিন্তু হিজাবের বিরুদ্ধে যেন যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।  এই বিষয়টা নিয়ে তাই আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। সারা পৃথিবীজুড়ে হিজাবের উপর নিষেধাজ্ঞা আসতেছে। এটাকে ধর্মান্ধতা আর পশ্চাদহীনতার প্রতীক হিসাবে দেখা হচ্ছে। এর ব্যতিক্রম নয় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশ।
এখানে অনেক স্কুল, কলেজে হিজাব পড়ার দায়ে হেনস্তা হতে হয়েছে। ভার্সিটিগুলা কান বের করার নামে হিজাব ছাড়া ছবি দিতে বাধ্য করছে। চাকরির আবেদনে ও একই অবস্তা। এই বিষয়গুলা একসময় ছিল অকল্পনীয়। বোনেরা, আমাদের অধিকারের পক্ষে আমরা যদি এখনই সোচ্চার হয়ে না উঠি তাহলে হয়ত আমন দিন আসবে যেদিন সরাসরি হিজাব ঈ নিষিদ্ধ করা হবে।
শর্ট বোরকা, জিন্স,,  হেড স্কার্ফ বা মাথায় কোন একটা কাপড় জড়িয়ে নিলেই পর্দা, হিজাব হয়না।  এটা অনেক বিস্তৃত এবং শাশ্বত বিধান। হিজাব ভদ্রতা ও শালীনতার প্রতীক। যেসব বোনেরা হিজাব পড়েন না, তারা অনুপ্রেরণা হিসাবে নিতে পারেন নাজমা খানকে। তিনি দেখিয়েছেন নিজের বিশ্বাসের প্রতিকূল ভূমিতে অবস্তান করেও কিভাবে নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। যেসব বোনেরা অনুকূল ভূমিতে অবস্তান করেও পর্দা,হিজাব করতেছেন না, আপনারা আল্লাহর কাছে গিয়ে কি জবাব দিবেন সেটা কি ভেবে রেখেছেন? একবার এসেই দেখুন না আপুরা, সম্মান আর প্রশান্তির এই ভূবনে। স্বাগতম আপনাদের............
হিজাব দিবসকেন্দ্রিক নয়, এটা প্রাত্যহিক জীবনকেন্দ্রিক। হিজাব দিবসে অন্নধর্মাবিলম্বী বোনদের হিজাব পরিধানের আহবান আমরা জানাবনা। তবে বলতে চাই, আমাদের অধিকার হরণের এই প্রতিবাদে আপনারা ও এসে দাঁড়ান। এটা আমাদের ধর্মীয় অধিকার, ধর্মীয় অধিকার হরণে আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়ান, আমরাও দাঁড়াব আপনাদের পাশে।
যেখানে মুসলিম পরিচয়টাকেই নেতিবাচক হিসাবে দেখা হয় সেসব জায়গাতে অবস্তান করেও যখন আমাদের বোনেরা হিজাব পড়েন, নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন, দিবসের পালনের ডাক দেন তখন সত্যিই আমরা অনুপ্রাণিত হই।
পাশাপাশি ব্যথিত হই সেই বোনদের দেখে যারা হিজাবকে পশ্চাদপদ, ক্ষেত, ব্যাকডেটেড হিসেবে অভিহিত করে। তারা জানেনা আল্লাহ বলেছেন:
" পর্দা নারী ও পুরুষের সম্মানকে বৃদ্ধি করে" (সূরা নূর :২৭)
হিজাব দিবসে হিজাবের বিরুদ্ধে সব অপবাদ আর আগ্রাসনের প্রতিবাদ আমরা জানাচ্ছি।  সেইসাথে বোনদেরকে বলতে চাচ্ছি:
হিজাব আমাদের সম্মান
হিজাব আমাদের অধিকার
হিজাব আমাদের অহংকার
হিজাব আমাদের আত্মবিশ্বাস
হিজাব শালীনতা ও নৈতিকতার প্রকাশ
তাই আমাদের অধিকারের পক্ষে আমাদেরই আওয়াজ তুলতে হবে, পৃথিবীকে বলতে হবে------
হিজাবকে কেন এত ভয় হিজাব সমাজকে করবে সৌন্দর্যময়

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ