ঢাকা, বুধবার 13 February 2019, ১ ফাল্গুন ১৪২৫, ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বৃহৎ আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না -ফারুক

স্টাফ রিপোর্টার: সাজানো দুর্নীতি মামলায় দ-িত হয়ে এক বছর ধরে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। শুরুতে তার মুক্তির জন্য নানা কর্মসূচি পালন করলেও বর্তমানে সেই অর্থে কোনো কর্মসূচি নেই দলটির। এমন অবস্থার মধ্যে খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন নেতার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতাদের কণ্ঠে শোনা গেল হতাশার সুর। তারা বলছেন, বৃহৎ আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের সহ-সাধারু সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমাসহ সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে নেতারা এসব কথা বলেন। ‘জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ নামের একটি সংগঠন এর আয়োজন করে।
 আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ার সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান সদরদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তাদের দাবি, মানববন্ধন বা এই ধরনের কর্মসূচি পালন করে দলীয় প্রধানের মুক্তি মেলবে না। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে। সরকারের কাছে তার মুক্তির দাবি করে কোনো লাভ নেই বলেও মনে করেন মানববন্ধনে অংশ নেয়া নেতারা।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সরকারের কাছে আমি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কামনা করি না। আমি আমাদের অনেক নেতার কাছে শুনেছি এই সরকারের আমলে নাকি আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। তার মুক্তির জন্য দলকে আরও সুসংগঠিত হতে হবে।
ফারুক বলেন, অনেক দিন পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দাঁড়িয়েছি। আমি বুঝতে পারি না, আমার বোঝার হয়তো কিছুটা ভুল হতে পারে। জাতীয়তাবাদী দল একটি বৃহত্তম দল। যে দলের নেত্রী জেলে থাকা অবস্থায় বর্তমান সরকারের কথায় বিশ্বাস রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
 সেই ঐক্যফ্রন্ট অর্থাৎ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপির একজন প্রার্থী আমি ছিলাম। বিগত দিনগুলোতে আমি কয়েকবার ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। সব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেও কয়েকবার নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছি ধানের শীষের কারণে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি বুঝতে পারি না, এই সরকারের কাছে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কতটা হবে-সেটা আমি একজন বিএনপির কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি না। যে সরকার দিনের বেলার ভোট রাতের বেলায় করেছেন আমার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরেক উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, শেখ হাসিনার কাছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে কি কোনো লাভ আছে? তার কাছে মুক্তি চেয়ে কোনো লাভ হবে না, কারণ, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়া হয়েছে এই কারণে যে, যাতে বিএনপি আবার ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, নির্বাচনে জয় লাভ না করতে পারে এবং জনগণের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে। তাই এখন আমাদের আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে যে যেখানে আছেন সেখান থেকেই সংগঠিত হতে হবে।
সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের সুশীল নাগরিক বুদ্ধিজীবী এবং কিছু সাংবাদিক অনেক সময় সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলেন, বিএনপি পারলে আন্দোলন করুক। আমি বলতে চাই- বিএনপি যদি আন্দোলন করে তাহলে বাধা আসবে আর বাধা এলে তার প্রতিরোধ করবে বিএনপি। আর তখন যে আন্দোলন শুরু হবে তখন তো আবার বলবেন যে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন, ধ্বংসাত্মক আন্দোলন শুরু করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ