ঢাকা, মঙ্গলবার 12 February 2019, ৩০ মাঘ ১৪২৫, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হজ্ব পালনে খরচ বাড়ছে এ বছরও

স্টাফ রিপোর্টার : গতবছরের মতো চলতি বছরও পবিত্র হজ্ব পালনে খরচ বাড়ছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে হজ্ব পালনের বিধান রেখে ‘হজ্ব প্যাকেজ, ২০১৯’এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। এ সময় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রইস-উল আলম মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।
 মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সরকারি-বেসরকারি দুই ধরনের হজ্বযাত্রায় এবারও খরচ বেড়েছে। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে হলে প্যাকেজ-১ এর আওতায় টাকা লাগবে মোট চার লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। আর প্যাকেজ-২ এর আওতায় হজে যেতে চাইলে টাকা লাগবে তিন লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাবেন, তাদের সর্বনিম্ন তিন লাখ ৪৪ হাজার টাকা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এবার সরকারি-বেসরকারিভাবে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ ব্যক্তি হজ্ব করতে সৌদি আরব যাবেন। এরমধ্যে বেসরকারিভাবে যাবেন এক লাখ ২০ হাজার, বাকি সাত হাজার ১৯৮ জন যাবেন সরকারিভাবে। প্রতি হজ্ব যাত্রীকে ৬৮ রিয়াল টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি বাবদ জমা রাখতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কাবা শরিফ থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে যাদের ভাড়া বাড়িতে রাখা হবে, তারা প্যাকেজ-১ এর আওতায় থাকবেন। বাসা থেকে তারা কাবা শরিফ যাতায়াত করবেন ট্রেনে। প্যাকেজ-২ এর আওতায় যারা থাকবেন, তারা কাবা শরিফ থেকে দুই কিলোমিটার দূরে থাকবেন। তারা যাতায়াত করবেন বাসে।
তিনি বলেন, দুই প্যাকেজেই বিমান ভাড়া এক লাখ ২৮ হাজার টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১০ হাজার ১৯১ টাকা কম। ২০১৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর ৩ লাখ ৬০ হাজার ২৮ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা নির্ধারিত ছিল। হজে যেতে বিমান ভাড়া কমলেও বেড়েছে প্যাকেজ মূল্য। ট্রেন ও বাড়ি ভাড়া বাড়ার কারণে প্যাকেজ-১ এ সার্বিক মূল্য বেড়েছে ২০ হাজার ৫৭১ টাকা। আর প্যাকেজ-২ এ বেড়েছে ১২ হাজার ৬৪১ টাকা।
শফিউল আলম বলেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ আগস্ট পবিত্র হজ্ব পালিত হবে। যারা এ বছর হজে যাবেন, তাদের এমআরপি’র মেয়াদ ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে। এর আগে দুইবার বা তার বেশি যারা হজ্ব পালন করেছেন, তাদেরকে বাড়তি হিসাবে দুই হাজার ১০০ রিয়াল দিতে হবে। একটি এজেন্সি সর্বনিম্ন ১৫০ জন এবং সর্বোচ্চ ৩০০ জন হজ্বযাত্রী পাঠাতে পারবেন। প্রতি ফ্লাইটে তিন জন মোয়াল্লেম থাকবেন। কোরবানি বাবদ পাঁচ হাজার ৫২৫ সৌদি রিয়াল ইসলামি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এবার যারা হজ্ব এবং ওমরাহ পালন করতে যাবেন, তাদেরকে আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান, শারীরিকভাবে সক্ষম এবং মানসিকভাবে সুস্থ্য থাকতে হবে। এটি ঠিক করবে মেডিক্যাল বোর্ড। হজ্ব এবং ওমরাহ পালনে ২০১৮ সালে যা ছিল, তার বেশিরভাগ বহাল রেখেই কিছু সংশোধন আনা হয়েছে এই নীতিমালায়।
তিনি বলেন, আগে নিয়ম ছিল সাত রমজানের মধ্যে বাড়ি ভাড়ার কাজ শেষ করতে হবে। তবে এবারের নীতিমালায় রমজানের আগেই বাড়ি ভাড়ার কাজ শেষ করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৮ বছর বয়সের নিচে কেউ হজ্ব বা ওমরাহ পালন করতে যেতে চাইলে, তাকে জন্ম সনদপত্র উপস্থাপন করতে হবে। এছাড়া এবার ৪৪ জন যাত্রীর সঙ্গে একজন করে গাইড থাকবেন। আগে ছিল ৪৫ জনের সঙ্গে একজন গাইড। সৌদি আরবের পরিবহন বাসগুলোতে ৪৫ জনের বেশি জায়গা হয় না বিধায় এবার এটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাড়ি ভাড়াসহ যাবতীয় টাকা অনলাইনে পেমেন্ট করতে হবে। প্রত্যেক হজ্বযাত্রী এবং ওমরাহ পালনকারী সৌদি আরবের যে বাড়িতে থাকবেন, তার পাসপোর্টের শেষের পাতায় সেই বাড়ির ঠিকানাসহ কাগজ লাগিয়ে দেয়া হবে। এছাড়া বিমান ভাড়া সরাসরি পে-অর্ডারের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ