ঢাকা, সোমবার 11 February 2019, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মার্কিন সাহায্য নিয়ে আফগানিস্তান ধ্বংস হয়েছে  ---মাদুরো

১০ ফেব্রুয়ারি, পার্সটুডে :  ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার দেশে পাঠানো মার্কিন ত্রাণকে উপহাস করে বলেছেন, এর আগে মার্কিন ত্রাণ গ্রহণ করে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও লেবানন ধ্বংস হয়েছে।

গত শনিবার রাজধানী কারাকাসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত মানবিক ত্রাণকে ‘বিষ’ বলে অভিহিত করেন তিনি। কোনো অবস্থাতেই এই ত্রাণ ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন। যুক্তরাষ্ট্র ত্রাণের নামে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করতে চায় বলে দাবি করেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো।

মার্কিন সরকার ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একই সময়ে সে দেশে মানবিক ত্রাণ পাঠিয়েছে। ত্রাণের খাদ্য ও ওষুধবাহী কিছু ট্রাক বৃহস্পতিবার কলম্বিয়ার সীমান্ত শহর কুকুটায় পৌঁছায়।

 ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো গতমাসে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমর্থন নিয়ে নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্র্বতীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়।

 ভেনেজুয়েলা সরকার গুয়াইদো’র ওই ঘোষণাকে অভ্যুত্থান করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি দেশটিতে প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপ করার হুমকি দিয়েছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণা সত্ত্বেও চীন, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক ও মেক্সিকোসহ আরো কিছু দেশ ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে। আর গুয়াইদোকে সমর্থন দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ল্যাটিন আমেরিকার বড় কয়েকটি দেশ।

পাকিস্তানে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

১০ ফেব্রুয়ারি, রয়টার্স : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ায় পাকিস্তানের এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। গত শনিবার সকালে তাঁকে নিজ বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিকের ছেলে।

রিজওয়ান রাজি, লাহোরের বেসরকারি টিভি চ্যানের দীন টিভিতে কর্মরত। পাকিস্তানের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, বিচারব্যবস্থা, সরকারি ও গোয়েন্দা পরিষেবার সম্পর্কে ‘অপমানজনক ও আপত্তিকর’ মন্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, এ বিষয়ে সরকারি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রিজওয়ান রাজির ছেলে ওসামা গত শনিবার সকালে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার বাবা কয়েকজন বন্ধুকে বিদায় জানাতে ঘর থেকে বের হন। যখন তাঁর বন্ধুরা চলে যান, তখন কয়েকজন আগন্তুক আসেন। তাঁরা হোন্ডা ব্র্যান্ডের কালো সিভিক গাড়ি নিয়ে আসেন। বাবাকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করে গাড়িতে তোলা হয়। আমি গাড়ির পেছনে পেছনে দৌড় দিই। তবে কিছু করতে পারিনি।’

পাকিস্তানের তদন্তকারী সংস্থা দ্য ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি রিজওয়ান রাজিকে এর আগে টুইটারে এক মন্তব্যের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করারও অনুমোদন নেওয়া হয়। এফআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে টুইটারে সরকারবিরোধী মন্তব্য করে আসছেন রিজওয়ান। তখনো পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। সেবার ক্ষমা চেয়ে রেহাই পান।

গত বছর নির্বাচনে পর তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর থেকেই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে পড়েছেন সাংবাদিকেরা এমন অভিযোগ উঠেছে। সরকারের ক্রমবর্ধমান চাপে কঠিন সময় পার করছে পাকিস্তানের বিভিন্ন মিডিয়া। তাদের বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমেছে। এ কারণে নিউজরুমের বাজেটও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মিডিয়ায় চাপ প্রয়োগ করার বিষয়টি অস্বীকার করছে সরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ