ঢাকা, বুধবার 13 February 2019, ১ ফাল্গুন ১৪২৫, ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভুপেন হাজারিকাকে ভারত রত্ন খেতাব ‘সস্তা রোমাঞ্চ’-------ছেলে

১২ ফেব্রুয়ারি, এনডিটিভি : আসামের সংগীত কিংবদন্তি ভুপেন হাজারিকাকে ভারত রত্ন খেতাব দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘স্বল্প মেয়াদী সস্তা রোমাঞ্চের প্রদর্শনী’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন তার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে তেজ হাজারিকা।

এক বিবৃতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধন বিল ২০১৬-র কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই ‘বেদনাদায়ক জনবিরোধী’ বিল ভুপেন হাজারিকার মতাদর্শ ও নৈতিক অবস্থানের বিরোধী।  

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার এই বিল যেভাবে পাস করার পরিকল্পনা করেছে তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বলেছেন, “নাগরিকত্ব নিয়ে প্রবল জন বিরোধিতার মুখে পড়া একটি বিল পাস করার জন্য আমার বাবার নাম ও তার বাণী সরকার ব্যবহার করে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, আমার বাবার নৈতিক অবস্থান সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত যে ধারণা, এর মধ্যে দিয়ে তাকে খাটো করা হচ্ছে। হৃদয়ের অন্তঃস্থলে যে বিশ্বাস ভূপেন ধারণ করতেন, এটা তার ঠিক উল্টো।”

চলতি বছর ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায় ও ভারতীয় জন সঙ্ঘের প্রয়াত নেতা নানাজি দেশমুখের পাশাপাশি প্রয়াত ভুপেন হাজারিকাকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব ভারত রতœ দেওয়া হচ্ছে।

২০১৭-র মে’তে মোদী ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতুর নামকরণও ভুপেন হাজারিকার নামে করেছেন। আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে তেজ হাজারিকা আরও বলেছেন, “আমি কিছু জবাব রেকর্ড করছি ১. এ পর্যন্ত আমি কোনো দাওয়াপত্র পাইনি তাই প্রত্যাখ্যান করারও কিছু নেই এবং ২. কেন্দ্র এ বিষয়টি নিয়ে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা পুরস্কার প্রদানের গুরুত্ব ও জাতীয় স্বীকৃতিকে অর্থহীন করে ফেলেছে-এটি স্বল্প মেয়াদী সস্তা রোমাঞ্চের প্রদর্শনী।”

নাগরিকত্ব বিল মোদী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই বিলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের ছয় বছর ভারতে বাস করার পর সহজ ও দ্রুততার সঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই বিলের বিরোধিতায় ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে।

জানুয়ারিতে ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হওয়া এই বিলটি গতকাল মঙ্গলবার রাজ্য সভায় তোলার কথা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ