ঢাকা, মঙ্গলবার 12 February 2019, ৩০ মাঘ ১৪২৫, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরের গালা ইউনিয়নের নাট্যচর্চার চার দশক (১৯৩৫-১৯৭৬)

ড. আশরাফ পিন্টু:

প্রাচীনকাল থেকেই এ দেশে যাত্রাপালা বা নাটকের প্রচলন রয়েছে।  বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন “চর্যাপদ”-এ “বুদ্ধনাটক”-এর উল্লেখ দেখা যায়। পনের শতকে “শ্রীকৃষ্ণকীর্তন” কাব্য এবং তার পরবর্তী  মঙ্গলকাব্যসমূহে নাটকের বহু উপাদান পাওয়া যায়। “শ্রীকৃষ্ণকীর্তন”-এর গান ও সংলাপ, মঙ্গল গান এবং পাঁচালির ছন্দে গীত রামায়ণ মহাভারত যাত্রাগানের প্রেরণাস্থল ছিল। এ সব যাত্রাগান আমাদের লোকমানসে এক সময় (আঠারো-উনিশ শতকে) ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা অনেক পূর্ব থেকেই শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অগ্রসরমান। হযরত শাহ মখদুম শাহদৌলা ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদচারণা  অনেকাংশেই এ ভূমিকে করেছে উৎকর্ষ সাধন। শুধু সদরে নয়, এ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও শিক্ষা-সংস্কৃতির ধারা প্রবাহিত হয়েছে  তখন থেকেই। বিশ শতকের ত্রিশ থেকে সত্তর দশকের গালা ইউনিয়নের সংস্কৃতির ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় নাট্যচর্চায় এ ভূমি অনেকটাই উর্বর। সে সময়ের ওই এলাকার নাট্যচর্চার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নিয়েই আমার আলোচ্য প্রবন্ধ। 

সে সময়ে গালা ইউনিয়নে ফুটবল, ভলিবল, হাডুডু প্রভৃতি খেলা যেমন প্রচলিত ছিল তেমনি  শীতের মৌসুমে নাটক মঞ্চ হতো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রাম ছিলÑ গোপীনাথপুর, বিনোটিয়া, ফকিরপাড়া, ভেড়াখোলা, দেওয়ান তারুটিয়া, বায়রা, বাসুরিয়া প্রভৃতি। গোপীনাথপুর গ্রামের খবির উদ্দিন সরকার সংস্কৃতির রসাস্বাদনে ১৯৩৫ সালে “আসমান সিংহের পালা” নামক লোকনাট্যে অভিনয় করে নাড়া দেন গ্রামের যুবসমাজে। এ কথা শুনে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (খবির উদ্দিন সরকারে বড়ভাই) মোহাম্মদ আলি সরকারের বজ্রনিনাদে কম্পমান  সরকার পরিবারের সকল সদস্য। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এক সময় হার মানতে হয় মোহাম্মদ আলি সরকারকে। বরং পরবর্তীতে তার পরিবারেরই অধিকাংশ সদস্য একের পর এক নাটক মঞ্চস্থ করতে থাকেন গালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

১৯৪৬ সালে ডিসেম্বরে বড়দিনের ছুটিতে ভেড়াখোলার মঙ্গন বসুর বাড়িতে নিশিকান্ত বসু রায় রচিত “বঙ্গেবর্গী” নাটক মঞ্চস্থ হয়। এতে মিরজাফরের ভূমিকায় অভিনয় করেন মোহাম্মদ আলি সরকারের বড় ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন। তার চাচাত ভাই নুরুল ইসলাম মারাঠা সৈনিকের ভূমিকায় অভিনয় করেন। লুৎফার চরিত্রে অভিনয় করেন একই গ্রামের (গোপীনাথপুরের) ওয়াজেদ আলি। সিরাজের চরিত্রে অভিনয় করেন ময়নাল হক মিয়া। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে মঙ্গন বসু, বাকী মিয়া, রোস্তম মিয়া, মোফাজ্জেল মিয়া, মাহমুদ আলি  প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। “বঙ্গেবর্গী” পর পর দুই রজনী অভিনীত হয়। ছেলের লেখাপড়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এ জন্যে মোহাম্মদ আলি সরকার তার বড় ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেনকে দ্বিতীয় রজনীতে অভিনয় করার সুযোগ না দিয়ে পাবনা পাঠিয়ে দেন। মোয়াজ্জেম হোসেন তখন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।  এরপরও  তাকে অভিনয় থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। 

১৯৪৯ সালে বিনোটিয়া গ্রামের জমিদার সুশীল সরকারের বাড়িতে “টিপু সুলতান” নাটক মঞ্চস্থ হয়। এতে গোপীনাথপুর গ্রাম থেকে ৩ জন অংশগ্রহণ করেন। তারা হলেনÑ মোয়াজ্জেম হোসেন, তার চাচা কালু সরকার ও চাচাত ভাই নুরুল ইসলাম। মোয়াজ্জেম হোসেন মসিয়েলালী, নুরুল ইসলাম নানাফারনবিস, কালু সরকার পূর্ণিয়া, হায়দার আলির চরিত্রে সুশীল সরকার (জমিদার), টিপু সুলতান ডা. নৃপেন  সরকার (বুধা ডাক্তার), করিম শাহ অজিত সরকার এবং নিজাম চরিত্রে ময়নাল হক মিয়া অভিনয় করেন। নারী চরিত্রেÑরুনি বেগমের চরিত্রে অভিনয় করেন ওয়াজেদ আলি, কৃষ্ণা বাঈয়ের চরিত্রে মজিবর রহমান এবং সোফিয়ার চরিত্রে অভিনয় করেন সুবল সূত্রধর। 

১৯৫০ সালে জানুয়ারি মাসে বিনোটিয়া জমিদার বাড়িতে “কেদার রায়” নাটক মঞ্চস্থ হয়। “কেদার রায়” নাটকের কুশীলবগণ :

চাঁদ রায় অনুকুল নিয়োগী গ্রাম-বিনোটিয়া

কেদার রায় সুশীল সরকার ঐ

মুকুট রায় শ্রীকৃষ্ণ ঘোষ ঐ

ঈশা খাঁ ময়নাল মিয়া ঐ

শ্রীমন্ত শুকচাঁদ ঘোষ ঐ

কালু খাঁ আকমল হোসেন ঐ

মাননিংহ কালু সরকার  গোপীনাথপুর

সোনা ওয়াজেদ আলি ঐ

কার্ভালো মজিবর রহমান   ভেড়াখোলা

সুনন্দা কালী কর্মকার ঐ

মায়া টুকুমিয়া তলট।

অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন-Ñআব্দুল ওহাব, আবু ইউসুফ, হরিপদ সূত্রধর, সন্ধি সরকার প্রমুখ। নাটকটি পরিচালনা করেন জমিদার সুশীল সরকার। 

১৯৫৬ সালের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে আলোক সমিতির সদস্যরা দুটি নাটক মঞ্চস্থের সিদ্ধান্ত হয় । ১. অতুলানন্দের “পানিপথ” ২. শওকত ওসমানের “কাঁকরমণি”।  এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে গালা চন্দ্র বাড়ির বৈঠকখানায় রিহার্সেল শুরু হয়। “পানিপথ” ২০ মে এবং “কাঁকরমণি” ২১ শে মে মঞ্চস্থ হয়। 

 “পানিপথ” নাটকে যারা অভিনয় করেন :

বাবর মো. মর্তুজ আলি  গোপীনাথপুর

হুমায়ুন প্রভাত চন্দ্র ঘোষ গালা

ইব্রাহিম লোদি চন্দ্রভূষণ সরকার ঐ

শংকর নিত্যানন্দ ভৌমিক ঐ

মামুদ সুলতান মাহমুদ বায়রা

দাহির আব্দুস শুকুর চরবর্ণিয়া

সংগ্রাম সিংহ হেদায়েত আলি বাশুরিয়া

লায়লা নারায়ণ কর্মকার গালা প্রাইমারি স্কুলের প্রধানশিক্ষক

কর্ণবতী হিরেণ দাস কাশিপুর

দরিয়া মোহাম্মদ আলি বাশুরিয়া

দেলেরা আব্দুল কুদ্দুস ভুল বায়রা।

অন্যান্য চরিত্রে শহিদুল্লাহ, মজিবর, ক্ষিতীশ, রামমোহন প্রমুখ অভিনয় করেন। নাটকটি পরিচালনা করেন মো. মর্তুজ আলি।

“কাকরমণি” নাটকে যারা অভিনয় করেছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন : হেদায়েত আলি (বাশুড়িয়া), চন্দ্রভূষণ সরকার(গালা), মর্তুজ আলি (গোপীনাথপুর), নারায়ণ কর্মকার (গালা প্রাইমারি স্কুলের প্রধানশিক্ষক), প্রভাত চন্দ্র ঘোষ (গালা) উল্লেখযোগ্য। নারী চরিত্রে রূপদান করেন : হিরেণ দাস (কাশিপুর), সুলতান মাহমুদ (বায়রা)। 

১৯৫৬ সালের ৩০/৩১ ডিসেম্বর আলোক সমিতির উদ্যোগে এম আব্দুল হামিদের “আলিবর্দি” নাটক গালা চন্দ্র বাড়িতে মঞ্চস্থ হয়। নাটকটি পরিচালনা করেন মো. মর্তুজ আলি। এতে যারা রূপদান করেন :

আলিবর্দি হেদায়েত আলি বাশুড়িয়া

সিরাজ মো. মর্তুজ আলি গোপীনাথপুর

মিরজাফর আবুল কাশেম বিলকলমি

 মোস্তফা খাঁ জটু মিয়া   ভেড়াখোলা

মোহনলাল সুলতান মাহমুদ বায়রা

ভাস্কর প-িত কালু সরকার গোপীনাথপুর

তানোজি নিত্যানন্দ ভৌমিক গালা

বাপুজি মোস্তফা আবু জাফর গোপীনাথপুর

পুরন্দর আব্দুল কুদ্দুস ভুল বায়রা

শান্তিরাম আহসান মাস্টার ছোট মহারাজপুর

রাজবল্লভ সূর্য শীল ভেড়াখোলা

মাধুরী হিরেণ দাস কাশিপুর

  গৌরী ওয়াজেদ আলি গোপীনাথপুর

লুৎফা প্রভাত ঘোষ গালা।

অন্যান্য চরিত্রে রূপদান করেন- মোজাহার, মজিবর ও শহিদুল্লাহ।

১৯৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে আলোক  সমিতির উদ্যোগে রাজেন্দ্র কুমার দে রচিত “বঙ্গবীর” নাটক মঞ্চস্থ হয় গালার চন্দ্রবাড়িতে। নাটকটি পরিচালনা করেন মো. মর্তুজ আলি।  এ নাটকের পাত্র-পাত্রীরা হলেন :

সিংহ বাহু চন্দ্রভূষণ সরকার গালা

বিজয় সিংহ মো. মর্তুজ আলি গোপীনাথপুর

সুমিত্র প্রশান্ত ভৌমিক গালা 

অজয় সিংহসুলতান মাহমুদবায়রা

শালি বাহন কালু সরকার গোপীনাথপুর

ইন্দ্রনীল আবুল কাশেম বিলকলমি

অগ্নিমিত্র হেদায়েত আলি বাশুড়িয়া

পুরঞ্জয় জটু মিয়া ভেড়াখোলা

মেঘা আব্দুল হাকিম করশালিকা

গোরা আব্দুস শুকুর চরবর্ণিয়া

লম্বকর্ণ মোবারক হোসেন গোপীনাথপুর

চৈতন্য শহিদুল্লাহ গোবিন্দপুর

কুবেণী প্রভাত ঘোষ গালা

ত্রিবেণী হামিদুল হক ভেড়াখোলা

ভারতী সুশীল গালা

মীনাক্ষী বিনয় চন্দ্র গালা।

১৯৬০  সালের জানুয়ারি মাসে আলোক সমিতির উদ্যোগে গোলাম রহমানের “উদয়নামা” নাটক মঞ্চস্থ হয় গালার চন্দ্রবাড়িতে। নাটকটি পরিচালনা করেন মো. মর্তুজ আলি।  এ নাটকের পাত্রপাত্রীরা হলেন :

মিরকাশেম মো. মর্তুজ আলি গোপীনাথপুর

মিরজাফর হেদায়েত আলি বাশুড়িয়া

নন্দকুমার আব্দুল মান্নান ঐ

জগৎশেঠ মোবারক হোসেন গোপীনাথপুর

রায় দূর্লভ আব্দুস শুকুর চরবর্ণিয়া

ওয়ারেন হেস্টিং নৃপেন সরকার বিনোটিয়া

ডেভিড কফিল উদ্দিন করশালিকা

লুৎফা প্রভাত ঘোষ গালা

মণি বেগম হিরেণ দাস কাশিপুর।

 

১৯৬১ সালে বিনোটিয়ার জমিদার বাড়িতে “ললিতাদিত্য” নামক নাটক মঞ্চস্থ হয়। এতে নায়ক জয়ন্তের ভূমিকায় রূপদান করেন মোহাম্মদ আলি সরকারের মেজছেলে মর্তুজ আলি। এ নাটকে অন্যান্য চরিত্রে যারা ছিলেন তারা হলেন :

ভূপাল সেন ময়নাল হক মিয়া বিনোটিয়া

ললিতাদিত্য নৃপেন সরকার ঐ

জয়াপির আজিজুল হক ঐ

বিজয় আব্দুর রউফ ঐ

রানি সুশীল গালা

চম্পা অনীল সূত্রধর স্বরূপপুর।

 

নাটকটি পরিচালনা করেন জমিদার সুশীল সরকার। এ ছাড়া বিনোটিয়া জমিদার বাড়িতে মোগল পাঠান, চন্দ্রগুপ্ত, কিশোর কুমারী, পার্থ সারথী, ইরান দুহিতা প্রভৃতি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।

১৯৬৫ সালে মো. মর্তুজ আলির পরিচালনায় “রিহার্সেল” নাটক মঞ্চস্থ হয়। এতে অভিনয় করেন মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার ছোটভাই মালিক আব্দুর রহিম।

১৯৬৬ সালে সরকার বাড়ির বড় ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিচালনায় তার নিজবাড়ির উঠোনে মঞ্চস্থ হয় জালাল উদ্দিনের “গায়ের বুকে” নাটক। এ নাটকে মোয়াজ্জেম হোসেনের তিন সহোদর একসঙ্গে অভিনয় করেন। এ নাটকটি ব্যাপক দর্শক নন্দিত হয়। আশেপাশের আট-দশ গ্রাম থেকে প্রচুর দর্শকের সমাগম হয়। এ নাটকের উল্লেখযোগ্য পাত্র-পাত্রীরা হলেন :

চেরাগ আলি মুন্সি মোয়াজ্জেম হোসেন

মালেক কেরানি মো. মর্তুজ আলি (ঐ অনুজ)

ফালু মোস্তফা আবু জাফর (ঐ অনুজ)

সাহেব আলি ব্যাপারী মালিক আব্দুর রহিম (ঐ অনুজ)

কালু নাজিম উদ্দিন (ঐ চাচাত ভাই)

১৯৬৭ সালে ফকিরপাড়া গ্রামে “গাঁয়ের বধূ” নাটক মঞ্চস্থ হয়। নাটকটি পরিচালনা ও আবেদ খন্দকারের ভূমিকায় অভিনয় করেন মোস্তফা আবু জাফর। ছাবদার খাঁর ভূমিকায় অভিনয় করেন মালিক আব্দুর রহিম এবং কাশেমের ভূমিকায় অভিনয় করেন রাশিদুল হাসান। 

১৯৬৯ সালে বিনোটিয়া গ্রামে মঞ্চস্থ হয় “ইরান দূহিতা” নাটক।  এতে শাহজাদা সেলিমের চরিত্রে অভিনয় করেন মোস্তফা আবু জাফর। অন্যান্যদের মধ্যেÑ আকবর চরিত্রে আজিজুল হক, আনারকলি (নারী চরিত্রে) বিনোটিয়া গ্রামের বিনয় কুমার সূত্রধর এবং অরুণ চরিত্রে আবু ইউসুফ অভিনয় করেন। 

১৯৭৬ সালে শ্রী রঞ্জন দেবনাথের “এক মুঠো অন্ন চাই” নাটক মঞ্চস্থ হয় সরকার বাড়ির উঠোনে। নাটকটি পরিচালনা করেন মোয়াজ্জেম হোসেনের চাচাত ভাই আব্দুস সালাম। অভিনয় করেন তার তিন ছেলে ও চাচাত ভাইয়েরা। এ নাটকে উল্লেখযোগ্য পাত্র-পাত্রীরা হলেন :

শিক্ষিত অর্ধ-পাগল মনজুর কাদির (মোয়াজ্জেম হোসেনের ছোটভাই)

জমিদার মহেন্দ্র প্রতাপ আনোয়ার হোসেন জোসনা (মোয়াজ্জেম হোসেনের চাচাত ভাই)

ঐ বখে যাওয়া ছেলে মনোয়ার হোসেন (মোয়াজ্জেম হোসেনের বড়ছেলে)

স্ত্রী চরিত্রে (নায়িকা) মোশাররফ হোসেন পান্না (মোয়াজ্জেম হোসেনের মেজছেলে)

শিশু চরিত্রে আশরাফ পিন্টু (মোয়াজ্জেম হোসেনের ছোটছেলে)

বাঘাবাগদি আব্দুস সালাম (পরিচালক)

নায়ক চরিত্রে আব্দুল মান্নান।

এরপর অনেক  সময় গড়িয়ে গেছে। অভিনয়ের সাথে জড়িত প্রায় সকলেই কর্মের অন্বেষণে শহরমুখী হন। কর্মব্যস্ততার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্য সংখ্যা। আর কমতে থাকে গ্রামের নিখাঁদ বিনোদন। আবার এরই মধ্যে অনেকেই হয়েছেন গত। কেউ কেউ বয়সের ভারে দিন গুণছেন পরপারের।  তবু তারা  বা তাদের বংশধরেরা গ্রামের কথা একবারে ভুলে যান নি । ঈদ বা পুজোর ছুটিতে মাঝে মাঝে মিলিত হন সকলে। কিন্তু আগের মতো আর নাটক করা হয়ে ওঠে না তাদের। 

তথ্যসূত্র

১. মো. মর্তুজ আলি, যতটুকু মনে পড়ে, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, ২০১৪।

২. খ. ম  আসাদ, বেড়া উপজেলার নাট্যান্দলন, নন্দিতা প্রকাশ, ঢাকা, ২০১১।

৩. ড. আশরাফ পিন্টু, সাহিত্যিক প্রবাদে সমাজ, দেশজ, ঢাকা, ২০১৮।

৪. তথ্যদাতা : মনোয়ার হোসেন, গ্রাম- গোপীনাথপুর, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, পেশা-অধ্যাপনা, বয়স-৫৯।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ