ঢাকা, শনিবার 16 February 2019, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দামুড়হুদায় সোলার ডিপ ইরিগেশন পাম্পের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম শুরু

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা, ১০ ফেব্রুয়ারি : চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলার গ্রামের মাঠে কৃষকদের সেচ সুবিধার্থে স্থাপন করা হচ্ছে সৌর চালিত পরিবেশ বান্ধব সোলার ডিপ ইরিগেশন পাম্প। এতে কৃষকদের যেমন সময় অপচয় কম হবে, তেমনি গভীর নলকুপের তুলনায় সেচ খরচও কম হবে। দামুড়হুদা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবপুর, জুড়ানপুর ইউনিয়নের বেষ্টপুর ও হাউলি ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের বিদ্যুৎ বিহীন, আর্সেনিক মুক্ত এলাকায় চাষীদের মতামতের ভিতিত্বে মাঠে মোট তিনটি সৌর চালিত ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। এরইমধ্যে কাদিপুর ও দামুড়হুদার কেশবপুর গ্রামের মাঠে সেচ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বেষ্টপুর মাঠের পাম্প বসানোর কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটির সেচ কার্যক্রম শুরু করা হবে। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ইডকলের অর্থায়নে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়ন করছে। ওয়েভ ফাউন্ডে সোলার ডিপ ইমিগ্রেশনের সমন্বয়কারী কিতাব আলি জানান, বিদ্যুৎ বিহীন  মাঠে এই পাম্প বসানো হচ্ছে। প্রথমে মাঠে পানি পরীক্ষা করে আর্সেনিক মুক্ত এলাকায় কৃষকদের মতামতে ভিত্তিতে ১০ কাঠা জমি প্রতি বছরে ৫/৬  হাজার টাকা চুক্তিতে লিজ নেওয়া হয়। পরে ঐ জমিতে ৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মেশিনের ঘর, দুই সারিতে ১৩৬ টি সৌর প্যানেল, মাটির নিচ দিয়ে পাইপ বসানোর হয়েছে। জমির ৪ ফুট মাটির  নিচ থেকে পাইপ বসানো হয়েছে। যাতে করে চাষীদের চাষ কাজের কোন অসুবিধা বা জমি অপচয় না হয়। এই ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্প থেকে ২০০বিঘা জমিতে অনায়েশে সেচ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে। সৌর প্যানেলে সংযোগ দেওয়ার কাজসহ সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখান থেকে প্রতি ঘন্টায় আড়াই লক্ষ লিটার পানি উত্তোলিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই পাম্প চালানো যাবে। রাতে কখোনোই এই পা¤প চালানো যাবে না। সম্প্রতি দামুড়হুদার কাদিপুর গ্রামের মাঠে ও গত শুক্রবার দামুড়হুদার কেশবপুর মাঠে সেচ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেষ্টপুর মাঠে সেচ কার্য়ক্রম শুরু করা হবে। সোলার ডিপ ইরিগ্রেশনের আওতায় চাষীরা চাষ করে অনেক সুবিধা পাবেন। যেখানে গভীর নলকুপে বছরে সেচ খরচ হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। অগভীর নলকুপে স্যালো ইঞ্জিনে প্রতি বছর খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।
সেখানে সোলার ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্পের আওতায় প্রতি বছর এক বিঘা জমিতে সেচ খরচ ধরা হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫ শত টাকা। আগামী ২০ বছর এই ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্প পরিচালনা করবে ওয়েভ ফাউন্ডেশন। এখানে একজন মাসিক চুক্তিতে চালক নিয়োগ দেওয়া হবে। চাষিরা চালককে তার জমিতে পানির প্রয়োজন জানালেই সে জমিতে পানি দেওয়া হবে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলায় বিদ্যুৎ বিহীন আর্সেনিক মুক্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে চলতি সেচ মওসুমে ৩০টি সোলার ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্প স্থাপন করা হবে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলাই ১৪টি সোলার ডিপ ইরিগ্রেশন পা¤প চালুকরা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ