ঢাকা, বুধবার 13 February 2019, ১ ফাল্গুন ১৪২৫, ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পোষা কুকুর বিড়ালকে একটানা আটকে রাখলে জেল জরিমানা

বিবিসি : বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা নতুন একটি আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে যেটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে কুকুরকে চলাফেরার সুযোগ দিতে হবে, একটানা আটকে রাখা যাবেনা।
এই আইনে বলা হয়েছে কুকুরকে চলাফেরার সুযোগ না দিয়ে একটানা ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বেঁধে রাখলে জেল জরিমানা ভোগ করতে হবে। এই অপরাধের জন্য ছয় মাসের জেল হতে পারে।
গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন যে, ১৯২০ সালের পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিরোধ আইনের ভিত্তিতেই এই আইনটি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক প্রাণীর মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীর দায়িত্ব হবে যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণ করা।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে প্রাণীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাকিবুল হক।
তিনি বলেন, "এই আইনের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ছাড়াও পোষা প্রাণি থেকে শুরু করে অন্য যে প্রাণি আছে সবাই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি আইনি অধিকারের মধ্যে চলে এলো"।
এর আগে ১৯২০ সালের আইনটি থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ ছিলোনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মিস্টার হক বলেন, বাংলাদেশে ব্যক্তি বিশেষের ইচ্ছের ওপর নির্ভর করে প্রাণী বাসায় বা ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে কেমন থাকবে। তিনি যদি মানবিক হন, সহমর্মী হন তাহলে হয়তো ভালো থাকে।
"অনেক প্রাণী বিশেষ কুকুর বিড়াল অনেকে শখ করে কিনে থাকেন। পরে দেখা যায় কিছু দিন পর তাকে বাউন্ডারি ওয়ালের সাথে আটকে রাখে।"
"ধুকে ধুকে সেখানে মারা যায়। চিকিৎসা দেয়না। ভ্যাকসিন দেয়না। আবার যেসব প্রাণি পথে থাকে তাদের ঘৃণার চোখে দেখা হয়," তিনি বলেন।
মিস্টার হক বলেন, "অনেক সময় একটি গরুর সামনে আরেকটি গরুকে জবাই করা হয়। তার মানে হলো জবাইর আগেই একটি গরুকে মানসিকভাবে হত্যা করা হয়। ঘোড়ার গাড়ি ব্রিটিশ আমল থেকে চলছে। সেটি চলছে ইচ্ছামতো। অনেক ঘোড়া নাজুক অবস্থায় আছে সক্ষমতার বাইরে বোঝা বহনের কারণে। হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি নতুন বিষয়। মুরগি ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া। গরু ছাগল যেভাবে নেয়া হয়"।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ই নতুন আইনের আওতায় আনা সম্ভব যদি এটি সততার সাথে প্রয়োগ করা হয়।
এখন নতুন আইনটি কার্যকর হলে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে এসব প্রাণীর আইনি অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে।
 সেজন্য আইনটি কার্যকরের জন্য সচেতনতা তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ