ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 February 2019, ২ ফাল্গুন ১৪২৫, ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভেনেজুয়েলার সংকট সমাধানে প্রস্তুত রাশিয়া 

১৩ ফেব্রুয়ারি, এনডিটিভি/ তাস/ আল জাজিরা/বিবিসি : ভেনেজুয়েলার সংকট সমাধানে প্রস্তুত রাশিয়া। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন বার্তা দেয়া হয়। সেইসঙ্গে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অভিযোগে আমেরিকাকে সতর্ক করেছে দেশটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই র্যাভকব দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসকে জানায়, আমরা ভেনেজুয়েলার সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি এবং এমন পরিস্থিতি নিরসনে একটা ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে রাশিয়া এমন পরিস্থিতি নিরসনের কিছু প্রস্তাব দিয়েছে ভেনেজুয়েলাকে। তবে প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয় নি।

ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ও তেল উৎপাদন খাতে মস্কোর বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আছে। বিগত এক মাস ধরে ভেনেজুয়েলায় তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভের সময় বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবৈধ উল্লেখ করে নিজেকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। সেখানে শপথও নেন তিনি।

গুয়াইদোর এমন ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এছাড়াও আরো কয়েকটি লাতিন আমেরিকান দেশও গুয়াইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দেয়।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও মেক্সিকোসহ আরো কয়েকটি দেশ। এরপর থেকে দেশটিতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার দেখা দেয়। এছাড়া এরপর মাদুরো সরকারের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার তেল খাত থেকে উপার্জিত অর্থ দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোকে দেয়া হবে।

এছাড়া সম্প্রতি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার মিত্ররা এখন থেকে আর দেশটির জনগণের সম্পদ হরণ করতে পারবে না।

মার্কিন ত্রাণ প্রবেশের তারিখ ঘোষণা স্বঘোষিত প্রেসিডেন্টের : ভেনেজুয়েলায় মার্কিন ত্রাণ প্রবেশের তারিখ ঘোষণা করলেন দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো ত্রাণ আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করবে। সামরিক বাহিনী যেন এতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করে।  মঙ্গলবার মাদুরোর পদত্যাগ ও ত্রাণের দাবিতে রাজধানী কারাকাসে বিরোধীদের এক বিক্ষোভ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরোধীদের পাশাপাশি এদিন মাদুরো সমর্থকরাও ভেনেজুয়েলার রাস্তায় অবস্থান নিয়ে দেশে বিদেশি হস্তক্ষেপের নিন্দা জানায়। বিপরীতে বিরোধীরা বলছেন, তারা দেশে একটি পরিবর্তন দেখতে চান। ২৪ বছরের শিক্ষার্থী সোল বেটানকোর্ট আল জাজিরা’কে বলেন, আমার জন্মের পর থেকেই  দুর্ভোগ, ব্যথা ও ক্ষুধায় আত্মীয়স্বজনদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে দেখেছি। এভাবে চলতে পারে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো ত্রাণসামগ্রী যেন দেশটিতে প্রবেশ করতে পারে সেজন্য করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত একটি ব্রিজ খুলে দিতে কারাকাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদোর অনুরোধে এসব ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে কলম্বিয়া সীমান্তের একটি ব্রিজ অবরোধ করে তা আটকে দেয় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অনুগত সেনারা। ত্রাণ প্রত্যাখান করে যুক্তরাষ্ট্রকে বরং তেলের ওপর আরোপ করা অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন মাদুরো।

মার্কিন সহায়তাকে 'সম্মানহানি'র প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে মাদুরো বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ ভিক্ষুক নয়। ফলে ওই ত্রাণ কিভাবে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাবে কিংবা আদৌ পৌঁছাবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের নিদারুণভাবে মানবিক সাহায্য প্রয়োজন। ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে যেন এসব ত্রাণ পৌঁছানো যায় মাদুরো সরকারকে অবশ্যই সে ব্যবস্থা করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ