ঢাকা, বুধবার 13 February 2019, ১ ফাল্গুন ১৪২৫, ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বই মেলায় বসন্তের আবহ

গতকাল মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলার একটি স্টলের দৃশ্য -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাত পোহালেই ঋতুরাজ বসন্ত। গতকাল ছিল শীত ঋতুর শেষ দিন আর এবারের ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র ১২তম দিন। মেলায় আগত বইপ্রেমী ক্রেতা দর্শনার্থীদের সাজ সজ্জায় ছিল বসন্তের ছোঁয়া। কর্মদিবসেও মেলার দুই প্রাঙ্গণেই আগত বইপ্রেমীদের ছিলো প্রাণবন্ত উপস্থিতি। অন্যবারের তুলনায় এবারের মেলায় বই বিক্রিতেও গতি বেড়েছে বলে জানালেন প্রকাশকরা।
গতকাল মঙ্গলবার কর্মদিবস হলেও মাথায় ফুলের তোড়া সঙ্গে বাসন্তি সাজে মেলায় সরব উপস্থিতি ছিল বইপ্রেমী তরুণ তরুণীদের। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর; সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ- সবখানেই ছিলো বইপ্রেমীদের প্রাণবন্ত পদচারণায় মুখরিত।
বই মেলার আমেজ যেন ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাই। ক্রেতা দর্শনার্থীরা ঋতুরাজের আবহে এসেছিল বইমেলাময়। বইপ্রেমীদের পাশাপাশি মেলার বার তম দিনে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও ছিলো আশাব্যঞ্জক। মেলায় বিকিকিনি অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু কম হলেও বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা জানালেন আশার কথা। তারা বলছেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় বিক্রি একটু কম হলেও কর্মদিবসেও এমন উপস্থিতি আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে এবং বিশেষ দিনগুলো আশানুরুপ গেলে এবারের মেলা অন্যান্যবারের মেলার চেয়ে বেশী সফলতা পাবে।
মেলাই আসা বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হয়। তারা জানান, মেলার নিরাপত্তার বিষয় থেকে শুরু করে সাজ-সজ্জা, স্টলবিন্যাস সবকিছুই অনেক পরিচ্ছন্ন। মাতৃভাষার আন্দোলনের এবং মহান একুশের এই স্মৃতিবিজড়িত ভাষার মাসের এই বইমেলার জন্য সারা বছর বইপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষেরা তীব্র আগ্রহে চেয়ে থাকে। এই মেলা উপলক্ষে দেশের সৃজনশীল কবি সাহিত্যিক-সহ সবধরণের লেখকদের বই প্রকাশিত হয়। বছরের অন্যান্য সময় প্রকাশিত হওয়া বইগুলোও এ মেলায় পাওয়া যায়। আর, ঢাকাসহ এর আশে-পাশের মানুষ বই কিনতে আসে।
এদিকে দিন যত যাচ্ছে অমর বইমেলায় ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে বইপ্রেমীদের সমাগম। সে কর্মদিবস হোক আর ছুটির দিন হোক। প্রতিদিন যেমন মেলায় আসছে নতুন নতুন বই, তেমন-ই যেন প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাণের মেলায় ছুটে আসছে শত-সহস্র বই প্রেমী মানুষ। তাদের সরব উপস্থিতিতে বই বিক্রির যেমন বাড়ছে তেমনই মেলার বিভিন্ন প্রান্তে জমে উঠছে আড্ডা, আনন্দ-হিল্লোল।
বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের মেলারও মূল প্রাঙ্গণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সত্তাধিকারীরাও বলছেন সেই কথা। তারা বলছেন, মেলার দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে বইপ্রেমীদের ভিড়। কমে যাবে দর্শক। বিক্রি হবে বিভিন্ন ধরনের বই। আগামীকাল (বুধবার) ও পরের দিন বৃহস্পতিবার মেলা সবকিছুকে ছাপিয়ে হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত। আশা করছি, এই দুই বিশেষ দিন হওয়ায় বেঁচা-কেনাও অনেক ভালো হবে। কেননা আগামী বুধবার যে পহেলা ফাল্গুন তথা ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার-ভালোবাসা দিবস। অতীত সাক্ষ্য দেয়, এই দুইদিনে যে কোন দিনে (কর্মদিবস হোক আর ছুটির দিন হোক) মেলায় ভিড় হবেই। বাড়বে বিক্রি। সেই লক্ষ্যে প্রকাশনা সংস্থাগুলোও তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এবারের মেলার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হতে যাওয়া এসব প্রকাশকদের প্রায় অধিকাংশ নতুন বই মেলার স্টলে-স্টলে নিয়ে এসেছে।
বিক্রেতারা জানান, ছুটির দিনগুলোতে বিক্রি একটু বেশি হয়। কিন্তু বারের তুলনায় এবারের মেলায় কর্মদিবসেও অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে। প্রকাশকরা বলছেন, বই কিনুক আর না কিনুক মেলায় দর্শক সমাগম বাড়ছে এটিও এক প্রকার ইতিবাচক দিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ