ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 February 2019, ২ ফাল্গুন ১৪২৫, ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ক্রিকেট ভুবনে অনন্য তামিম

মোহাম্মদ সুমন বাকী : ব্যাটিংয়ে আক্রমণাত্মক ঝড় তার জন্য নতুন কিছু নয়। তাইতো বোলাররা পেয়ে থাকেন ভয়। কখন না জানি চড়াও হয়। বেধড়ক পিটুনিতে বল হাওয়ায় উড়ে। অবশ্যই সেটা নিজস্ব ক্যারিশমার গুনে। এর ফলে চার-ছক্কার বাহারি মার কুটে। জোড়া হাতের সমন্বয়ে ব্যাটের হাকুনিতে। বোলারদের কাহিল হতে দেখা যায় এমন পর্যায়ে। বেধড়ক মার খেয়ে কোমড়ে হাত ধরে অসহায়ের মতো সবুজ ঘাসের মাঠে দাঁড়িয়ে থাকে। এমন দৃশ্য ক্রিকেট (গাংগুটি) অঙ্গনে অসংখ্য বার ফুটে উঠেছে। তা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? ঘুরে ফিরে যা দেখা গেছে। একের পর এক ম্যাচকে ঘিরে। গণনার তালিকায় সেটা অনেক আছে। তা লিখে শেষ করা কি যাবে? দেশের কোটি কোটি ক্রীড়া প্রেমী কি অভিমত রাখবেন এমন বিষয়ে? অপ্রিয় সত্য কথা, বোলারের চেয়ে ব্যাটসম্যান মারমুখী হয়ে গ্যালারীর আসন গরম করে তুলে। আপন মনে খেলে। তুখোর ফর্ম ধরে রাখে। দিনের পর দিন পরিশ্রমী অনুশীলনকে পুঁজি করে। যার ফলে দেশ-বিদেশে সুপার স্টার পরিচিতি পেয়ে থাকে। খেলার উত্তেজনার আঙ্গিনায় যা বার বার দেখা গেছে। সেটা সবার জানা রয়েছে। আপনাদের অভিমত কি এই ব্যাপারে? হাতের কব্জি শরীরের অংশ। তা সকলের মাঝে আছে।
বিশেষ করে সেই তালিকায় খেলোয়াড়রা অন্যতম। কয়েকটি ক্রীড়ার মতো হাতের কব্জি ক্রিকেট (গাংগুটি) বেশি ব্যবহৃত হয়। এ প্রতিবেদনের লেখনীতে টেকনিক্যাল সাইড নিয়ে আলোচনা করাটা অনেক সহজ। কথার ধারায় যা শতভাগ সত্য। সেটা সকল খেলা পাগল ভক্তের বোধগম্য। তা বলাবাহুল্য। ব্যাট হাতে সুপার স্টার হওয়া কম কথা নয়। তাই ঘিরে থাকে যত ভয়? ব্যাটসম্যান কি বলেন? মাঠের বৃত্তে নৈপূণ্য প্রদর্শন করা অনেক কঠিন কাজ। কোনো বোলার সহজে কি বাজে বোলিং করতে চান। জুয়ার বিষয়টি ভিন্ন কথা! এই প্রসঙ্গটি আপাতত বাদ দেয়া যাক। কারণ প্লেয়ারদের সব সময় জুয়ায় জড়িত হতে দেখা যায় না। এমন অবস্থায় একজন বোলার সেরা পারফরম্যান্স করে থাকেন সবুজ ঘাসের ময়দানে। যা স্বচ্ছ পানির ন্যায় ফুটে উঠে। সেটা খেলা ভক্তদের চোখের পাপড়িতে স্মৃতি হয়ে থাকে। তা বছরের পর বছর ধরে। যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিশ্ব মানের বোলার বিশাল ব্যাপার। সেটা নিয়ে ব্যাখ্যা করতে গেলে সময় ব্যয় হবে অনেক। কারণ তিনি আরেক স্টার। ব্যাটসম্যানের মতো অনুশীলনে প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। তাও আবার বছরের পর বছর। যা নানা ঘটনার স্পর্শ নিয়ে ইতিহাসের পাতায় সাক্ষী হয়ে থাকে মডেল হিসেবে। যা জানা আছে সবার। এটাই হলো খুশি-তিক্ততার সংমিশ্রনে অন্যতম উপহার। এভাবে একজন প্লেয়ারের গড়া হয় ক্যারিয়ার। এর ছোঁয়ায় তিনি ধাপে ধাপে বনে যান ওয়ার্ল্ড লেবেলের সুপার স্টার। যাকে নিয়ে চারদিকে ভালোবাসার জোয়ারে রব উঠে খুবই চমৎকার। এক বাক্যে বলা যায়, ক্রীড়া প্রেমীর কাছে দারুণ উপহার। এই ধারায় চাট গাঁ অঞ্চলের আদরের প্রিয় মুখ, লাল-সবুজ পতাকা দেশের রতœ, বিশ্ব তারকা ব্যাটসম্যান এবং ফিল্ডার তামিম ইকবাল খানের আবিস্কার। সে আক্রমণাত্মক পারফরমার। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে মাঠের কঠিন যুদ্ধে এ আভাস দিয়েছে বার বার। ক্রিকেট ভুবনে বহু কীর্তি রয়েছে যার। তা যেন সাফল্যের ধারায় গড়ে উঠা সুখী পরিবার। যা দেখা গেছে ধারাবাহিকতার ছোঁয়াতে। তামিম ইকবাল আবার বিপিএলকে (২০১৮-১৯) আলোকিত করে একেবারে শেষ সময়ে। দক্ষ ব্যাটসম্যান কাকে বলে? সেটা অসাধারণ নৈপূণ্য দেখিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে। ফাইনাল ম্যাচে বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ঢাকা টিম হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। এবারের বিপিএলে তামিমের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। মূলত তার ব্যাটিং নৈপূণ্য ফাইনাল ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। এ যেন সমুদ্র তীরে হঠাৎ জন্ম নেয়া ঝড়। তা সংকেত দেয়া নি¤œচাপের আভাস নয়। এখানে যা উল্লেখ করা প্রয়োজন। সদ্য শেষ হওয়া বিপিএল ফাইনাল ম্যাচে ব্যাটিং ঝড় তুলেছেন তিনি। সেটা খুশির জোয়ারে ভেসে গিয়ে দলের সমর্থকরা প্রাণ ভরে উপভোগ করেছেন। উইকেট (পিচ) ফ্ল্যাট। একেবারে ব্যাটিং স্বর্গ। সে কথা এক বাক্যে স্বীকার করবেন যে কেউ। কি বলেন? এমন পরিস্থিতিতে সেখানে তামিম ইকবালের ঝড়টা অনেক বেশি হয়েছে। তাও স্বীকার করবেন সবাই। কি বলেন? ছক্কা বেশি, চার একটু কম। যা ব্যাট হাতে মারের প্রেক্ষাপটে। সবকিছু মিলিয়ে উদ্ভাসিত নৈপূণ্যের বাহার।
ফাইনালে তিনি রান করেন  ১৪১ রান। বল খেলেছেন মাত্র ৬১টি।। অর্থ্যাৎ পুরোপুরি এগার (১১) ওভার ব্যয় করেননি। দাপট বজায় রেখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তান্ডব দেখিয়েছেন। তা স্বাভাবিক ধারায়। বা হাতি ব্যাটসম্যান সে। যা বলাবাহুল্য। বরাবরের ন্যায় তার ব্যাটিং তান্ডব ছিলো বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারির মাধ্যমে। বিপিএলের (বি-বিশ) ইতিহাসে যে কোন ফাইনালের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হলেন তামিম ইকবাল খান। সেটা রেকর্ডের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে আছে। এই অবস্থায় বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনার জোয়ার বইয়ে দিয়ে ফাইনাল সেরা সে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং পরিবারে জন্ম নিয়েছে যে। তা কি বার বার বলার অপেক্ষা রাখে? যাদের পরিবার বিশ্ব ক্রিকেটে (গাংগুটি) ফেমাস। তামিমের চাচা আকরাম খান। দেশের সফল তারকা ব্যাটসম্যান। আইসিসি বাছাই ট্রফি (১৯৯৭) চ্যাম্পিয়ন দলের সফল অধিনায়ক। তখন দারুণ খেলেছেন তিনি। নেদারল্যান্ডের (হল্যান্ড) বিপক্ষে জয় আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে তার জন্য। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে প্রথম টেস্ট কান্ট্রি দল হিসেবে পাকিস্তানকে পরাজিত করে বাংলাদেশ। সেই খেলায় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান আকরাম খান। যার ভাতিজা নাফিস ইকবাল। সে তামিমের বড় ভাই। নাফিস বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটসম্যান। দুর্দান্ত নৈপূণ্য দেখিয়েছিলেন তিনি। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান সে। মাঠের যুদ্ধে তার গড়া একাধিক কীর্তি ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে। যা স্মৃতি হয়ে জ্বল জ্বল করছে। আইসিসি এবং এসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টকে ঘিরে রেখে। কোটি কোটি ক্রীড়া প্রেমীর সেটা জানা আছে। তামিমের পিতা ইকবাল খান। তিনি ছিলেন ফুটবলার। তার দুই ছেলে দেশ সেরা ক্রিকেটার।
একজন অবসরে, আরেকজন এখানো ফাইট করে চলেছেন মাঠের যুদ্ধে। লাল-সবুজ পতাকাকে সাফল্য পাইয়ে দিতে। চার-ছক্কার বাহারে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। শুধু উপমহাদেশে নয়। এর বাইরে অতুলনীয় তামিম ইকবাল। আউট ফিল্ড স্লো। এমন কন্ডিশনে দারুণ পারফর্ম করে সে। জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ময়দানের সিরিজগুলো প্রমান হয়ে সাক্ষী দিচ্ছে। সে সব দেশে তার সুপার নৈপূণ্যের নিদর্শন রয়েছে। বিশেষ করে ছক্কার মার চোখের পাতায় বার বার ভেসে উঠে। তিনি বাউন্সি উইকেট (পিচ) দুর্বার। এক কথায় সুপার ডুপার বেস্ট পারফর্মার। এমন ধারায় ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আক্রমনাত্মক বাম হাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে চমৎকার।
পুল শর্ট এবং স্ট্রেট ড্রাইভে পটু মনে হয় তাকে। বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি মারেন এমন পন্থাতে। সে স্কয়ার কাটে মন্দ নয়। তাইতো পাওয়ার প্লের ফরম্যাটে চট্টগ্রামের হ্যান্ডসাম মডেল ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে নিয়ে যত ভয়। এই পরিস্থিতিতে ফর্মের দাপট বজায় রেখে ফাইনালে অগ্নি রূপ দেখিয়ে প্রথম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে এবারের বিপিএল করেছে জয়। সত্যি, ক্রিকেট ভুবনে অনন্য তামিম। বলেন কি?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ