ঢাকা, সোমবার 11 February 2019, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চলনবিলের মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে

কাজ করছে একজন মৃত শিল্পী

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : চলনবিলের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও সলঙ্গাসহ থানার পালপাড়া গ্রামের মানুষের জীবন জীবিকা যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে মৃৎশিল্প। তাই অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা অবলম্বন করলেও এখনো শতাধিক পরিবার পূর্বপুরুষের পেশা নিয়ে জীবন যুদ্ধ করছেন।
জানা গেছে, সময়ের অবর্তনে প্রযুক্তির উন্নয়নে প্লাস্টিক, মেলামাইল ও সিরামিকের জিনিস পত্রের সহজলভ্যতা এবং এসবের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কদর কমে গেছে মাটির তৈরি পণ্য সামগ্রীর। ফলে মাটির তৈরি মৃৎশিল্পের সামগ্রী তৈরি ও বিক্রির কাজ করে মৃৎশিল্পীদের পোষাচ্ছেনা। কিন্তু তার পর কর্মসংস্থানের অভাব ও বাপ দাদার ঐত্যিহ্য ধরে রাখতে এই পেশার সাথে জড়িয়ে রয়েছে অনেক পরিবার। শুধু সলঙ্গা থানার পালপাড়া গ্রামের রয়েছে শতাধিক পাল পরিবার। আদি যুগ থেকে পাল বংশের লোকেরা এই পেশায় সম্পৃক্ত থাকায় তাদের পেশা অনুযায়ী গ্রামের নাম হয়েছে পালপাড়া।
এই গ্রামের রনজিদ পাল, সোহাগি রানী পালসহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, পালের নানা ইতিহাস ও ঐত্যিহ্যের কথা। তারা তাদের সন্তানদের অনেককে এই পেশায় সম্পৃক্ত না করলে ও জীবনের বাকি দিনগুলো তারা পূর্বপুরুষের পেশা নিয়েই থাকতে চান কিন্তু বছরের বেশির ভাগ সময় তাদের হাতে কাজ থাকেনা। গ্রাম হাট বাজারে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তৈরি করা জিনিসপত্র নিয়ে অলস সময় বসে থাকতে দেখা যায় কুমারদের।
পাল পাড়ার রনজিদ পাল জানান তার ২ পুত্র আর ১ কন্যা নিয়ে ৫ সদেস্যের সংসারে অভাব অনাটন এখন নিত্যসঙ্গী। বাপ দাদার পেশা আঁকড়ে থাকতে গিয়ে বসতভিটা ও আজ বন্ধকী ভিটায় পরিণত হয়েছে। এ শিল্পকে বাঁচাতে হলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রদান না করিলে বিলীন হয়ে যাবে কুমার শিল্পী।
এ ব্যাপারে পালপাড়া গ্রামের শ্রীমতি পাল বলেন, আগের চেয়ে এখন মাটির দাম অনেক বেশি, এবং মাটি আমাদের এলাকায় পাওয়া যায় না অনেক দূর থেকে মাটি আনলে খরচ বেড়ে যায়। তাই আমরা লাভের মুখ দেখিনা। এক সময় চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রসার ছিল মৃৎ শিল্পীদের তৈরি ঘট, ধুপোতি, কলস, ডিয়ার, ফুলের টপ, কলস, হাড়ি পাতিল, গামলা।
অন্যদিকে মেলা ও ঈদ এলে পাল পাড়ায় ঘূম হারাম হয়ে যেতো। দিন রাত মাটির তৈরি জিনিস পত্র তৈরিতে ব্যাস্ত থাকতো পুরো কুমার পাড়া।
তবে স্থানীয় অনেকেই জানান, মৃৎশিল্পকে আধুনিক করন করতে এদেরকে বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার ১ লা বৈশাখ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করা প্রয়োজন। মৃৎশিল্প ধ্বংসের কারণ হলো বাজারে বিভিন্ন ধরনের মেলামাইন, প্লাস্টিক ব্যবহারের কারণে এবং মাটির দাম বেশি হওয়ায় মৃৎশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ