ঢাকা, মঙ্গলবার 12 February 2019, ৩০ মাঘ ১৪২৫, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নজরুলের পরিচালনায় ‘লাঙল’ 

আখতার হামিদ খান:

১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলিতে প্রথম গান্ধীজির সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয়। তাঁর আগমন উপলক্ষে নজরুল কবিতা ও গান রচনা করেছিলেন, যা শুনে গান্ধীজি খুবই খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু নজরুল উপলব্ধি করেছিলেন যে, গান্ধীজির আন্দোলনে দেশের স্বাধীনতার পথ সুগম হবে না। তাই তাঁর মন জনগণের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই বিষয়টি নিয়ে নজরুল তাঁর বন্ধু কুতবুদ্দীন আহমদ, হেমন্তকুমার সরকার প্রমুখের সঙ্গে আলাপ করেন। একসময় স্থির সিদ্ধান্ত হয়, তাঁরা চার জন উদ্যোগী হয়ে একটি দল গঠন করবেন। প্রথমে দলটির নাম ঠিক হয় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের অন্তর্ভুক্ত ‘লেবর স্বরাজ পার্টি’ (The Labour Swaraj Party of the Indian National Congress). এই দলের প্রথম ইশতেহার কাজী নজরুল ইসলামের দস্তখতে প্রকাশিত হয়েছিল।

পার্টি গঠন হবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার মুখপত্ররূপে সাপ্তাহিক ‘লাঙল’ পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে লাঙল-এর প্রথম খণ্ড বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। লেবর স্বরাজ পার্টির অফিসের জন্য কলকাতা ৩৭ নম্বর হ্যারিসন রোডের দোতলায় দু’খানা কামরা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এই ঠিকানা থেকেই লাঙল পত্রিকার প্রকাশনা আরম্ভ হয়। লাঙল-এর প্রধান পরিচালক হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের নাম ছাপা হতো। আর সম্পাদক হিসেবে নাম ছাপা হতো নজরুলের বাঙালি পল্টন জীবনের বন্ধু মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের। শেষের তিনটি সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন শ্রীগঙ্গাধর বিশ্বাস।

এ পর্যায়ে লাঙল পত্রিকায় নজরুলের সম্পৃক্ততা বা লাঙল বিষয়ক বিশদ আলোচনার আগে সাংবাদিক নজরুল ও বিভিন্ন সংবাদপত্রে নজরুলের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ বলি :

দৈনিক, অর্ধসাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক ও বাৎসরিক পত্রিকা মিলে নজরুল ইসলাম নবযুগ, ধূমকেতু, লাঙল, গণবাণী, নওরোজ, সেবক, সওগাত, বুলবুল, মোহাম্মদী, বসুমতী, ভারতী, বঙ্গবাণী, আত্মশক্তি, নকীব, অভিযান, সাম্যবাদী, মোয়াজ্জিন, দরদী, শান্তি, শিক্ষা, কবিতা, গুলিস্তা, দিলরুবা, উপাসনা, সহচর, প্রবর্তক, নারায়ণ, বিজলী, কল্লোল, কালি-কলম, প্রগতি, প্রবাসী, উত্তরা, ভারতবর্ষ, নূর, মানসী ও মর্মবাণী, অলকা, শক্তি, যুগের আলো, শিখা, নাচঘর, স্বদেশ, আজকাল, আজাদ, মাহে-নও, বৈতালিক, মোসলেম ভারত, বকুল, জয়তী, বাংলার কথা, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা এরকম প্রায় শতাধিক পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পত্রিকাগুলোর কোনোটির পরিচালক, সম্পাদক বা ফরমায়েসি লেখক হিসেবে তিনি যুক্ত ছিলেন। ১

শুধু কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত সম্পাদকীয় বা উপসম্পাদকীয় বা নিয়মিত লেখা বা একটি কবিতা-গান ওই পত্রিকার যে সার্কুলেশন বাড়াতে পারে পাঠকরা পত্রিকার কপি সংগ্রহের জন্য ভিড় জমাতে পারে, নির্ধারিত কপি শেষ হবার পর পুনর্মুদ্রণ হতে পারে কাজী নজরুল ইসলাম তার অন্যতম উদাহরণ ।

নজরুলের সম্পৃক্ততা সত্ত্বেও কোনো কোনো পত্রিকা যে উদ্দেশ্য-প্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছে, সেটাও স্পষ্ট। সরাসরি নাস্তিক, আজাজিল, ইসলামের প্রধান শত্রু বলেও চিহ্নিত করেছে দু-একটি পত্রিকা। কেউ কেউ নজরুলের লেখা নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যঙ্গ করেছে, প্যারোডি লিখেছে। নজরুল অত্যন্ত চৌকষভাবে তার জবাব দিয়েছেন। এমনও হয়েছে খুব আগ্রহভরে একটি বিশেষ বিষয়ের ওপর নজরুল উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। কিন্তু দেখা গেল পরের দিন কাগজে তা কাটছাঁট করে ছাপা হয়েছে। দুঃখে-অভিমানে নজরুল সেই পত্রিকা অফিসের দিকে আর পা মাড়াননি।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি এবং লুপ্ত সংবাদপত্র দৈনিক বাংলার সম্পাদক শামসুর রাহমান সম্পাদক-সাংবাদিক নজরুলকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘‘তার কাছে ‘সংবাদ মূলত কাব্য’ বলেই বোধহয় তিনি সম্পাদকীয় বারবার সাজিয়েছেন কবিতার পংক্তিমালায়। সম্ভবত আমাদের চেনা বিশ্বে নজরুলের আগে কোনো সম্পাদক কবিতায় সম্পাদকীয় রচনা করেননি।”২

মার্চ ১৯২০-এ ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টন ভেঙে গেলে প্রাক্তন সৈনিক হিসেবে পাওয়া রাজস্ব বিভাগের সাব-রেজিস্ট্রার চাকরি ছেড়ে দিয়ে নজরুল সাহিত্য সাধনায় মনোনিবেশ করেন। থাকা শুরু করেন ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র অফিসে। কয়েকমাস পর, ১২ জুলাই নজরুল ইসলাম ও মুজফ্ফর আহমদের যুগ্ম সম্পাদনায় সান্ধ্য দৈনিক ‘নবযুগ’ প্রকাশিত হয়। কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা ছাড়াই নজরুল শিরোনাম রচনা, সংবাদ -সংক্ষেপণ ও দেশপ্রেম-দীপ্ত উত্তপ্ত সম্পাদকীয় নিবন্ধ রচনায় আশ্চর্য দক্ষতা দেখান। এই নবযুগ দিয়েই মাত্র ২১ বছর বয়সে নজরুলের সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি।

পত্রিকার দুনিয়ার সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেন। তাঁর সাংবাদিক-সত্তা নিয়ে প্রচুর গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত নজরুলের লেখা এবং অপরাপর বিষয় নিয়ে কাজ হওয়া জরুরি। এতে একদিকে যেমন সাংবাদিক-সাহিত্যিক নজরুলকে জানা যাবে, অন্যদিকে সে-সময়কার সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থার চালচিত্র খুঁজে পাওয়া যাবে। বলেছি, লেবর স্বরাজ পার্টির মুখপত্ররূপে সাপ্তাহিক লাঙল প্রকাশিত হয়। ৩ মাস ২৯ দিনের মধ্যে ১৫টি সংখ্যা বের হবার পর লাঙল বন্ধ হয়ে যায়। সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে ভিতরগত কারণ তো ছিলই। প্রকাশিত সংখ্যাগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজালে একনজরে সন/তারিখ/সপ্তাহ জানা যাবে।

১. প্রথম খ-, বুধবার ১লা পৌষ, ১৩৩২, ইং ১৬ ডিসেম্বর , ১৯২৫, বিশেষ সংখ্যা; ২. প্রথম খ-, বুধবার ৮ই পৌষ, ১৩৩২, ইং ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২৫, দ্বিতীয় সংখ্যা; ৩. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার ২৩শে পৌষ, ১৩৩২, ইং ৭ই জানুয়ারী, ১৯২৬, তৃতীয় সংখ্যা; ৪. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার ৩০শে পৌষ, ১৩৩২, ইং ১৪ই জানুয়ারি, ১৯২৬, চতুর্থ সংখ্যা; ৫. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ৭ই মাঘ ১৩৩২, পঞ্চম সংখ্যা; ৬. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মাঘ, ১৩৩২, ষষ্ঠ সংখ্যা; ৭. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ২ শে মাঘ, ১৩৩২, ৭ম সংখ্যা; ৮. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ২৮ শে মাঘ, ১৩৩২, ইং ১১ইং ফেব্রুয়ারি, ১৯২৬, অষ্টম সংখ্যা; ৯. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ৬ই ফাল্গুন, ১৩৩২, ইং ১৮ইং ফেব্রুয়ারি, ১৯২৬, নবম সংখ্যা; ১০. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ১৩ই ফাল্গুন, ১৩৩২, ইং ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ১৯২৬, দশম সংখ্যা; ১১. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ২০ শে ফাল্গুন, ১৩৩২, ইং ৪ঠা মার্চ, ১৯২৬, একাদশ সংখ্যা; ১২. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ৪ঠা চৈত্র ১৩৩২, ইং ১৮ই মার্চ, ১৯২৬, দ্বাদশ সংখ্যা; ১৩. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ১১ই চৈত্র ১৩৩২, ইং ২৫শে মার্চ, ১৯২৬, ১৩শ সংখ্যা; ১৪. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ২৫শে চৈত্র ১৩৩২, ৮ই এপ্রিল ১৯২৬, ১৪শ সংখ্যা; ১৫. প্রথম খ-, বৃহস্পতিবার, ২রা বৈশাখ ১৩৩৩, ১৫ই এপ্রিল, ১৯২৬, ১৫শ সংখ্যা।৩

 খেয়াল করলে দেখা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যা দুটি বুধবার এবং অন্যান্য ১৩টি সংখ্যা সপ্তাহের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়। পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম সংখ্যায় ইংরেজি সন/তারিখের উল্লেখ নেই। সপ্তম, ত্রয়োদশ, চর্তুদশ এবং শেষ পঞ্চদশ সংখ্যা অঙ্কে লেখা এবং বাকিগুলো বানান করে। পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম সংখ্যায় ইংরেজি সন-তারিখের কোনো উল্লেখ নেই। বর্তমান বানান-পদ্ধতির সঙ্গে তখনকার দিনের একটা অমিল তো আছেই। একটি বিশেষ বিষয় হলো প্রথম খ- থেকে পঞ্চদশ খ- লাঙল পত্রিকা ভিন্ন ভিন্ন পৃষ্ঠাসংখ্যা নিয়ে বের হতো। এর মধ্যে ১২টি সংখ্যা ১৬ পৃষ্ঠার, ১টি সংখ্যা ১৮ পৃষ্ঠার, ১টি সংখ্যা ২০ পৃষ্ঠার এবং ১টি সংখ্যা ছিল ২৪ পৃষ্ঠার।

লাঙল-এর প্রচ্ছদচিত্রে দেখা যায়, একটি গোলাকার বৃত্তে বলিষ্ঠ গোঁফ-দাড়িঅলা একজন উদ্ভ্রান্ত কৃষকের ছবি, যার দৃষ্টি নিবদ্ধ ঊর্ধ্ব আকাশের দিকে। কৃষকের ডান কাঁধে রাখা লাঙল। লাঙল-এর হাতলের অংশটি শক্ত করে ডান হাত দিয়ে ধরা। মনে হয় যেন ঝড়ের পূর্ব লক্ষণ। বাতাসে চারদিকে গাছ-পালা নুয়ে পড়েছে। কৃষকের কোমরে দৃঢ়ভাবে গামছা বাঁধা, আদুল গা। আকাশে কালো মেঘের ফাঁকে ফাঁকে বিদ্যুৎরশ্মি। 

কালো সুতায় বাঁধা কৃষকের গলার তাবিজ বাতাসের ঝাপটায় বুকের উপর থেকে উড়ে কাঁধ পর্যন্ত উঠেছে। বামে প্রধান পরিচালকের নাম, সম্পাদকের নাম ও মূল্য।

ডানে বিষয়বস্তু। প্রচ্ছদের নিচে বড় করে লেখা শ্রমিক প্রজা স্বরাজ সম্প্রদায়ের সাপ্তাহিক মুখপত্র, তার নিচে বক্সের মধ্যে খ-, বার, বাংলা-ইংরেজি তারিখ ও সংখ্যা। সম্পাদকীয় নিবন্ধের উপরিভাগে আরো একটি চিত্র লাঙল পত্রিকার ৩ নং পৃষ্ঠায় পাওয়া যায়। এদিকে আছে, একটি গোলাকার বৃত্তের মাঝখানে জোড়া বলদ নিয়ে একজন কৃষকের চাষ করার দৃশ্য। কৃষকের হাতে ধরা একটি ছোটো চিকন কঞ্চি দিয়ে গরু দুটোকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।৪

বর্ণিত প্রচ্ছদটি নিয়ে ১১টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। দ্বাদশ সংখ্যায় কোনো প্রকার ছবি ছাড়া শুধু বড় করে ‘লাঙল’ লেখা। তার নিচে ডান পাশে ইংরেজিতে লেখা ‘খঅঘএঅখ’. মাঝে ‘বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দলের সাপ্তাহিক মুখপত্র’।

ত্রয়োদশ, চতুর্দশ সংখ্যায় আবারো পরিবর্তন। আশ্চর্যজনকভাবে পরিচালক-সম্পাদকের নাম ছাড়া রবীন্দ্রনাথের আশীর্বচন : ‘জাগো জাগো বলরাম/  ধরো তব মরু ভাঙা হাল/ বল দাও ফল দাও/ স্তব্ধ কর ব্যর্থ কোলাহল।৫

রবীন্দ্রনাথ এই আশীর্বচনটি ১, ১৪ ও ১৫শ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। তবে ১৫শ সংখ্যাটির হেডলাইনে আবারো সামান্য পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। উপরিভাগে মাঝখানে ‘লাঙল’-এর দু’পাশে কাস্তে ও হাতুড়ি আড়াআড়িভাবে রাখা।

লাঙল পত্রিকায় দেশি-বিদেশি সাংবাদিক লেখক যাঁরা নিয়মিত-অনিয়মিত লিখতেন তাঁরা হলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, শ্রী গিরিজাকান্ত মুখোপাধ্যায়, শ্রী দেবব্রত বসু, শ্রীযুক্ত হূষীকেশ সেন, শ্রী নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, শ্রী ইন্দ্রজিত্ শর্মা, শ্রী সুভাষচন্দ্র বসু, শ্রী যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, মুজফ্ফর আহমদ, কুতবুদ্দীন আহমদ, শ্রী সুকুমার চক্রবর্তী, শ্রী সুরেশ বিশ্বাস, শ্রী সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর, আফতাব আলী, কার্ল মার্কস, শ্রী হেমন্ত কুমার সরকার, মিসেস এম. রহমান প্রমুখ।

স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ-এর উক্তি বা বাণী বা কবিতাংশ কখনো স্কেচ ছাড়া ছাপা হতো লাঙল-এ। বিষয় ভিত্তিক ছবি ছাপা হতো চীন রাষ্ট্রগুরু ডা. সান ইয়াত্, সুভাষচন্দ্র বসু, কার্ল মার্কস, লেনিন-এর। শ্রী নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়ের অনুবাদে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো ম্যাকসিম গোর্কির বিখ্যাত রচনা ‘মা’। দু-একটি সংখ্যায় চিঠিপত্রও থাকত। আরো থাকত প্রজাস্বত্ব আইনের ধারাবাহিক আলোচনা ও গণ-আন্দোলন সম্বন্ধীয় পুস্তকের আলোচনা ও সংকলন।

‘খড়কুটো’ শিরোনামে লাঙল পত্রিকায় একটি নিয়মিত পাতা থাকত। যেখানে লাঙল সংক্রান্ত খবর ছাড়াও সারা দেশের টুকরো টুকরো খবর ছাপা হতো। লাঙল দ্বিতীয় সংখ্যার খড়কুটোতে প্রথমেই ছাপা হয়েছে ‘গতবার আমরা ৫ হাজার ‘লাঙল’ ছেপেছিলাম।

 কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমস্ত কাগজ ফুরিয়ে যাওয়াতে কলকাতায় অনেকে কাগজ পাননি এবং মফস্বলে একেবারেই কাগজ পাঠানো হয়নি। ওই সংখ্যার প্রধান সম্পাদক কবি নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ গ্রাহকগণের আগ্রহাতিশয্যে পুস্তিকাকারে বের করা হল, দাম রাখা হয়েছে মাত্র দু’আনা।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ