ঢাকা, শনিবার 09 February 2019, ২৭ মাঘ ১৪২৫, ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : জানুয়ারি মাসের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ, মন্ত্রসিভা গঠন, সংসদ অধিবেশন, বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ থেকে বিরত থাকা, টিআইবির দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ, উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ঘোষণা ও গণফোরামের সদস্যদের শপথ পাঠ ঘোষণা ছিল উল্লেখ্যযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনা। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এ্যান্থনিও গুতেরেস কর্তৃক বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ছিল বড় ধরনের রাজনৈতিক ঘটনা। জানুয়ারি মাসে ৯৩টি রাজনৈতিক ঘটনার তথ্যে নিহতের সংখ্যা ১১। এই ১১ জনের ৫ জনই খুন হয় আওয়ামী লীগের হাতে, ছাত্রলীগের হাতে ১, বিএনপির হাতে ২, জেএসএস-এর হাতে ১, তাবলীগ জামায়াতের হাতে ১ ও ইউপিডিএফ-এর হাতে ১ জন। এ মাসে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় প্রাপ্ত তথ্যে আহত হয় ১৭৫ জন এবং গ্রেফতার অনেক বেশী হলেও ৩৯৫ জনের তথ্য পাওয়া গেছে বাকীদের পরিচয় প্রকাশিত হয়নি, গ্রেফতারকৃতরা অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং দ-প্রাপ্ত ৪ জন, এই ৪ জনের আওয়ামী লীগের ২, ছাত্রলীগের ১ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১ জন। প্রাপ্ত তথ্যে জানুয়ারি মাসে যারা নিহত হয়- (১) চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে চাঁদাবাজীর অভিযোগে গণুপটুনীতে আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেল নিহত হয়, (২) কুষ্টিয়া সদরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মাঈনুদ্দিন বিশ্বাস নিহত হয়, (৩) নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় আওয়ামী লীগের লোকজন পুলিশের নিকট থেকে আসামী ছিনতাই করতে গেলে পুলিশের গুলিতে আশিকুর রহমান নামে একজন নিহত হয়, (৪) গাজীপুরের টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আব্দুর রাজ্জাক হোসেন চৌধুরী শিমুল খুন হয় ও (৫) যশোরের অভয়নগরে আওয়ামী লীগের হামলায় নিহত হয় বিএনপির শামসুর রহমান নামে একজন মেম্বার, (৬) জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মাদককারবারী নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার হাতে পালাশ খুন হয়, (৭) বগুড়ার কাহালুতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বিএনপির হাতে আহত আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল হুদা ডুয়েলের মৃত্যু ও (৮) কুমিল্লার লাকসামে নির্বাচনের দিন বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে আহত আওয়ামী লীগ নেতা ফয়েজ উল্লাহ নিহত, (৯) গাজীপুরের টঙ্গীতে তাবলীগ জামায়াতের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত শামসুদ্দিন বেলালের মৃত্যু, (১০) খাগড়াছড়ির রামগড়ে ইউপিডিএফ-এর হাতে জেএসএস নেতা মোহন ত্রিপুরা নিহত হয় এবং (১১) খাগড়াছড়ির সদরের গাছ বানমুখ এলাকায় জেএসএস-এর হাতে ইউপিডিএফ কর্মী পিপলু বৈষ্ণব ত্রিপরা রনি খুন হয়।
আওয়ামী লীগ : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ যশোরের অভয়নগরে সংসদ নির্বাচনের দিন পাথারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট শামসুর রহমানকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ। বিলম্বে তথ্যটি হাতে পাওয়ায় এ মাসের কলামে যুক্ত করা হলো। ১ জানুয়ারি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মধ্য চরবাগ্যা গ্রামে ধানের শীষে ভোট দেয়ায় ৩৫ বছর বয়স্ক এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করে আওয়ামী লীগের ১০-১২ জন নেতা-কর্মী। পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন, হাসান আলী বুলু, জসিম উদ্দিন, স্বপন, বাসু, সালাহ উদ্দিন, আবুল হোসেন, মুরাদ, হেঞ্জু মাঝি ও সোহাগসহ ১১ জনকে আটক করে। ধর্ষণের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীনকে বহিষ্কার করে দলটি। আসামী সালাহ উদ্দিন ও আবুল হোসেন আদালতে স্বীরোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। ৩ জানুয়ারি নাটোর সদরে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে ইমরান আহমেদ খাজা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তানভীর আহমেদ শাওন আহত হয়। কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভা, উপজেলা উত্তর এলাকা, গোয়ালমারী, সুন্দলপুর, দৌলতপুর ও ইলিয়টগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ, বিএনপির নেতা-কর্মীদের ৫৫টি বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর করে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী নতুন বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে থানা যুবলীগ সভাপতি মতিউর রহমান, ইসমাইল, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল, মনির ও সোহেল মিয়াসহ ১০ জন আহত হয়। এ সময় ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ৪ জানুয়ারি বগুড়ার কাহালুর বাগইল গ্রামে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, সমবায় অফিস ভাংচুর, লুটপাট ও  অগ্নিসংযোগ করে আওয়ামী লীগ। মানিকগঞ্জে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ বাবুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।
৬ জানুয়ারি কুষ্টিয়া সদরের আব্দুল্লাপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মাঈনুদ্দিন বিশ্বাস নিহত হয়। আব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা গ্রুপ ও আলী হায়দার স্বপন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় মাঈনুদ্দিন নিহত হয়। নাটোরের সিংড়ার বামিহাল বাজারে সুকাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ১নং ওয়ার্ড ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোর্শেদুল ইসলামের বাম পা কেটে নেয় আওয়ামী লীগ কর্মী আফজাল হোসেন ও তার লোকজন। সিলেটের ওসমানীনগরের শেরপুর কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ। পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ উমর আলীকে আটক করে। আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ উমার আলী ও সৈয়দ আব্দুল বাছিদ গ্রুপের মধ্যে এই সঘর্ষ হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বিএনপির প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তারের প্রচারণায় হামলা করে আওয়ামী লীগ। প্রথমে যাত্রাপুরে গণসংযোগে ও পরে সোহাগপুরে তার বাড়ীতে হামলা করে। ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এবং সাবেক ছাত্রলীগ শিক্ষা ও পাঠ-চক্র উপ-সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেল চাঁদাবাজির অভিযোগের গণপিটুনীতে নিহত হয়। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে হাট গোবিন্দপুর এলাকায় মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিএনপি গোদাগাড়ী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগ নেতা এলাম উদ্দিন, হাসান ইমাম বাবু ও আবু বক্কর আবুর নেতৃত্বে ৮-১০ জন। ৮ জানুয়ারি বরিশালের উজিরপুরে নবনির্মিত উপজেলা ভবনের ভূমি অফিসের সামনে দৈনিক বরিশাল প্রতিদিন উপজেলা প্রতিনিধি ও উজিরপুর প্রেসক্লাব যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সরদার সোহেলকে মারপিট করে পুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আতাহার আলী খান ও তার সহযোগীরা। কুড়িগ্রাম সদরে নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জুলফিকার আলীকে নানাভাবে অনৈতিক প্রলোভন দেখিয়ে না পেরে পরে মারধর করে আওয়ামী লীগ জেলা সাধারণ সম্পাদক জাফর আলীর ছেলে জাহেদুল ইসলাম সবুজ। পরে পুলিশ সবুজকে আটক করে। 
৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার নারিকেলতলা এলাকায় ফুটপাথের ভাসমান দোকান থেকে চাঁদাবাজী নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে লোকমান, সাইফুল ইসলাম, ইয়াছিন ও ফয়সালসহ ৬ জন আহত হয়। ১০ জানুয়ারি রংপুরের পীরগাছায় চন্ডিপুর গ্রামের ৯ বছরের শিশু টিপু, কাটুম (১৩) ও মাসুদসহ(১৪) ৬ জনকে বেধড়ক পেটান দেয় আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করীমসহ ৪ জন। ফরিদপুরের নগরকান্দায় কাইচাইল গ্রামে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে চান মিয়া ও জেসমিনসহ আহত ১০ জন। আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ রানা গ্রুপ ও কামাল হোসেন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ১২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় মদনপুর এলাকায় আসামী ছিনতাই করতে গেলে আওয়ামী লীগ-পুলিশ সংঘর্ষে আশিকুর রহমান নামে এক পথচারী নিহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা খলিল মেম্বারের দুই সমর্থককে আটক করলে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় এসআই মোহাম্মদ আলী, কনস্টেবল দেবাশীষ, কনস্টেবল মনোয়ার, মোহন ও বাবুলসহ ১৫ জন আহত হয়। বগুড়ার গাবতলীতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ.এইচ.এম আজম খানের স্ত্রী ফেরদৌস আরা খানের ডাব মার্কায় পক্ষে কাজ না করায় হারুনুর রশীদ ও হায়পত আলী, আবু হারেস ও শহীদুল ইসলামদের ছুরিকাঘাত, বাড়ী-ঘরে হামলা, লুটপাট এবং ভাংচুর করে বলে প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে ভূক্তভোগীরা। ১৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সদরে মহিলা এমপি রিফাত আমিনের ছেলে রাশেদ সরোয়ার রুমনকে সংসদ-সদস্য ষ্টিকারযুক্ত গাড়িসহ আটক করে পুলিশ। ১৪ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে দল্টা বাজারে চাঁদাবাজি নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আওয়ামী লীগ নেতা জাকির পাটোয়ারী ও যুবলীগ নেতা জাহিদ হাসান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আরাফাত হোসেন রনি, জাকির হোসেন, কাজল পাটোয়ারী, আব্দুল হালিম মেম্বার, কবির হোসেন সুমন ও আব্দুর রব বাবুসহ ৮ জন আহত হয়।
১৬ জানুয়ারি বগুড়ার নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা টি.এম কামালের ছেলে রুপমকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। ২২ জানুয়ারি নোয়াখালীর খলিফারহাট বাজারে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষে শান্ত, জিয়া, সোলায়মান, সুমন, জসিম, ওহিদ উল্লাহ, মাসুদ, মঞ্জু, মহিন আহমেদ ও সবুজসহ ১২ জন আহত হয়। ঝালকাঠির পেট্রোল পাম্প মোড়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়। নবনির্বাচিত এমপি বি.এইচ হারুনের সংবর্ধনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতা মিলন মাহমুদ বাচ্চু ও আফরোজা আক্তার লাইজু গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ২৩ জানুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীতে কারখানার ওয়েস্টেজ ব্যবসা নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আব্দুর রাজ্জাক হোসেন চৌধূরী শিমুল খুন হয়। আওয়ামী লীগ ৫৩নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া ও যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম গ্রুপের দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটে। গাজীপুরের শ্রীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগের ফারুক হোসেন গ্রুপ ও ইউসুফ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ২৪ জানুয়ারি নেত্রকোনার কমলাকান্দায় বড়খাপন পূর্বপাড়া গ্রামে মন্দিরের মূর্তি ভাঙ্গার দায়ে আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিনের ছেলে ইয়ামিনকে আটক করে পুলিশ। ২৬ জানুয়ারি সাতক্ষীরার তালায় উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে জেলা সভাপতি মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে নেতা-কর্মীরা। ২৭ জানুয়ারি যশোর শহরে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের বাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হামলা করে প্রতিপক্ষ গ্রুপ। একই ভাবে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বাড়ীতেও হামলার ঘটনা ঘটে। ২৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ শিমুলপাড়া থেকে নারায়নগঞ্জ সিটি করপেরেশনের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসেন সর্দারের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী সিব্বিরকে ২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। পিরোজপুর শহরে আওয়ামী লীগের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ.কে.এম.এ আউয়াল ও তার ভাই মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক গ্রুপের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব হয়।
২৯ জানুয়ারি বরিশালের গৌরনদীতে বিলগ্রাম বাজার ও আগৈলঝাড়ায় পাতিহারে আওয়ামী লীগের পৃথক পৃথক সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। গৌরনদী যুবলীগ নেতা সলিল গুহ পিন্টু গ্রুপ ও  আগৈলঝাড়া আওয়ামী লীগ নেতা জামাল গোমস্তা গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে কল্পনা দে, কল্যাণী কাপালী, বিভূতী হালদার, বিপুল গাইন, সাইফুল ইসলাম দরবেশ, জামাল গোমস্তা, ফিরোজ রহমান, মৃত্যুঞ্জয় সরকার ও লক্ষণ দে আহত হয়। পুলিশ যুবলীগ কর্মী টিটু সিকদার, সুজিত রায় ও সুমন গোমস্তাকে আটক করে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে পুলিশের এসআই রবিউল, সাংবাদিক টিপু পাঠান, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম রিপন, আলী আকবর, মাহবুব আলম, দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, মনির হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সুমন, মনু মিয়া, নিবিড় আহমেদ, মাসুদ আলম ও সাগরসহ ২৫ জন আহত হয়। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেনের বিরুদ্ধে কমিটির ৪৯ জন সদস্য দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে অনাস্থা জ্ঞাপন করে। ৩০ জানুয়ারি ঢাকার একটি আদালত আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক মহিলা এমপি পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনিকে ২ জন হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়।
 ছাত্র লীগ : ২ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানার দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ এলাকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তফিউজ্জামান জুয়েলসহ কয়েকজন ঢাবির ছাত্রী সিথি কিবরিয়াকে অপহরণ ও নির্যাতন করে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত একজনকে আটক করে। ৭ জানুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামকে ক্যাফেটরিয়ার সামনে পেটায় ছাত্রলীগ ধীরেন্দ্রনাথ হল শাখা সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত, জুনায়েদ ও মিঠুনসহ বেশ কয়েকজন। ৮ জানুয়ারি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সুবিদখালী সরকারী কলেজে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কলেজ সাধারণ সম্পাদক শাকিল হোসেন শায়েকের হাতে মারধরের স্বীকার হয় মেহেদী হাসান, মীর রাকিব ও শাকিল হোসেন। ৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে গাঁজা ও ইয়াবাসহ সাবেক ছাত্রলীগ হল শাখা স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বিধান চন্দ্র রায়, তার সহযোগী সুবর্ণ বৈদ্য ও ইমরান আহমেদকে আটক করে পুলিশ। ১০ জানুয়ারি ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। জবি ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলাম গ্রুপ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে ফারজানা, শাহরিয়ার শাকিল, রনি, সোহান নাহিদ ও নাফিজসহ ১০ জন আহত হয়। বরগুনার বেতাগীতে বদনীকালী খেয়াঘাটে ২০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রাফান জোয়ার্দার আকাশ ও  তোফায়েল হোসেন তপুকে আটক করে পুলিশ। ১২ জানুয়ারি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১ লাখ টাকার ফার্নিচার সরবরাহ নিয়ে প্রভোস্ট ও রিজেনট বোর্ডের সদস্য ডঃ ইকবাল কবীর জাহিদকে মোবাইলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং হত্যা করার হুমকি দেয়। 
১৩ জানুয়ারি জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বয়ড়া এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা সাগর মিয়ার মাদক কারবারী নিয়ে পলাশ নামে এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করে এবং পরে ১৪ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় পলাশ মারা যায়। ১৪ জানুয়ারি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১টি বিদেশী পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ ভাঙ্গা উপজেলা সভাপতি লুৎফার রহমান মোল্লাকে চালপট্টি থেকে আটক করে পুলিশ। ১৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সোনাগাঁওয়ে পৌর সভার গোয়ালদী ও টিপুরদী এলাকা থেকে গার্মেন্টের কাপড় ছিনতাই কারার অভিযোগে ছাত্রলীগ পৌর সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ সাজু, কর্মী রিয়াদ হোসেন রনি ও মামুনকে আটক করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ