ঢাকা, বুধবার 13 February 2019, ১ ফাল্গুন ১৪২৫, ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সংবিধানের দোহাই দিয়ে লোক দেখানো নির্বাচন জনগণ মানবে না -ড.কামাল

স্টাফ রিপোর্টার : গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে, সেটিকে অনেকে প্রহসন বলেছেন, নাটক বলেছেন। ১৬ কোটি মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে লোক দেখানো নির্বাচন জনগণ মানবে না। আমি বিশ্বাস করি ১৬ কোটি মানুষ এটা মেনে নেবে না। আমাদের যা করণীয় আছে আমরা করবো।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গণফোরামের আয়োজনে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পুত্র রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে আয়োজিত শোকসভায় তিনি এসব বলেন।
শোকসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান প্রমুখ।
ড. কামাল বলেন, গণতন্ত্র আমাদের সংবিধানের মূলনীতি। সে আন্দোলন আমরা করে আসছি। ৩০ তারিখ যে নির্বাচন হয়েছে, সেটিকে অনেকে প্রহসন বলেছেন, নাটক বলেছেন। মানুষের প্রতি ভাওতাবাজি করা হয়েছে। কেন এগুলো করা হয়েছে?
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি যেনো তেনো নির্বাচন দিয়ে, পরদিন সকালে বলেন, আমি তো পাঁচ বছরের জন্য এসে গেছি।
ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা মনে করি ১৬ কোটি মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাদের এভাবে বলা, এটি সংবিধান লঙ্ঘন। আমি বিশ্বাস করি ১৬ কোটি মানুষ এটা মেনে নেবে না। এক্ষেত্রে আমাদের যা করণীয় আছে আমরা করবো।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন,খালেদা জিয়াকে কারাগাওে কোন দেশে কোনভাবেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না। দেশ এবং দেশের মানুষকে মুক্ত করতে হলে আগে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তা না হলে এদেশে গণতন্ত্র মুক্ত হবে না।
তাকে মুক্ত করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। আমাদের রাজপথে নামতেই হবে। মরার আগে আমাদের মরলে চলবে না। এখনও সময় আছে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে দেশ এবং দেশের মানুষকে মুক্ত করা সম্ভব।
শোকসভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জনগণকে সঙ্গে না নিলে দেশে সুষ্ঠু রাজনীতি থাকতে পারে না। কিছুদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ১২ লাখ রোহিঙ্গার যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই। তাদের মধ্যে ৫ লাখ তরুণ-তরুণী, তাদের কোনও ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা নেই, লেখাপড়া নেই। সুতরাং এটাই জঙ্গিবাদ উত্থানের একটা জায়গা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি পশ্চিমের দিকে তাকিয়ে পূর্বে যান, ভারত যদি না চায় তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। আজকে ভারতপ্রীতি করে লাভ নাই, ভারত আমাদের কাছে শুধু নেবে। আপনিই তো বলেছেন ভারতকে আর কত দেবো? কিন্তু আপনি তো দিয়েই যাচ্ছেন, এখন পাঠাচ্ছেন ১৮০০ সৈন্য।
জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ১৬ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করল না। এটা কি শুধু কোনো রাজনৈতিক নেতা করবে, কোন রাজনৈতিক দল করবে? এটা হয় না।
তিনি আরও বলেন, ১ লাখ লোক কারাগারে আছে। এদেরকে মুক্ত করতে আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করি। যদি আমরা সত্যিকারের আন্দোলন করতে ব্যর্থ হই তাহলে দেশের জনগন আমাদের কোন দিনই ক্ষমা করবে না।
সদ্য কারামুক্ত ব্যারিস্টার মঈনুল ইসলাম বলেন, আমলাতান্ত্রিক সহযোগিতায় ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। আসলে এরা নিজেরা নিজেদের বঞ্চিত করেছে। স্বাধীন দেশের মানুষের জন্য এটা লজ্জার।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, রাজনীতি এখন ব্যবসায় হয়ে গেছে। এটা রাজনীতি নয়। এটা কোত্থেকে আসছে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ