ঢাকা, রোববার 10 February 2019, ২৮ মাঘ ১৪২৫, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এটা শুধু বাংলাদেশের সংকট নয়

তিন তরুণ বন্ধুকে অপহরণ করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর এবং টাঙ্গাইল জেলার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৭ ফেব্রুয়ারি কালিয়াকৈর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল্লাহ আল মামুন ও মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অপহরণ ও মুক্তিপণের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য। তবে একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গত বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ব্যক্তিগত গাড়িতে রাজধানীর বাণিজ্য মেলার উদ্দেশে রওয়ানা হন পাঁচ বন্ধু। বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সূত্রাপুর এলাকায় শিলা-বৃষ্টি ফিলিং স্টেশনে যান গ্যাস নিতে। গ্যাস নেয়ার সময় তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান গাড়ি থেকে নেমে পাশের দোকানে চা খেতে যান। বাকিরা গাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় দু’টি গাড়ি নিয়ে সেখানে হাজির হন এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুন ও মুসফিকুর রহমান। তাঁরা সাদা পোশাকে ছিলেন। মুসফিকুরের মাইক্রোবাসে সাদা পোশাকের আরও কয়েকজন লোক ছিলেন। ওদের চার-পাঁচজন রায়হানসহ তিন বন্ধুকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মাইক্রোবাসে তোলেন। রায়হান বলেন, তাঁদের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের দেওড়া এলাকায় নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। দাবি করা টাকা না দিলে ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। পরে বেশ কিছু সময় তাঁদের সঙ্গে টাকা নিয়ে দরকষাকষি হয়। এক পর্যায়ে দুই এএসআই ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানান। এদিকে অপহরণের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া দুই বন্ধু তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল মুঠোফোনে পুরো ঘটনা কালিয়াকৈর থানার পুলিশ এবং অপহৃত তিন বন্ধুর পরিবারের সদস্যদের জানান। অভিযোগ জানার পর কালিয়াকৈর থানা থেকে একটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হন যে, এএসআই মামুন ও মুসফিকুর এই অপহরণের সঙ্গে জড়িত।
অপহরণের সঙ্গে পুলিশের জড়িত থাকার এই যে ঘটনা, তা কিন্তু নতুন নয়। আগেও এ ধরনের ঘটনার সাথে পুলিশকে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। অন্য ধরনের অপরাধের সাথেও কিছু পুলিশ সদস্যকে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে। আবার অপরাধপ্রবণ পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার কাজটিও কিন্তু পুলিশ সদস্যরাই করেছেন। ফলে আমরা পেলাম দু’টি চিত্র। কেউ দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে সঙ্গত কাজ করছেন। আবার কেউ নিজেই দুষ্ট হয়ে পুলিশের ভাব-মর্যাদা বিনষ্ট করছেন। এখানে বিবেচনার বিষয় হলো, রাষ্ট্র ও জনগণ কোন্্ ধরনের পুলিশ চায়? কাক্সিক্ষত পুলিশের পরিচয়তো সবার জানা আছে? জানা আছে রাষ্ট্র এবং পুলিশ প্রশাসনেরও। কিন্তু কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে বাংলাদেশ পৌঁছতে পারছে না কেন? সংকট কোথায়? সংকটের গভীরে গেলে লক্ষ্য করা যাবে ক্ষমতার স্বার্থে, দলীয় স্বার্থে, আরও কতিপয় ক্ষুদ্রস্বার্থে আমরা যথাকাজ যথাভাবে করতে পারছি না। নৈতিক এমন অবক্ষয় শুধু বাংলাদেশের সংকট নয়, সংকট বর্তমান সভ্যতার। আমরা তো চাই, সভ্যতার এই সংকট মোচনে বাংলাদেশ সৃষ্টি করুক অনন্য উদাহরণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ