শুক্রবার ১৩ আগস্ট ২০১০
Online Edition

চির সবুজের কবি মতিউর রহমান মল্লিক আর নেই

সামছুল আরেফীন : ‘‘টিক-টিক যে ঘড়িটা বাজে ঠিক ঠিক বাজে- কেউ কি জানে সেই ঘড়িটা লাগবে কয়দিন কাজে। ঝক ঝক ফক ফক করে যদ্দিন ঘড়ির চেহারা- ততদিন তারে কিনতে চায় যে খরিদদারেরা।’’ সেই ঘড়ির মতোই চলে গেলেন চির সবুজের কবি ও গীতিকার, ইসলামী সাহিত্য সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রাণপুরুষ মতিউর রহমান মল্লিক। গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি ইন্তিকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কবির ভক্তদের মাঝে। কবি মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীসহ বেশ কয়েকটি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা। তারই নিরলস প্রচেষ্টায় সারা দেশে নতুন ধারার ইসলামী সংগিত চর্চা শুরু হয় এবং এর বিস্তৃতি ঘটে। তার ইন্তিকালে দেশ ইসলামী সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারালো। প্রথম নামাযে জানাযা : মরহুমের অসিয়ত অনুযায়ী তার লাশ আনা হয় কবির নিজ হাতে গড়া সংগঠন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠির মগবাজারস্থ কার্যালয়ের সামনে। এ সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কবি ভক্তদের কান্নার রোল পড়ে যায় সেখানে। পরে তার প্রথম নামাযে জানাযা মগবাজারস্থ চান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা: শফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি তাসনীম আলম, কবি আল মাহমুদ, কবি আবদুল হাই শিকদার, সাহিত্য সংস্কৃতিকেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানছুর, সেক্রেটারি কবি আসাদ বিন হাফিজ প্রমুখ। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম ও ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ। ইসলামী সাহিত্য সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কবি মল্লিকের অবদানের কথা স্মরণ করে তারা বলেন, ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গতিময়তায় তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তার কর্মকান্ড ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে। তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। দ্বিতীয় নামাযে জানাযা : বাদ যোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দ্বিতীয় নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সভাপতি মাওলানা যাইনুল আবেদীন। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের, দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের ইসি চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মমিনুল ইসলাম পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল, মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, অধ্যাপক সাইফল্লাহ মানছুর, কবি আসাদ বিন হাফিজ প্রমুখ। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কবি রুহুল আমিন খান। তৃতীয় জানাযা ও দাফন : তৃতীয় নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় পল্লবীর কালসি কবরস্থান প্রাঙ্গনে। এতে ইমামতি করেন সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠির সাবেক পরিচালক মাওলানা তারিক মনোয়ার। এখানে নামাযে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান, সাইমুমের সাবেক পরিচালক ইকবাল হোসাইন, বর্তমান পরিচালক মোবারক হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ মুসা প্রমুখ। বিকেল পৌনে ৪টায় কালসি কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হন কবি মতিউর রহমান মল্লিক। সংক্ষিপ্ত জীবনী : কবি মতিউর রহমান মল্লিক ১৯৫৬ সালের ১ মার্চ বাগেরহাট জেলার রায়পাড়া উপজেলার বড়ইগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মুন্সী কায়েম উদ্দিন মল্লিক, মাতা আছিয়া খাতুন। তিনি বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। ইসলামী সাহিত্য সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রসেনানী কবি মতিউর রহমান মল্লিকের হাত ধরেই সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠির যাত্রা শুরু। ‘রঙিন মেঘের পালকি', ‘আবর্তিত স্বর্ণলতা' ও ‘অনবরত বৃক্ষের গান' তার কবিতার বই। তার গানের বই হচ্ছে ‘ঝংকার', ‘যত গান গেয়েছি'। ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ' নামে তার একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ রয়েছে। অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন কবি মতিউর রহমান মল্লিক। এর মধ্যে রয়েছে সবুজ মিতালী সংঘ সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় সাহিত্য সংসদ স্বর্ণ পদক, কলম সেনা সাহিত্য পদক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সাহিত্য পুরস্কার (ফ্রান্স), বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ পুরস্কার, কিশোরকন্ঠ সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার ইত্যাদি। ডীপ কোমায় ছিলেন কবি মল্লিক : ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ কবি ও গীতিকার মতিউর রহমান মল্লিক মারাত্মক সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে সজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন দীর্ঘদিন। গত ১১ জুলাই ডায়ালাইসিস শেষে বাসায় ফেরার পরপরই তার কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট হয়। প্রায় ২৫ মিনিট শ্বাস বন্ধ-মৃত প্রায় অবস্থায় হলে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দিয়ে কয়েক ঘণ্টা তাকে ইবনে সিনা হাসপাতালে রাখা হয়। পরে নেয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। গত ২১ জুলাই স্কয়ার হাসপাতালে কবি মতিউর রহমান মল্লিকের জন্য ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কবি মতিউর রহমান মল্লিককে ব্যাংকক থেকে হার্টে ৫টি রিং সংযোজন করে দেশে নিয়ে আসার পর বাসায় রেখে সপ্তাহে ৩দিন তাকে ইবনে সিনায় রেখে ডায়ালাইসিস করানো হতো। এভাবে ১ বছর পর পুনরায় ব্যাংককে নিয়ে কিডনী সংযোজনের কথা ছিল। হঠাৎ করেই কাডির্য়াক এ্যারেস্টের ঘটনা ঘটনায় কবি মল্লিক ডীপ কোমায় চলে যান। বিভিন্ন মহলের শোক: কবি মতিউর রহমান মল্লিকের ইন্তিকালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, কবি মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন ইসলামী সাংস্কৃতিক অংগনের এক উজ্জল নক্ষত্র। তিনি বিভিন্ন শিল্প গোষ্ঠীসহ বেশ কয়েকটি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা। তারই নিরলস প্রচেষ্টায় সারা দেশে নতুন ধারার ইসলামী সংগিত চর্চা শুরু হয়। মিউজিক ছাড়া সংগীতকে কিভাবে জনপ্রিয় করে তোলা যায় তারই স্বাক্ষর রেখে গেছেন কবি মতিউর রহমান মল্লিক। তার ইন্তিকালে ইসলামী সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে যে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। জাতির এ দুঃসময়ে তার শূন্যতা আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি। আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করছি। তিনি যেন তার জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতে উচ্চ মর্যর্াদা দান করেন। সাথে সাথে তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং দোয়া করছি আল্লাহ তাদের এ শোক সহ্য করার তাওফীক দান করুন। এছাড়া বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এমএ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি আবদুস শহীদ, সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-ভাসানী) এর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক, মহাসচিব হাসরাত খান ভাসানী, জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা আমীর মাওলানা আজীজুর রহমান, সেক্রেটারি মাস্টার নূরুন্নবী, যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি এডভোকেট গাজী এনামুল হক, পরিচালক অধ্যাপক আশরাফ আলী, সমন্বয়কারী মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস, আদর্শ শিক্ষক পরিষদ যশোরের সভাপতি অধ্যাপক আবদুর রশিদ, তরঙ্গ শিল্পী গোষ্ঠির পরিচালক শফিকুল ইসলাম রুবেল, তারার মেলার পরিচালক রোকনুজ্জামান হেদায়েতুল্লাহ হৃদয়, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বাগেরহাট জেলা সভাপতি শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বরিশাল বিভাগের ৫ টি সংস্কৃতিকেন্দ্রের শোক কবি মতিউর রহমান মল্লিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বরিশাল বিভাগের ৫টি সংস্কৃতিকেন্দ্র, বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংগঠকরা। এদের মধ্যে রয়েছেন বরিশাল সংস্কৃতিকেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদ হোসাইন দুলাল, পরিচালক সাংবাদিক আযাদ আলাউদ্দীন, ঝালকাঠি সংস্কৃতিকেন্দ্রের সভাপতি এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন, পরিচালক অধ্যাপক শফিউল আজম টুটুল, পটুয়াখালী সংস্কৃতিকেন্দ্রের সভাপতি ডা. আবদুল ওহাব মিনার, পরিচালক মোঃ জাকির হোসেন। পিরোজপুর সংস্কৃতিকেন্দ্রের সভাপতি ওয়াছিয়ার রহমান মন্টু, পরিচালক অধ্যাপক সোহরাব হোসেন জুয়েল, ভোলা সংস্কৃতিকেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাঈল, পরিচালক মোহাম্মদ উল্যাহ স্বপন। এছাড়াও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সংস্কৃতিকেন্দ্রের আওতাভুক্ত সহযোগী সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরাও কবি মতিউর রহমান মল্লিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জামায়াতের শোক বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, গীতিকার এবং ইসলামী সাহিত্য সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রাণপুরুষ জনাব মতিউর রহমান মল্লিক ১১ আগস্ট দিবাগত রাত ১২:৩০টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তিকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার শোকবাণী দিয়েছেন। শোকবাণীতে নেতৃদ্বয় বলেন, কবি মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীসহ বেশ কয়েকটি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা। তারই নিরলস প্রচেষ্টায় সারাদেশে নতুন ধারার ইসলামী সংগীত চর্চা শুরু হয় এবং এর বিস্তৃতি ঘটে। তার ইন্তিকালে দেশ ইসলামী সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারালো। তিনি ইসলামী সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে বিরাট অবদান রেখে গেছেন। তারা বলেন, তার ইন্তিকালে ইসলামী সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে যে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তারা আরো বলেন, জাতির এ দুর্দিনে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তার শূন্যতা আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি। আমরা দোয়া করছি আল্লাহ তায়ালা যেন তার জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতে উচ্চ মর্যর্াদা দান করেন। নেতৃদ্বয় তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, ভক্ত, অনুরক্ত ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দোয়া করেন আল্লাহ তাদের এ শোক সহ্য করার তাওফীক দান করুন। শিবিরের শোক ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিক কবি মতিউর রহমান মল্লিকের মৃত্যুতে শোকবাণী দিয়েছেন। শোকবাণীতে নেতৃদ্বয় বলেন, কবি মতিউর রহমান মল্লিকের একজন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার, সুরকার ছিলেন। তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কর্মতৎপরতায় নিজেকে সোপর্দ করেছেন। তিনি যুব সমাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে তার লেখনীতে তুলে ধরেছেন ইসলামী পুনর্জাগরণ। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নেতৃদ্বয় বলেন, তার মৃত্যুতে আজ জাতি এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারালো। তিনি তার কর্মময় জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপই যুব সমাজের জন্য বড় শিক্ষানীয়। লেখনীর মাধ্যমে যুব সমাজকে ইসলামী পুনর্জাগরণে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। যুবসমাজ সেই পুনর্জাগরণ থেকে আজ বঞ্চিত হল। নেতৃদ্বয় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আরো বলেন, অসীম ক্ষমতাধর মহান প্রভু যেন তাকে দুনিয়াবি সকল অন্যায় ক্ষমা করে জান্নাতের অমীয় সুধা পান করান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ