ঢাকা, বুধবার 13 February 2019, ১ ফাল্গুন ১৪২৫, ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দলকে সংগঠিত করা এবং খালেদা জিয়ার মুক্তিই প্রধান এজেন্ডা

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: তৃনমূল থেকে দলকে সংগঠিত করা এবং দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা এ মুহূর্তে বিএনপির প্রধান এজেন্ডা। কিন্তু কোন পথে বা কোন উপায়ে এই দুইটি কাজ তারা যথাযথভাবে সম্পন্ন করবে, সেটাই ঠিক করতে পারছে না। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলন, নাকি দলকে সংগঠিত করার জন্য ধৈর্য্য ধারণ- কোনোকিছু ঠিক করতে পারছে না। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক গুলোতেও বিষয় দুটি নিয়ে আলাচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিএনপি। দলটির নেতারা খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন। দলটির সিনিয়র নেতারা এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে তেমন আশাবাদী নন। তারা বলছেন, আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবেনা। কারণ হিসেবে বলছেন, বিচার বিভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণেই সেটি সম্ভব হবেনা। একই মামলায় অন্য আসামীরা জামিন পেলেও খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সেটি হচ্ছে না। ফলে আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার উপায় দেখছেন তারা।
সূত্র মতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারকে নানা আল্টিমেটাম দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। বিএনপির আইনজীবীরা বারবার মুক্তির বিষয়ে আশ্বাস দিলেও গত এক বছরেও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যায়নি। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হয় খালেদা জিয়ার। কারাগার, হাসপাতাল আর আদালতের বারান্দায় কেটে গেল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার এক বছর। ওইদিন থেকেই নাজিমুদ্দীন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন তিনি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বেগম জিয়া খুবই অসুস্থ। তাকে সরকার চিকিৎসার সেবাটুকুও দিচ্ছেনা।
গত প্রায় চার যুগ ধরে বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া বেগম খালেদা জিয়া এই মুহূর্তে জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুর্নীতি সংক্রান্ত পৃথক দু’টি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডাদেশ নিয়ে কারাবন্দি রয়েছেন। প্রথমে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর সাজা হলেও উচ্চ আদালতে সেটি বেড়ে ১০ বছর হয়। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত সাতবছরের সাজা দেন বেগম খালেদা জিয়াকে। গত একবছরে খালেদা জিয়ার পুরো সময়টাই কেটেছে নাজিমুদ্দীন রোডের কারাগারে। চিকিৎসার জন্য মাঝে কিছুদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হয় তাকে।
বিএনপি শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিল, কারাগারে খালেদা জিয়াকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘চরম’ অসহোযোগিতা করছে। কারাগারে খালেদা জিয়ার থাকার জায়গাটাও ‘মানবিক’ নয়। এ নিয়ে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা বেশ কয়েকবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। যথাযথ চিকিৎসা এবং ভালো পরিবেশে তাকে রাখার জন্য স্বরাষ্ট্রমস্ত্রীকে মৌখিক ও লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় বার বার আদালতে হাজিরা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরেই খালেদা জিয়ার জন্য আদালত স্থাপন করা হয়েছে। সেখানেই কথিত নাইকো দুর্নীতি মামলার হাজিরা দিচ্ছেন খালেদা জিয়া।
গত এক বছরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির শীর্ষ নেতারা একাধিকবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন। কারাবিধি অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরাও নিয়মিত দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন তার সঙ্গে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছে, আত্মীয় স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে কারাবিধির চেয়ে কম সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে নানারকম শর্তের কথা বললেও খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যায় বিএনপি। কিন্তু সে নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কারণে বিরোধী পক্ষের অভাবনীয় বিপর্যয় ঘটে। বিরোধী জোটসহ দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোটের আগের দিন রাতেই সরকারি দল নৌকার পক্ষে ব্যালট পেপারে সিল মারে। আর পরের দিন সকাল ৯টার পর কোনে কেন্দ্রে ভোটারই যেতে পারেনি। এছাড়া অধিকাংশ এলাকায় বিরোধীদের এজেন্টই রাখা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে শপথ গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক এমনকি সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন বিএনপি তাহলে কী করবে। কারাগারে থেকেই খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব দেবেন না কি তার মুক্তির জন্য বিএনপি কঠোর আন্দোলনে যাবে। দলের মধ্যে এমন আলোচনাও আছে সরকার না চাইলে খালেদা জিয়ার মুক্তি কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। একদিকে নির্বাচনে পরাজয় অন্যদিকে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া কারাগারে। করণীয় ঠিক করতে একাধিকবার বৈঠক করেছে দলটির শীর্ষ ফোরাম। বৈঠকে দলকে গোছানোর পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিই বেশী প্রাধাণ্য পেয়েছে।
খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া এবং রাজপথের আন্দোলন- দুটিই আমরা সমানভাবে চালাব। আর বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার আছে বলে মনে করি না। একটা নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এতদিন যেভাবে চলেছে, ভবিষ্যতে সেভাবে চলবে।
গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার কারাবাসের একবছর উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলন, দলকে পুনর্গঠন করে দ্রুত দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে নামবে বিএনপি। তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনে যেসব দুর্বলতা আছে তা অতিদ্রুত সংশোধন করে সংগঠনকে শক্তিশালী করা হবে। এরপরই কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দ্রুত আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমরা বলতে চাই, অতীতেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছি। আমরা অনেকের সাথে একমত যে, শুধু দাবি চাওয়ার মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্তি করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন মাদার অব ডেমোক্রেসি। এই গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে তার আগে তাকে মুক্ত করতে হবে। সেই মুক্তির জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে, সুসংগঠিতভাবে সাহস নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াবো এই প্রত্যাশা আমরা আজকে করছি।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আজকে আমাদের অনেকে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা হতাশ। আমি বলছি তারা হতাশ নয়, মনক্ষুণœ, বিক্ষুব্ধ। নিশ্চয় দেশের জনগণ একদিন তার রাজনৈতিক জবাব রাজনৈতিকভাবে দেবে। অতত্রব আমাদের সামনে বিরাট ক্ষেত্র প্রস্তত হয়েছে। আজকে কাউকে বুঝাতে হবে না যে, শেখ হাসিনা এদেশের দেশের জনগণের সরকার নয়। তাদের পক্ষে বেশি দিন আর এদেশের মানুষকে প্রতারণা করে বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভবপর হবে না। আমার বিশ্বাস আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও আর বেশিদিন আটকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে ‘নৈতিকভাবে পরাজিত’ বিএনপির ‘বিজয়’ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে, এই যে নিম্নতম আদালতে তাদের সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকার কারনে আমি মনে করি এবং আমরা অনেকে মনে করি যে, আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি অর্জন করা সম্ভবপর হবে না। আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। যদি আপনারা বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে চান তাহলে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিন। এছাড়া অন্যকোনো বিকল্প নাই। মওদুদ আহমদ বলেন, আমি মনে করি, আন্দোলন করতে হলে সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। সংগঠন যদি শক্তিশালী করতে হয় আজকে নেতা-কর্মী গত ১০ বছর জেলে খেটেছে, তাদের বাড়ি-ঘর পুঁড়িয়েছে, দোকান-পাঠ দখল করেছে, তাদের পুকুরে মাছ নিয়ে গেছে, তাদের জমির ফসল নিয়ে গেছে, তাদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, নির্বাচনের সময়ে গায়েবি মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে নিগৃহীত করেছে তাদেরকে পুনর্বাসন করতে হবে। তাদের ভেতরে যে হতাশা তা তুলে নিয়ে আসতে হবে। তাদের ভেতরে আস্থা এবং বিশ্বাস জন্মাতে হবে যাতে করে আমরা আবার নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারি।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটা নির্বাচনী এলাকায় আমরা যারা প্রার্থী ছিলাম তাদের দায়িত্ব হবে যেসব নেতা-কর্মী জেলখানায় আছে তাদের মুক্ত করা, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের জামিনের ব্যবস্থা করা, যাদের ঘর-বাড়ি পুঁড়িয়েছে তাদের ক্ষতিপুরণ দেয়া এবং তাদের পাশে থাকা। তৃণ পর্যায় থেকে নতুন করে দল পুনর্গঠন করতে হবে। যারা নির্যাতিত হয়েছে, যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যারা বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছে তাদের উপযুক্ত সন্মান দিয়ে তাদের নেতৃত্ব স্থানে আনতে হবে, তরুন সমাজকে নেতৃত্বে আনতে হবে। তিনি বলেন, এই যে আমার ভাইয়েরা এখানে আছেন, হাজার হাজার নেতা-কর্মী আছে তাদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। আমরা যারা নেতৃত্বে আছি আমরা সফল হই নাই সঠিকভাবে সেই আন্দোলনে আপনাদের যে শক্তি আছে, সেই শক্তিকে আমরা কাজে লাগাতে পারি নাই। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে যে দলকে আমরা ভালোবাসি, যে নেত্রীর জন্য আজকে আমরা সভা করছি। আমাদের পর্যায়ে মাথা হেট হয়ে যায় যে, এতো বড় একটা আমাদের সংগঠন, এতো বড় জনসমর্থন, সেই দলের নেত্রী তিন বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন সেই দলের নেত্রী আজকে একবছর যাবত জেলখানায় আছেন- এটা ভাবতেও চোখের পানি চলে আসে।
খালেদা জিয়ার জেলে থাকার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরাই জড়িত বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিযার জেলে থাকার সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এটা আদালতের এখতিয়ার। দণ্ড দিয়েছেন আদালত, কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত, মুক্তি দিতে পারেন আদালত। তিনি বলেন, এই মামলা নিয়ে সরকারকে দোষারোপ করা একেবারেই অসত্য। এই মামলায় সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করা হয়েছে রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায়। রাজনৈতিক মামলার আইনের মাধ্যমের ফয়সালা হবে না। রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই। আমরা রাজনৈতিকভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনব।
 পেশাজীবী নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও সরকারের ষড়যন্ত্রে বেগম খালেদা জিয়াকে একবছর যাবত কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। আজকে বিচার বিভাগ ও বিচারকের কাছে সুবিচার চাওয়া বাতুলতা মাত্র। সরকারের সমালাচনা করে তিনি বলেন, দেশ ও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে সবার আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকার চাইলেই কেবল খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব। বিএনপির অপর একজন আইনজীবী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করতে থাকলে খালেদা জিয়ার মুক্তি ‘অসম্ভব’।
দলের চেয়ারপার্সন দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে কারাগারে, সেখানে বিএনপি বড় ধরনের কোনো জনমত তৈরি করতে পারেনি। তাদের দাবির প্রতি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। বিএনপি বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। মহানগর, ওয়ার্ড, বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় মিলিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীর অভাব নেই। কিন্তু খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার দিন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের (বর্তমানে কারাবন্দী) নেতৃত্বে মগবাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল ছাড়া সারা দেশের কোথাও একটি বিক্ষোভ মিছিল করতে পারেনি দলটি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ঝটিকা মিছিল বের করা হচ্ছে। তাতে হাতে গোনা কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত থাকেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেখতে চেয়েছিল খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করলে বিএনপির প্রতিক্রিয়া কী হয়? কিন্তু দেশে-বিদেশে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া না হওয়ায় আওয়ামী লীগ অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসে। এ কারণে এরপর বিএনপি যে দাবিই করেছে, আওয়ামী লীগ তা অস্বীকার করেছে। নিজেদের সুবিধা মতো এবং পরিকল্পনা মতো আওয়ামী লীগ যা যা করতে চেয়েছে, সবই করতে পেরেছে। বিএনপির সাংবাদিক সম্মেলন নির্ভর প্রতিবাদ আওয়ামী লীগের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারেনি।
সূত্র মতে, বিএনপি এখন দল গোছানোর কথা বলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির যেকোনো কর্মসূচি ঘিরে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, বিএনপির কর্মসূচি থেকে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে দলটির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে সরকার। গায়েবি মামলা, বিএনপির নেতাদের বাড়ি থেকে বের হতে না দেওয়া, ধরপাকড়, নির্যাতন ধীরে ধীরে দলটিকে পেছনে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কোনো পরিস্থিতি দলটি সামনে আনতে পারেনি। রাজপথে খালেদা জিয়ার না থাকার অভাবটা এখন বিএনপি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। এই অবস্থার দল গোছানোটা কতটুকু করতে পারবে সেটিও দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ