ঢাকা, মঙ্গলবার 12 February 2019, ৩০ মাঘ ১৪২৫, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বই মেলায় কাব্যগ্রন্থ আর উপন্যাসের দাপট

ইবরাহীম খলিল : মেলার এগারতম দিনে এসে বাংলা একাডেমিতে নতুন বই জমা পড়েছে ১২৪টি। এ নিয়ে গত দশ দিনে নতুন বই জমা পড়েছে ১ হাজার ৫ শত ২৮টি। গল্প-উপন্যাস-কবিতা-প্রবন্ধ-অনুবাদ-শিশু সাহিত্য সব ধরনের বই আছে এ তালিকায়।
বাংলা একাডেমির হিসাব অনুযায়ী, সাহিত্যের বিভাগ অনুযায়ী বই জমা পড়েছে: গল্প ১০৭টি, উপন্যাস ১২২টি, প্রবন্ধ ৪৫টি, কবিতা ১৬১টি, গবেষণা ১২টি, ছড়া ২৩টি, জীবনীগ্রন্থ ১৯টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ২৭টি, নাটক ৮টি, বিজ্ঞানবিষয়ক বই ১৩টি, ভ্রমণকাহিনী ১৫টি, ইতিহাসমূলক ১৩টি, রাজনীতিবিষয়ক ৫টি, চিকিৎসাসংক্রান্ত ৫টি, রম্য ৬টি, ধর্মীয় ১টি, অনূদিত বই ৩টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ১১টি এবং বাকিগুলো অন্যান্য।
এদিকে দিন যত যাচ্ছে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’য় ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে বই ক্রেতাদের সমাগম। প্রতিদিন যেমন মেলায় আসছে নতুন নতুন বই, তেমন-ই যেন প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাণের মেলায় ছুটে আসছে শত-সহস্র বই প্রেমী মানুষ। তাদের সরব উপস্থিতিতে বই বিক্রির যেমন বাড়ছে তেমনই মেলার বিভিন্ন প্রান্তে জমে উঠছে আড্ডা।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সত্তাধিকারীরা বলছেন, মেলার দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে বইপ্রেমীদের ভিড়। কমে যাবে দর্শক। বিক্রি হবে বিভিন্ন ধরনের বই। আর, সামনের দুইদিন বাদে এবারের মেলা সবকিছুকে ছাপিয়ে হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত। আশা করছি, এই দুই-তিন দিনে বেঁচা-কেনাও অনেক ভালো হবে।
প্রকাশনা সংস্থা আবিষ্কারের স্বত্তাধিকারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আজ বিক্রি ভালো হচ্ছে। রোববারে বিক্রি একটু কম হবে আমাদের এমন ধারনাটি পাঠকরা মিথ্যা প্রমাণ করেছে। মেলার প্রবেশদ্বার উন্মোচনের পর লোকজন কম দেখে কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে দিকে দৃশ্যপট একেবারেই পাল্টে যায়। এভাবে চলতে থাকলে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের মেলা সফলতার সকল রেকর্ড ভঙ্গ করবে বলেও মনে করেন আবিষ্কারের স্বত্তাধিকারী।
গতকাল বইমেলার মূলমঞ্চে গতকাল বিকেলে আলোচনার বিষয় ছিল, নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুপম হায়াৎ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী। এরপর শুরু হয় কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সংগীত সন্ধ্যা। চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। সন্ধ্যার দিকে মেলায় ছিল উপচে পড়া ভিড়।
গতকাল ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন লেখক হোসেন উদ্দীন হোসেন, কথাসাহিত্যিক হাবিব আনিসুর রহমান, কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম, কবি শিহাব শাহরিয়ার ও প্রাবন্ধিক-গল্পকার তাশরিক হাবীব। এ মঞ্চে বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচজন করে লেখক উপস্থিত থাকেন। প্রত্যেকে ২০ মিনিট করে এই মেলায় প্রকাশিত বই নিয়ে কথা বলেন। সঞ্চালনায় থাকেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা।
মেলার এগারতম দিনে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন করা হয় ২৩টি বইয়ের। গত দশদিনে প্রায় তিন শতাধিক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয় বইমেলার এই মঞ্চে।
শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ষান্মাসিক ‘মনন রেখা’র ৪র্থ সংখ্যাটি গতকাল মেলায় এসেছে। সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের উর্দু কবি নওশাদ নূরীকে নিয়ে। কবি নওশাদ নূরীর জন্ম ১৯২৬ সালে, বিহারে। দেশবিভাগের পর তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। বাংলাদেশে আসার কিছু সময়ের মধ্যেই কবি নওশাদ নূরী রাজনৈতিক মতাদর্শে মওলানা ভাসানী, কমরেড আবদুল হকসহ খ্যাতিমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তাঁকে ভীষণ পছন্দ করতেন। কবি নওশাদ নূরী একজন অবাঙালি উর্দুভাষী হওয়া সত্ত্বেও বাঙালির রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির পক্ষে ভাষা আন্দোলনে তার স্পষ্ট সমর্থন দেন ও ‘মহেঞ্জাদারো’ শীর্ষক কবিতা রচনা করেন। এ কবিতা ছাপা হওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁকে দেশ ছাড়ার হুকুম দেন। কবি দেশ ছেড়ে যান। ১৯৬০ সালে তিনি পুনরায় ঢাকা ফিরে আসেন। বাংলাদেশ ছেড়ে তিনি কোথাও যেতে চাননি। মিজানুর রহমান নাসিম সম্পাদিত এই পত্রিকায় কবি নওশাদ নূরীর জীবন ও সৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যাবে। আজ মঙ্গলবার মেলার ১২তম দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ