ঢাকা, সোমবার 11 February 2019, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

তদন্ত চান না ট্রাম্প

‘রাত পোহাতেই সুর পাল্টালেন ট্রাম্প’- এমন শিরোনাম থেকে ট্রাম্পের চরিত্রের একটা বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করা যায়। ৮ ফেব্রুয়ারি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে প্রতিহিংসা, প্রতিরোধ ও প্রতিশোধ ভুলে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ১২ ঘণ্টা যেতে না যেতেই সেই আহ্বান ভুলে কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বাকযুদ্ধে নেমে পড়েছেন তিনি। এমন চিত্রে উপলব্ধি করা যায়, কথা ও কাজে মিল রাখার যে নৈতিকতা তা রক্ষায় তিনি তেমন উৎসাহী নন।
ট্রাম্পের ক্ষোভের মূল কারণ কংগ্রেসে ডেমোক্রেটদের গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটির প্রধান অ্যাডাম শিফ। এই ডেমোক্র্যাট নেতা ট্রাম্পের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নতুন তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন তার এবং পরিবারের আর্থিক বিষয়ে কোনো তদন্ত সহ্য করবেন না তিনি। প্রথম দুই বছর রিপাবলিকান দল কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এ ব্যাপারে কোন সমস্যা হয়নি। এখন অবস্থা বদরে গেছে। অ্যাডাম শিফ গত বুধবার বলেন, শুধু রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক লেনদেন নয়, অন্য যে কোনো বিদেশি সরকার বা সংস্থার সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়েও কমিটি তদন্ত করবে। ট্রাম্প অথবা তার পরিবার অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত, এ সংক্রান্ত সব প্রতিবেদন কমিটি খুটিয়ে খুটিয়ে দেখবে। শিফ আরো বলেন, ট্রাম্পের কার্যকলাপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিপদগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা এই কমিটির এখতিয়ারে পড়ে। এমন অবস্থায় গত বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ্যাডাম শিফকে একজন ‘ভাড়াটে রাজনীতিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এই লোকটার একমাত্র লক্ষ্য নিজের জন্য নাম কেনা। আর গোয়েন্দা কমিটির তদন্তের নতুন ঘোষণা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এই তদন্তের একটাই লক্ষ্য, দেশের প্রেসিডেন্টকে হয়রানি করা।’
তদন্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি চান না তার এবং পরিবারের আর্থিক বিষয়ে কোন তদন্ত হোক। তদন্ত এখনতো শুধু আর্থিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না, ট্রাম্পের কার্যকলাপে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিপদগ্রস্ত হয়েছে কিনা সেই বিষয়টাও যুক্ত হচ্ছে। একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এসব বিষয়ে তদন্ত জনগণের জন্য বেশ উদ্বেগের বিষয়। এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন কেলেংকারি ও মিথ্যা বলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। আর কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এতোসব অভিযোগ ওঠেনি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নৈতিক অবক্ষয়ের মাত্রা কি বেড়েই চলেছে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ