ঢাকা, মঙ্গলবার 12 February 2019, ৩০ মাঘ ১৪২৫, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কবিতা

আমাদের মিছিল

আল মাহমুদ

আমাদের এ মিছিল নিকট অতীত থেকে অনন্তকালের দিকে

আমরা বদর থেকে ওহুদ হয়ে এখানে,

শত সংঘাতের মধ্যে এ কাফেলায় এসে দাঁড়িয়েছি।

কে প্রশ্ন করে আমরা কোথায় যাবো ?

আমরা তো বলেছি আমাদের যাত্রা অনন্তকালের।

উদয় ও অস্তের ক্লান্তি আমাদের কোনদিনই বিহ্বল করতে পারেনি।

আমাদের দেহ ক্ষত-বিক্ষত,

আমাদের রক্তে সবুজ হয়ে উঠেছিল মুতার প্রান্তর।

পৃথিবীতে যত গোলাপ ফুল ফোটে তার লাল বর্ণ আমাদের রক্ত,

তার সুগন্ধ আমাদের নিঃশ্বাস বায়ু।

আমাদের হাতে একটিমাত্র গ্রন্থ আল কুরআন,

এই পবিত্র গ্রন্থ কোনদিন, কোন অবস্থায়, কোন তৌহীদবাদীকে থামতে দেয়নি।

আমরা কি করে থামি?

আমাদের গন্তব্য তো এক সোনার তোরণের দিকে যা এই ভূ-পৃষ্ঠে নেই।

আমরা আমাদের সঙ্গীদের চেহারার ভিন্নতাকে গ্রাহ্যের মধ্যে আনি না,

কারণ আমাদের আত্মার গুঞ্জন হু হু করে বলে

আমরা এক আত্মা, এক প্রাণ।

শহীদের চেহারার কোন ভিন্নতা নেই।

আমরা তো শাহাদাতের জন্যই মায়ের উদর থেকে পৃথিবীতে পা রেখেছি।

কেউ পাথরে, কেউ তাঁবুর ছায়ায়, কেই মরুভূমির উষ্ণবালু কিংবা সবুজ কোন ঘাসের দেশে চলছি।

আমরা আজন্ম মিছিলেই আছি,

এর আদি বা অন্ত নেই।

পনের শত বছর ধরে সভ্যতার উত্থান-পতনে আমাদের পদশব্দ একটুও থামেনি।

আমাদের কত সাথীকে আমরা এই ভূ-পৃষ্ঠের কন্দরে কন্দরে রেখে এসেছি-

তাদের কবরে ভবিষ্যতের গুঞ্জন একদিন মধুমক্ষিকার মত গুঞ্জন তুলবে।

আমরা জানি,

আমাদের ভয় দেখিয়ে শয়তান নিজেই অন্ধকারে পালিয়ে যায়।

আমাদের মুখয়বয়ে আগামী ঊষার উদয়কালের নরম আলোর ঝলকানি।

আমাদের মিছিল ভয় ও ধ্বংসের মধ্যে বিশ্রাম নেয়নি, নেবে না।

আমাদের পতাকায় কালেমা তাইয়্যেবা,

আমাদের এই বাণী কাউকে কোনদিন থামতে দেয়নি

আমরাও থামবো না।

 

অভিশঙ্কা

জাফর পাঠান

চক্ষু বুজলেই দেখি-

অগণন উল্কাপিন্ড- ধাবমান- ধরিত্রীর বুকে

সহস্র সূর্যসম অনল- এই বুঝি দিলো ফুঁকে।

 

কান পাতলেই শুনি-

ভূগর্ভের প্লেটচ্যুতির যত- ভীতিকর হুঙ্কার

ভূপৃষ্ঠে দিবে ঢেলে অতলের নিশাত অন্ধকার।

 

অলস মনে কখনো-

ভাবুক পাহাড়ে হেলান দিয়ে চোখে আসলে ঘুম

দেখি সাগর বুকে- উত্তরঙ্গ- ফণা তোলার ধুম। 

 

নির্জনে একাকী বসে-

অণুচিন্তনে দিয়ে ডুব- অনুভবে যদি হারায় 

ভয়ে জড়সড় ভিন্ন এক মেদিনী দেখতে পাই।

 

আমি অভিশঙ্কায় ভূগি-

অপমৃতদের লহু জমে- হচ্ছে যে অষ্টমাকাশ

ভেঙ্গে পড়ে কখন জানি কি হয়, ঘটে সর্বনাশ।

 

 

বিজয়ধ্বনি 

রাজু ইসলাম

 

এতো আলো ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে

আজ কোথাও অন্ধকার নেই।

নেই কান্না আর শোকের হাহাকার 

শুধু দগ্ধ ঘা না শুকানোর যে যন্ত্রণা 

তা সহজে কিউরিটি পায় না- কোনদিন না ।

তবু আলোয় আলোয় ছেয়ে যাওয়া এ নবান্নের দেশে

হাজার ক্ষত ধুয়ে কোটি চোখের অশ্রু মুছে বেজে উঠে বিজয়ধ্বনি- 

                              আজ আমাদের বিজয়।

 

আগন্তুক সকালে একদিন

নাবিল তুরাব

 

মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে বাদলা সকাল, 

প্রত্নভাষার মতো সগৌরবে ক্ষণেক্ষণে করে মিছিল।

বলে, এ আকাশ আমার, এ বাতাস শুধুই মরীচিকা, 

যখন তারকাবিদরা চিৎকার করে ওঠে।

কিন্তু হ্যাঁ, এ কাঁটাতারের ভূলোক তোমার নয়।

ও উত্থিত সত্য, দেখা হয় না কখনো পরমাদরের কল্পিত শহর?

পাকশালায় অনাহারী ভুবন আর একটি একাহারী চামচ পড়ে থাকে।

কে তুলবে তাকে?

কার হয় অমন দরদ?

টেবিলে ভেসে থাকে কিছু প্রাচীন নোটপ্যাড,

সোফাসেটে গতকালের না পড়া বাসি পত্রিকা।

অমন ঘৃণার সকালে পত্রিকা হাতে নিতে কারো ইচ্ছে হয়?

মৌমাছি এসে বসুক আমার চেয়ারে, হতাশাগুলো চুষে খাক। 

আমায় একটু বিষমুক্ত করো মাছি!

দু’ঘণ্টা ধরে খোলা পড়ে থাকা অপঠিত পাঠ্যবইয়ে মাকড়সা বাসা বাঁধুক,

আমার আপত্তি নেই। আজ দিন নয় আপত্তি করার।

 

লিরিক

জাকির আজাদ

 

(১)

চোখের নদীতে অশ্রু জোয়ার

বাঁধ ভেঙ্গে ছুটে,

অশ্রু জলে সকল দুঃখ

বিরহের সুখ লুটে।

বধির হই বাকরুদ্ধ হই

মরি মাথা কুটে,

আমার জীবন ব্যয়িত সময়

আধাঁর ঘুট ঘুটে।

 

(২)

অনাড়স্বর এই একক জীবন

যাচ্ছিল ক্ষণ গুনে,

চকিতে তোমার হয় আগমন

দিলে স্বপ্ন বুনে।

স্বপ্ন বুনে ফিরে গেলে

দীনতার কথা শুনে,

স্বপ্নের ভারে হৃদয় ফেটে

এখন সয়লাব খুনে।

 

মুয়াজ্জিন

শফিকুল ইসলাম শফিক

 

কণ্ঠে আমার প্রতিনিয়ত

একটি ধ্বনিই প্রতিধ্বনি হোক,

এ দুটি চোখ পাহারায় রেখেছি 

সুরগুলো মিলায়ে খুঁজি নূরানী প্রেম।

 

যখন মসজিদের দিকে ধাবিত হয়

যেন মুমিনের সাড়াশব্দ শুনতে পাই,

ঈমানী রৌশনীতে সবল হতে চায় 

শাশ্বত নামাযের প্রভুর ডাকে।

 

অগ্র কাতারে যেতে মুসল্লির ব্যাকুলতা

কার এত প্রেমের আবাদ মসজিদে?

ইসলামের রাহে ছুটে চলে মুসাফির 

হে প্রভু, আমাকেও আজাদ করে দিও ।

 

প্রত্যাশার বীজ বুনেছে অন্তঃকরণে

কালেমার পতাকা সুদিন আনুক, 

অতিষ্ঠ পাপের দেরাজ ভেঙ্গে আসে

সাক্ষ্য দিচ্ছি ওরাই প্রকৃত মু’মিন।

 

আমি লিখব তাদের নিয়ে

আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ

 

আমি আজ লিখব নিয়ে তাদের।

যারা সূর্য মাথায় নিয়ে খাটে,

খেটে যায় অহর্নিশ!

যারা সভ্যতা গড়ে নোনাজলে,

ঘাম ঝরিয়ে। তাদের।

ওরা শ্রমিক! ওরা শ্রমিক!

 

যারা স্বপ্ন দেখে সভ্যতা নিয়ে,

মায়াজালে বন্দি রেখে নিজের,

স্বপ্ন যায় বুনে, চোখে মুখে,

কিন্তু যোগায় অন্ন অন্যের, তাদের!

ওরা শ্রমিক! ওরা শ্রমিক!

 

যাদের রক্তে সভ্যতা গড়ে,

যারা পায় না নিজের গতি, তাদের।

সভ্যতার প্রতি পরতে পরতে

শ্রম মিশে থাকে যাদের, তাদের।

 

আমি লিখব নিয়ে তাদের।

যারা শ্রমিক, তাদের

শ্রমিক তারা, যাদের।

 

দুধকুমার

আবদুল হাই শিকদার

 

দুধের কুমার নাম তবু সেতো ঠিক দুধ নয়,

দুধের চেয়েও গাঢ় উত্তরে ভাওয়াইয়া প্রণয়-

সর্বাঙ্গে জড়িয়ে সে হয়ে আছে একলা নদী,

আব্বাসউদ্দীন যেন নিধুয়া পাথারে নিরবধি।

 

দুধের কুমার নয়, তবু রূপ অথৈ সাঁতার,

নারীর সীমান্ত ঘেষে রাত জাগা এপার ওপার। 

দুই হাতে বিলি করে সঙ্গোপন ভোরের সিনান

বালুচরে কাশবনে গেরস্তের শানকির গান। 

 

এ নদী নদী তো নয়, মমতা ও সমতার ঢেউ,

গাইতি শাবল রেখে তাপদগ্ধ যেন অন্য কেউ-

তাকে নিয়ে ভেসে যায়, ফিরে আসে অনুতপ্ত শীতে

ব্যথিত গোরের গায়ে ঘাসের সবুজটুকু দিতে। 

 

নদী ঠিক নদী নয়, জলের ভঙ্গিমা হয়ে ওঠে,

শরৎ হেমন্ত নয়, খিরোলের গান নিয়ে ঠোঁটে-

নিবিড় গোপন ঘাস, গভীর গহীন হয়ে ফোটে,

সিমফুল কানে গাথা লাউডগা হাসুলীও জোটে।

 

ছোট বড় কত গ্রাম তবু নদী পূবের পাড়ার,

তারই সজল ফ্রেমে জলছবি মৃত তারকার,

জন্ম জন্মান্তরে তেপান্তরের ধুধু কাল,

আত্মার কলরবে যত কিছু ছিল উত্তাল,

তারি কটি ছেঁড়া পাতা দুধকুমারের কোন চরে,

ঢেউদের ককপিটে একা একা মাথা কুটে মরে। 

 

আবার নতুন পলি নিয়ে আসে আষাঢ়ের বায়ু,

যারা ছিল তারা নেই নিরব নিস্তব্ধ সব আয়ু,

কোথায় হারিয়ে গিয়ে, উগড়ে দেয় নতুন সকাল-

দুঃখদের তীরে রেখে নদী তবু বহে চিরকাল। 

রাতজাগা চাঁদগুলো বুকে নিয়ে রৌদ্রে পোড়া সুরে,

কষ্টের হকারী করে একা একা বিপুল সুদূরে। 

 

মোরগ ডাকার ভোরে আজো ঘুম ভেঙ্গে যায় কবির

চোখ মেলে পায় না সে দশদিকে কিনারা নদীর।

চরাচরে ঘরে ঘরে অতলান্ত পানি আর পানি,

বয়ে আনে পুরাতন সেই সব নির্ঘুম বাণী,

আমিই কি দুধকুমার নাকি নদী আমাতে মিশেছে?

অথবা আমরা শুধু উত্তরের শেষ সীমা ঘেষে-

বয়ে যাই অনন্তকাল দুহু তরে দুহু ভেবে ভেবে,

তারপর একদিন অপার অসীম কাছে নেবে। 

 

হয়তো নেবে না কাছে, আমরা শুধুই বয়ে যাব,

দিনান্তে নিশান্তে নদী আপন বুকেই ফিরে পাব,

হয়তো হবে না তাও, মানুষ ও নদীর মাখামাখিÑ

একজন জন্মবধির, আরেকজন দ্বার খুলে রাখি। 

 

দুই.

দুধের মতোই তার মধুময় জলের স্মৃতি,

আবেগ মথিত মাখন চরাচরে ছড়িয়ে প্রীতি,

আমাকে রেখেছে করে ঝাউবনে ব্যথিত রাখাল,

হৃদয়ের ধুকপুকে মিশে আছে তারই উত্তাল

ভাঙ্গনের দাগে দগ্ধ গড়ার কবিতা কথামালা,

শৈশবের কালজানি মেলে ধরে ঢেউয়ের থালা,

অতীতের তীর থেকে বয়ে আনে সংকোশের বান,

দুধকুমার বয়ে যায় কাঁপিয়ে ছাপিয়ে কবি প্রাণ।

 

মৃত্যুর দামে কেনা কবিতা

হাসান নাজমুল

 

অথই জলের ঘূর্ণিপাকে পড়ে আছি একা,

চোখে জমে আছে আগুন-কান্নার সমাহার,

তপ্ত খড়কুটো ভেসে গেছে ভুল স্রোতে!

এখানে রয়েছে কেবল মৃত্যু

আছে মৃত্যুর মতো কিছু কবিতা;

জলের ছোঁয়ায় নিভে গেছে দেশলাই কাঠি

আগুন-কান্নায় ঘষে জ্বালাতে পারিনি আজও,

যখন ঘনায় সন্ধ্যা, নেমে আসে কালো রাত

নেমে আসে দুর্বার তুফান,

ডলফিনও তখন অদৃশ্য পৃথিবী গড়ে নেয়,

অন্ধ হয়ে যায়- জলজ উদ্ভিদ!

নরত্বের সীমারেখা উড়ে যায় শুকনো আকাশে,

স্নেহের তাবৎ চি‎হ্ন ভিজে যায় জলে; 

মিথ্যে মনে হয় দুনিয়ার সব সাম্য

বিপন্ন নিশীথে শুধু কবিতাই সঙ্গী হয়

বাঁচিয়ে রাখতে চায় হাজার বছর ধরে

তাই মৃত্যুর দামেই আজ কিনে নিলাম কবিতা।

 

রক্তাক্ত এই হৃদয়

শাফিউল কায়েস

 

বিদীর্ণ আজ আমার মন

কারণ কেউ নয় শুধু তুমি

তোমার কারণে আজ  

আমার মনের মাঝে হয় রক্তক্ষরণ।

   

আমার সমস্ত স্নায়ু বলে

শুধু তোমার কথা

রাত্রিদিন আমি হয়েছি নির্ঘুম

এভাবে আর কতদিন চলে!

 

আমার নিশ্বাসে, আমার বিশ্বাসে

সবটা জুড়ে শুধু তুমি, শুধু তুমি

   

 আমি ভালোবাসার যুদ্ধে আহত

 এক বিবাগী প্রেমসৈনিক। 

 

মাৎস্যন্যায়

আমিন আল আসাদ

 

প্রতিহিংসার বালু জমে জমে পাহাড় হয়েছে পাহাড়

নদীর গতিকে পরিবর্তন করেই ছেড়েছে বেশ

প্রতিহিংসার প্লাবনে ডোবে অন্তর-মনোভূমি

 

ভাতে আর মাছে বাঙালী হৃষ্টপুষ্ট

বড় মাছগুলো গিলে খায় শুধু অসহায় ছোটমাছ

মাছের স্বভাব রক্তে রক্তে ঘোরে

সমাজ খেয়েছে রুঢ় মাৎস্যন্যায়।

 

ডাইনামিক সন্ধ্যা

তাসনীম মাহমুদ

 

সন্ধ্যাটা ছিল বৃষ্টিধোঁয়া গন্ধরাজের পাঁপড়ির মতো ¯িœগ্ধ!--

কেননা; খানিকটা আগেই ডাউন ট্রেনের গতিতে 

বৈশাখীমেয়ে নেমে এসে ধুয়ে দিয়ে গেছে রোদ্দুর। 

আমাদের হাতে অগণিত সময় যেহেতু 

দীর্ঘ দিনের আড্ডা জমেছিল অতৃপ্তিতে। বাসনার সুর তুলে 

চাঁদপুরের মাসুদ বলল,--

‘এমন সময় লেক পাড়ে চাঁদের আলোয় ডাইনামিকের 

এক চুমুক চা না খেলে জীবনটাই অপরিপূর্ণ থেকে যাবে।’ 

কাব্যিক ভাবুকদের যেমনটা খেয়াল; আমাদেরও তেমন... 

আমরা লেকপাড়ে দাঁড়িয়ে আছি; ইতিমধ্যে টাঙ্গাইলের মোশাররফ 

চা’য়ের অর্ডার দিয়ে এসেছে। এসবের মাঝে একটি ছেলে শিশু 

অকারন আমার নজর কাড়ল; হাতে তার তিনটি বকুলের মালা। 

ইশারায় কাছে ডাকলাম নিতান্ত সাধারণ ইচ্ছায়।... 

এখন মালা তিনটি দেখে বোঝা যাচ্ছে একটু আগেই ওরা 

বৈশাখী মেজাজে গোসল সেরে রূপে-লাবণ্যে পরিপূর্ণ একাকার; 

উত্তম বাঁসর শেষে নারীরা যেমনটা দ্যূতি ছড়ায়!

 

কোমলীয়তায় কে কবে পরাজিত হয়নি বলো? 

লোভ না সামলিয়ে 

বাছাই করে বড় মালাটির দাম জিজ্ঞাসা করলাম।... 

মালাটি হাতে নিয়ে দুষ্টমী স্বরে বললাম,-- 

‘যাও তবে। ছোট মানুষ! --তোমার আবার টাকার দরকার কী?’ 

আমার দুষ্টমী’র বাঁকা ঠোঁট তখনো সহজ হয়ে ওঠেনি 

আদি আদমের ক্ষুধার পৃষ্ঠা মেলে ছেলেটি বলে উঠলো,-- 

‘‘টাকা দিয়ে মা বাজার করবে’’! --খেয়াল করলাম 

এমন সরল উক্তির তীক্ষè ছুরি আমার হৃদপি-ের মাঝপথ 

এঁফোড়-ওঁফোড় করে মাসুদের সফেদ জামায় 

ক্ষরণের দাগ টেনে দিয়েছে। ক্ষণিক স্তব্ধ-কর্তব্যবিমূঢ়তা ভেঙ্গে 

আমরা মালা তিনটি কিনে নিলাম। 

আমাদের আড্ডা শেষ হয়েছে; যে যার মতো বিদায় নিয়ে ফিরছি বাড়ি 

চা’য়ের সুস্বাদু স্বাদ জিভে জমে রয়েছে।... 

 

রাত্রির স্বচ্ছ আকাশে দোল খাচ্ছে শাওন পূর্ণিমা’র রূপালী চাঁদ 

বুকের পশমে বিলি কেঁটে প্রশান্তির হাসিতে মিলিয়ে যাচ্ছে

হীম বাতাস। তবু; ফুটপাত জোড়া মানুষের ভিড় ঠেলে 

আমার চোখের সার্সিতে ভেসে উঠছে 

খালি গায়ে ছেলে শিশু বকুলের মালা হাতে 

আমার কানে ঘন্টার ধ্বনির মতো বেজে উঠছে 

“টাকা দিয়ে মা বাজার করবে”।...

 

জীবন থেকে বহুদূরে

মোহাম্মদ অংকন

 

দুর্বিনীত শরীরে ব্যর্থতার তীক্ষè কাঁটা

মাঝে মাঝে তীব্র আঁচ দিয়ে ওঠে;

ঠোঁটে ও মুখে বিস্বাদের আস্বফালন- তখন 

এক আলোক বর্ষের বেগে ছোটে।

পাই না আমি জীবনের শুরু কিংবা একটি মুহূর্ত

যেখানে আমার স্তানু-স্তবিরতা;

পেন্ডুলামে দোদুল্যমান। তাই ক্লান্তগুলো

খুঁজে ফেরে আমার ব্যর্থতা।

 

জীবন থেকে বহু দূরে সরে যাওয়ার পরও

মনে হয়নি একটিবারও-

আমি জীবন থেকে বহুদূরে আছি!

আমি কি যাবো দূরে আরও?

 

চলো নবীন

মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী

 

চলো নবীন-

নূতনত্ব ডাক দিয়ে যায় 

নিত্য তোমায় বিণ, 

পূর্ব গগনে উদীয়মান সূর্য আভা 

নতুনত্বে তোমারি জন্যে আজ 

টকটকে সাজে রঙিন।

 

নব উদ্যম নব বল-বলন 

সমগ্র জাতি বিশ্বের স্বপ্ন 

তোমারি আশায় আশান্বিত 

তুমি যে দেখাবে- 

নব আশার প্রতিফলন।

 

তুমি বীর মহাবীর বিচক্ষণ 

বিঘœহীন বিচিত্র বিচরণ

উড়াবে তুমি বিজয় নিশান 

ধরণীতলে-

বাংলা মায়ের দামাল সন্তান।

 

ঘরমুখো হতে পারি

রুদ্র সাহাদাৎ              

 

যদি কথা দাও 

আলো-আঁধারি খেলা সব পেছনে ফেলে 

ঘরমুখো হতে পারি বাবার মতো

একশো একটি নীল পদ্ম শুধু নয়, লক্ষ কোটি গোলাপ 

এনে দিবো ভালোবাসায়।

যদি কথা দাও সাতসমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিতে প্রস্তুত 

বঙ্গোপসাগরে সাঁতার শিখেছি, 

সোনাদিয়ার চরে বেড়ে উঠা যুবক। 

 

খোদার কসম ভালোবাসা পেলে আমি হবো 

শ্রেষ্ঠ প্রেমিক এ শহরে।

 

প্রথম ভালোবাসা

মারুফ আহম্মেদ নয়ন

 

দরজাটা খুলে দিলাম, হঠাৎ-ই সামনে এলে তুমি।

ক্লান্তিময় মুহূর্তে,

বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে হাতে কিছু ফুটন্ত গোলাপ নিয়ে বললে,

কেমন আছো?

পরিপূর্ণতা পায়নি তখন ও কণ্ঠে আমার,

উত্তর দিব কি জানা ছিল না।

আমি প্রতীক্ষা না করেই বললাম, ভালো আছি নিশ্চয়।

হঠাৎ খুলে গিয়েছিল ভালবাসার দরজাটা।

আকাশের তারাগুলি যদি পেতাম,

তবে তা তোমায় দিতাম।

নতুবা মুক্তার মালা এনে দিতাম সাগরের বুক থেকে,

মৃদু বাতাসে প্রদীপের আলো, যেমন করে,

 তেমন করে আমার ভালোবাসার দরজাটা খুলে দিলাম,

চিরতরে তোমার জন্যে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ