ঢাকা, মঙ্গলবার 12 February 2019, ৩০ মাঘ ১৪২৫, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ -নজরুল ইসলাম খান

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে সাথে নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করে ডক্টরস এসোসিয়েশনের নবগঠিত কমিটি। গতকাল সোমবার তোলা ছবি -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেছেন, এই নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ এখনও তৈরি করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, আমরা বলেছি, ডাকসু নির্বাচন যাতে জাতীয় নির্বাচনের মতো না হয়, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো না হয়।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১১ মার্চ ২৫টি পদে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি হয়ে থাকেন।  গতকাল সোমবার ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে একথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ডাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির পথে সরকার বাধা হবে না বলে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি বিশ্বাস রাখতে চাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহাবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এখনো সহাবস্থান নাই। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির পথে তারা বাধা হবে না। আমরা তাদের বিশ্বাস করতে চাই এবং আমরা চাইবো যে, আমাদের ছাত্রসমাজের সংগঠনগুলো যাতে তাদের মতপ্রকাশ ও নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। আর ছাত্রছাত্রীরা যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে। আর তাদের পছন্দের প্রার্থিকে ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত করতে পারে।
ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারাদেশে যেমন বিএনপিকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে দেয়া হচ্ছে না, আমাদের নেতাকর্মীরা যেমন তাদের ঘর-বাড়িতে থাকতে পারছে না।  তেমনি এদেশের ছাত্রসমাজ দীর্ঘদিন যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে  যেতে পারে না। আমরা যারা বিরোধীদল করে তাদেরকেই নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, খুন ও গুম করা হয়েছে। এরকম একটা জটিল পরিস্থিতিতে আমাদের বহু প্রতিক্ষিত ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আমরা বলেছি, ডাকসু নির্বাচন যাতে জাতীয় ও স্থায়ী সরকার ভোটের মত না হয়- এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 
নজরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ সরকারের নিয়োজিত। ফলে দুশ্চিন্তার কারণ আছে। কিন্তু আমরা আশা করবো, যে ছাত্রসমাজ আমাদেরকে যুগে যুগে পথ দেখিয়েছে- তাদের সাহসী ভূমিকা দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের সূচনা করেছে, সেই ছাত্রসমাজ তাদের প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, যারা গণতন্ত্র চায়, আর যারা গণতন্ত্র চায় না, যারা গণতন্ত্র জবাই করে আর যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে- এই লড়াইটা হবে মূলত তাদের মধ্যে। সেই লড়াইয়ে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি বিজয়ী হবে বলে আমরা আশা করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সরকারকে বাধ্য করবে বলেও মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব  সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ড্যাবের আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সদস্য সচিব ডা. মো. ওবায়দুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ