ঢাকা, শনিবার 16 February 2019, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কপোতাক্ষে’র টিআরএম ভাঙ্গন কূল প্রতিরক্ষা ব্লক স্থানীয়দের বাড়িতে!

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: কপোতাক্ষ’র টিআরএম এলাকায় ভাঙ্গন কূল রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ব্লক এখন  স্থানীয় একটি মহল, ইচ্ছেমত নিজেদের বাড়ীতে নিয়ে বিভিন্ন কাজে  ব্যবহার করছে। কেউ বাড়ীর পাচিল, কেউ ঘরের সিড়িতে আবার কেউ পুকুরের ঘাট নির্মাণ করছে এই ব্লক দিয়ে। প্রতি নিয়ত ব্লক চুরির  ফলে  সরকারের কোটি টাকার প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে।   সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কপোতাক্ষের পাড়ে বালিয়া ভাঙ্গন কূল রক্ষায় নির্মিত শত শত ব্লক হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাধিক ব্যক্তি বাড়ীতে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে পাচিল নির্মাণ করেছে  উক্ত ব্লক দিয়ে। কেউ আবার ঘরের সিড়ি, পুকুরের ঘাটে ব্যবহার করছে উক্ত ব্লক । ঐ গ্রামের  খলিল মোড়লের স্ত্রী কমলা বেগম,  মহাতাব মোড়লের ছেলে আঃ সবুর মোড়ল সহ অনেকের বাড়ীতে গিয়ে দেখাযায় ব্লক সাজিয়ে পাচিল নির্মাণ করেছে। এলাকাবাসী জানায়,  আমরা ভাঙ্গন কূলের মানুষ, আমাদের বাড়ীঘর, জমি জমা এমনকি কবরস্থান পর্যন্ত ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছি । ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে রক্ষা করতে  সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে নদীর দু-পার্শ্বে ব্লক দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করার চেষ্টা করছে। কিন্ত একদল স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি তাদের নিজেদের স্বার্থে  ভাঙ্গন কূল রক্ষার ব্লক বাড়ীতে নিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানাযায়, এ অঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মুক্তির স্বার্থে কপোতাক্ষ নাব্যতা ফেরাতে ২০১১ সালে ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ ৮৩ হাজার  টাকা ব্যয়ে  কপোতাক্ষ নদ’র জলাবদ্ধতা দূরীকরণে খনন প্রকল্প (১ম পর্যায়)” গ্রহন করে সরকার। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্পটির মূল কাজ তালা উপজেলার পাখিমারা বিলে টিআরএম (বিলের মধ্যে জোয়ার ভাটার ব্যবস্থা) বাস্তবায়ন এবং ৯০ কিঃমিঃ কপোতাক্ষ নদ খননের কাজ হাতে নেয়। পরবর্তীতে আরও  ৬ কোটি ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ প্রকল্প গ্রহণ করে। এছাড়া  খেশরা ও জালালপুর ইউনিয়নের পাখিমারা বিলে আরও  ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ শত ৬৬ একর জমিতে টি.আর.এম প্রকল্প বাস্তবায়ন এ লিংক চ্যানেল খনন সহ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। যেটির মেয়াদ শেষ হলেও কর্তৃপক্ষ মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াসহ কাজ অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারী কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট যশোরের চাকলাদার এন্টারপ্রাইজের এর ঠিকাদার শামীম চাকলাদার বাবু জানান, আমাদের যে পর্যন্ত দায়িত্ব ছিল তা করেছি, উদ্বৃত্ত ব্লক গুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড’র দায়িত্বে। জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ ব্লকগুলো কি করবে  সেটা তারাই ভলো জানেন। তবে সরকারি সম্পদ কেউ বাড়ী কাজে ব্যবহার করা টা দন্ডনীয়। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহম্মেদ জানান, উক্ত ব্লক গলো রিপিয়ার কাজ করার সময় লাগবে বলে রাখা ছিলো, শুনেছি স্থানীয় অনেকেই  তা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিবো। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড’র নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর গোষ¦ামী জানান, আমি লোক পাঠাচ্ছি, এগুলো কেউ চুরি করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ