ঢাকা, সোমবার 11 February 2019, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মাদকের মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে আইন সংশোধন করা হবে -আইনমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার: মাদকের মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানালেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন একটি রায় দিয়েছে। মাদকের মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এটা করতে হলে আইনে কিছু সংশোধনী আনতে হবে। সেটাকে সামনে রেখে আমরা এই অধিবেশনেই আইনের সংশোধনী উপস্থাপন করব।
গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক একটা ব্যাধি, এটাকে নির্মূল করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই ব্যাপারে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণা মনে রেখে আমরা মাদকের মামলাগুলো যে মুহূর্তে তদন্ত শেষ করে কোর্টে আসছে সেসব মামলা শুরু করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। শুধু তাই না শুরু করে সাক্ষী সাবদ দিয়ে শেষ করার তড়িৎ চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা সাক্ষী না আসার কারণে অনেক সময় মামলা এগোতে পারে না। সেই ব্যাপারে আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেখানে কিভাবে সাক্ষীকে উপস্থাপন না করে যাতে সে হুমকিতে না পড়ে সেরকম ব্যবস্থা করার জন্য মামলাগুলো তাড়াতাড়ি চালানো যায়, সেরকম ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখনই ফলদায়ক হচ্ছে। তারা পাশাপাশি যদিও এটা সম্ভব কি না দেখতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন কয়েক দিন আগে একটি রায় দিয়েছেন মাদকের মামলা ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। মাদকের মামলা ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে হলে সেখানে আইনের কিছু সংশোধনী প্রয়োজন হয়। সেই সংশোধনী এই অধিবেশনের মধ্যেই আমরা এখানে উপস্থাপন করব। যাতে হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে পারি।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান সরকার ও মো. ইসরাফিল আলমের পৃথক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুরনো মামলাগুলো বিশেষ করে যেগুলো ৩০ বছর জমে ছিল সেগুলোকে আগে যেন শেষ করা হয়। যেই সমস্যার কথা বলছেন এই সমস্যাটা সঠিক। এই সমস্যাটা বিচার বিভাগের বহুদিন আগ থেকে। আজকে পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত না হলেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যাতে এইরকম মামলা নিষ্পত্তি তড়িৎ হয় এবং এখন নতুন মামলা হচ্ছে সেগুলো যেন তড়িৎ নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
এম আবদুল লতিফের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অন্যতম একটি প্রতিবন্ধকতা হলো এজলাস সংকট। এজলাস স্বল্পতা দূর করে সর্বোচ্চ কর্মঘণ্টা ব্যবহার করে বিচার কাজে গতিশীলতা আনয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলা সদরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৮টি জেলায় ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৪টি জেলায় সম্পূর্ণ ভবন নির্মাণ শেষে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। বাকি ১৪টি জেলার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
জামায়াতের বিচারে আইন সংশোধন করা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার প্রক্রিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে পুনরায় ওই সংশোধনী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হবে, যাতে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা যায়। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নে তিনি জানতে চান, যুদ্ধাপরাধীর দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না, থাকলে তা কী?
আনিসুল হক জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের একাধিক মামলার রায়ে আদালত জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিল মর্মে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ