ঢাকা, বুধবার 13 February 2019, ১ ফাল্গুন ১৪২৫, ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তার (খালেদা জিয়া) সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ নেয়ারও কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। না দেয়া হচ্ছে মুক্তি, না সুচিকিৎসা। আইনত জামিনযোগ্য মামলাতেও জামিন দেয়া হচ্ছে না। বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, শুধু নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই শেখ হাসিনা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে বাইরে থাকতে দেননি। কারণ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে আপোষহীন থাকতেন। তাই এখন অসুস্থতা-যন্ত্রণা ও মানসিক নির্যাতনের এক বিষাদঘন পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ মুহূর্তে দেশনেত্রীকে সুচিকিৎসা এবং নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিএনপির নালিশ দেশের মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য, লুট হওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের কবল থেকে উদ্ধারের জন্য, নজীরবিহীন মিড-নাইট ভোটের বিরুদ্ধে নালিশ। এই নালিশ মিড-নাইট সরকারের অবৈধ সব কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সতর্ক সাইরেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই নালিশগুলোই প্রতিবাদের আকারে রাজপথে ঢেউ তুলবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে অন্যদের পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থেকে সড়ক ও গণপরিবহনের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রিজভী। তিনি বলেন, গণপরিবহনের নৈরাজ্যের দায়, সড়কে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর দায় আপনি এড়াতে পারবেন না। গত সোমবারও সড়কে ২০ জন মারা গেছে। এছাড়াও সড়কে-মহাসড়কে স্মরণকালের চেয়ে বর্তমান মহাদুর্ভোগে মানুষের জীবন এখন ওষ্ঠাগত। মৃত্যুশোকে স্বজনদের আহাজারি করছে, আর হাজার হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব বরণ করে ভুক্তভোগীরা অনিশ্চিত জীবন নিয়ে হতাশা ও চরম দু:খ-কষ্টের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছে।
‘ভুয়া’ ভোটের সরকারের অবৈধ শাসনের শুরুতেই দেশব্যাপী চরম অরাজকতা বিরাজ করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, কোথাও যেন কোনও কিছুই নিয়ন্ত্রণে নেই। আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যার সঙ্গে সামাজিক অনাচার মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে তুলে আওয়ামী সরকারের নৈরাজ্যে সারা দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দেশে আইনের শাসন থাকলে বিচার ব্যবস্থায় আতঙ্কের কোনও জায়গা থাকতো না বলেও দাবি করেন রিজভী। তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ভোট ডাকাতির অপকর্মে ব্যবহার করায়, তারা এখন আইন-কানুনকে তাচ্ছিল্য করছে এবং নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের চাহিদা পূরণ না করায় নারী-পুরুষ সবাই আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে তাদের হাতেই মানুষ আজ চরম নিরাপত্তাহীন।
রিজভীর অভিযোগ, ‘মিড-নাইট ভোটের’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকদিন আগে পুলিশদের বলেছেন, দ্রুত মামলার কাজ নিষ্পত্তি করতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে থানায়-থানায় তাদের নিপীড়ন আরও বেড়েছে। বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে যেসব গায়েবি মামলা দায়ের করেছিল, সেসব মামলায় চার্জশিট দেয়ার নাম করে ব্যাপক বাণিজ্য চলছে।
রিজভী বলেন, আদালত থেকে জামিন লাভের পর তাদেরকে আবার শ্যোন এ্যারেষ্টের নামে হয়রানি ও অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও কারাগারের মধ্যে বন্দীদের কাছ থেকেও নানাভাবে প্রতিনিয়ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এটিকেই বলে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। বিএনপি’র রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পুলিশী মামলা দিয়ে হয়রানী করতে গিয়ে বিচার-ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে ফেলা হয়েছে। এদেশে আওয়ামী ক্ষমতাসীনরা চাইলেই মামলা দিতে পারে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্যান্য মিথ্যা মামলার সাথে ড্রাগের মামলা দিয়ে হেয় করা হচ্ছে। আটক বিএনপি’র বহু নেতাকর্মীদেরতে তাদের আইনজীবীদের সাথে দেখা করতে দেয়া হয় না। তিনি বলেন, যে দেশে প্রধানমন্ত্রী তার কোন সমালোচকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে উস্কানী দেন, সেই দেশে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রতিকার পাওয়ার সম্ভাবনাও তিরোহিত হয়ে গেছে। মিড নাইট ভোটের পর হৃদয়হীন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধী দলসহ জনগণের সবকিছু লুটে নিতে যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আর এই প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে তারা নিজেরাই একে অপরের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। বেপরোয়া দুস্কর্মে লিপ্ত হতে গিয়ে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে তাতে শুধু দেশবাসীই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও শিহরিত হচ্ছে। অতি লোভীদের দোষ একটাই তাহলো-কতটা হজম হবে তা তারা জানে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ