ঢাকা, রোববার 17 February 2019, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অবগুণ্ঠন উন্মোচন ॥ আসিফ আরসালান

নির্বাচনী কারচুপির ব্যাপারে কিছু একটা করার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রতি কংগ্রেসের অনুরোধ
আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার। বগুড়া বিএনপির বিশিষ্ট নেতা মোহাম্মদ শোকরানা সম্পর্কে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনে’ ডাহা মিথ্যা একটি খবর ছাপা হয়েছে। পত্রিকাটির প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদটির শিরোনাম ‘কানাডায় পাড়ি দিলেন বিএনপি নেতা শোকরানা’। খবরে বলা হয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বগুড়া জেলা কমিটির উপদেষ্টা স্বনামখ্যাত রাজনীতিক মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শোকরানা। দল ত্যাগ করে পাকাপাকি বাস করার জন্য আজ (শনিবার) কানাডা যাচ্ছেন। আলোচ্য পত্রিকায় শোকরানার বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘বিএনপি নয়, রাজনীতি ছেড়ে অবসরে যাচ্ছি।’ বাংলাদেশ প্রতিদিন বলেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ শোকরানা রাজনীতি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে বগুড়ার ছিলিমপুরে তার মালিকানাধীন ফোর স্টার হোটেল ‘নাজ গার্ডেন’ ও শহরের বাদুড়তলার বাসভবনসহ সব স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পত্রিকাটিতে বলা হয়েছে, কানাডায় বসবাসরত বড় ছেলের কাছে স্থায়ীভাবে যাচ্ছেন শোকরানা। শনিবার ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে কানাডা রওনা হওয়ার কথা।
খবরটি ডাহা মিথ্যা। শোকরানা শনিবার সস্ত্রীক কানাডা গেছেন, একথা সত্য। কিন্তু তিনি বিএনপি ছেড়ে দিয়েছেন এবং বগুড়ার পাট চুকিয়ে কানাডা সেট্ল করছেন, একথা মোটেই সত্য নয়। গত ২৫ ডিসেম্বর আমি (এই কলাম লেখক) সপরিবারে বগুড়া যাই এবং শোকরানার মালিকানাধীন চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনে উঠি। বগুড়ার ছিলিমপুরে এই অভিজাত হোটেলটি অবস্থিত। অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত আমার মেয়ে এবং আমার জামাই তাদের দুই সন্তানসহ এই হোটেলে ওঠে। ঢাকা থেকে আমার বড় মেয়ে তার স্বামী এবং কন্যাসহ ঐ হোটেলে ওঠে। তার তিন-চার দিন আগে আমার ছোট ভাই মাহমুদুর রহমান মান্না এবং আর এক ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান আন্না ঐ হোটেলে ওঠে। জাপান থেকে আগত আমার মামাত ভাই খোকন সেই হোটেলে সপরিবারে সকালে আসতো এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের সাথে সময় কাটাতো। বগুড়ায় স্থায়ীভাবে সেট্ল করা আমার ডাক্তার বড় ভাই ডাক্তার মাহফুজুর রহমান রানা সপরিবারে প্রতিদিন এই হোটেলে আসতেন এবং আমাদের সাথে সময় কাটাতেন। আমাদের সকলের কথা এখানে বলার  একটি কারণ আছে।
২৫ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা নাজ গার্ডেনেই ছিলাম। ২৯ ডিসেম্বর আমরা যখন সকালের নাস্তা করার জন্য ওপর থেকে নিচে নামি এবং ডাইনিং টেবিলে যাই তখন আমাদের সাথে নাস্তায় শামিল হন শোকরানার সহধর্মিনী। তিনি আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী কামরুন্নাহার রানা এবং আমার স্ত্রী বেগম সুলতানার সাথে খোশগল্প করছিলেন। এই  খোশগল্প প্রসঙ্গে মিসেস শোকরানা জানান যে, তার বড় ছেলে কানাডায় স্থায়ীভাবে সেট্ল্ড। তিনি খুব আনন্দের সাথে বলেন যে, যে তার ছেলের যমজ সন্তান হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর যমজ নাতি হয়েছে। তাদেরকে দেখতে তিনি এবং তার স্বামী শোকরানা ফেব্রুয়ারি মাসের ২য় সপ্তাহে কানাডা যাবেন এবং বেশ কিছু দিন থাকবেন।
৩০ ডিসেম্বর আমরা অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন মানুষ সকালের নাস্তা করার জন্য নাজ গার্ডেনের ডাইনিং টেবিলে ছিলাম। এর মধ্যেই চতুরদিক থেকে খবর আসতে থাকে যে, বগুড়ার কোনো সেন্টারেই সাধারণ ভোটারদেরকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের পাহারায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা সমানে নৌকা এবং লাঙ্গলে সীল মেরে যাচ্ছে। বেলা ১১টার মধ্যেই খবর আসে যে ব্যালট পেপার ফুরিয়ে গেছে এবং সাময়িকভাবে ভোট গ্রহণ বন্ধ আছে। এর মধ্যে টেলিভিশনের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক তাদের ক্যামেরা নিয়ে এবং প্রায় সমস্ত দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকরা তাদের ক্যামেরা নিয়ে মান্নার ইনটারভিউ নেওয়ার জন্য নাজ গার্ডেনের লবিতে আসে। এই সময় লবিতে ৮ থেকে ১০ জন ইউনিফর্ম পরা ডিবি পুলিশ লবিতে অবস্থান করছিলেন। বাইরে পুলিশ ভ্যান টহল দিচ্ছিলো।  মান্না ইনটারভিউ দেওয়ার জন্য ডাইনিং টেবিল থেকে উঠে লবিতে যায়। মান্না যখন সাংবাদিক সন্মেলন করছিল তখন সেখানে উপস্থিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম। সাংবাদিকরা তাকে বলেন যে, মান্না সাহেবের ইনটারভিউ শেষ হলে তারা হিরো আলমের বক্তব্য শুনবেন।
মান্না যখন প্রেস কনফারেন্স করছিলো তখন আমরা শোকরানা এবং তার পরিবারের সাথে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম। ইলেকশনের গল্পের এক ফাঁকে শোকরানা আমাকে তার পারিবারিক সুসংবাদটি দেয়। খুশিতে বলে যে, তার ছেলের ঘরে যমজ সন্তান হয়েছে। তাদেরকে দেখার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের ২য় সপ্তাহে সে সস্ত্রীক কানাডা যাবে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, তুমি ফিরবে কবে? উত্তরে সে বলে, অন্তত মাস দুয়েক থাকবো। কানাডা বড় দেশ। ঘুরে বেড়াবো। সম্ভব হলে আমেরিকা যাবো।
কানাডাতে শোকরানার বড় ভাই জিন্নাহর মেয়েও বাস করে। আবার জিন্নাহর ছেলে আমেরিকার এ্যারিজোনাতে বাস করে। সম্ভব হলে এসব জায়গায় সে বেড়াতে যাবে। তবে লম্বা সময়ের জন্য থাকতে পারবে না। কারণ নাজ গার্ডেন শুধু চার তলা হোটেলই নয়, তার সামনে পেছনে বিস্তীর্ণ ফাঁকা জায়গা রয়েছে। রয়েছে চমৎকার ফুলের বাগান এবং বোটিংয়ের জন্য কৃত্রিম খাল বা হ্রদ। এই ব্যবসা ফেলে বেশি দিন সে দেশের বাইরে থাকতে পারবে না।
আজ যখন বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পৃষ্ঠায় শোকরানার স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ছাড়ার খবর পড়লাম তখন আমার আক্কেল গুড়ুম। সংবাদ প্রেরক বগুড়ার আব্দুর রহমান টুলু এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওপর আমার করুণা হলো। সাংবাদিকতার মিনিমাম এথিকস না মেনে হাওয়া থেকে পাওয়া খবরকে যারা ফার্স্ট পেজের নিউজ বানায় তাদের সম্পর্কে আর কি বলবো।
॥দুই॥
আজ শোকরানার খবর দেওয়া আমার আলোচনার মূল বিষয় ছিল না। বিগত নির্বাচনকে ঘিরে দেশে বিদেশে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং ভোট ডাকাতি বা কারচুপির তদন্তের যে দাবি উঠেছে সেই বিষয় নিয়ে লেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু মাঝপথে এমন জ্বলন্ত মিথ্যা খবর দেখে আমাকে দু’কথা বলতেই হলো। এখন আসছি মূল প্রসঙ্গে।
সরকার যখন ঢক্কানিনাদে দেশ বিদেশে প্রচার করে বেড়াচ্ছে যে এমন সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আগে আর হয়নি এবং জনগণ বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন অন্যদিকে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন আওয়াজ। সর্বশেষ প্রতিবাদ এবং তদন্তের দাবি করেছে খোদ মার্কিন কংগ্রেস। কংগ্রেস সর্বসম্মতভাবে চাচ্ছে যে, বাংলাদেশে নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকার একটা কিছু করুক। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কংগ্রেস ম্যানদের তরফ থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পিওকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। ঐ চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নেতিবাচক পথ (negative trajectory) দেখে আমরা দারুণভাবে উদ্বিগ্ন। এই বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিভাবে মোকাবেলা করবে তার একটি রূপ রেখা জানানোর জন্য আমরা অনুরোধ করছি। বাংলাদেশে নির্বাচন বিশেষ করে ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্যতার যে মারাত্মক অভাব ছিল সেই অভিযোগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিভাবে মোকাবেলা করবে সেটি জানা প্রয়োজন।
আপনি (মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী) যেমনটা জানেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারে সমর্থন দেয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক নির্বাচনে যেসব গুরুতর অনিয়মের রিপোর্ট এসেছে তা এসব গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি।
ঐ চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আছে একটি শক্তিশালী ও গর্বিত গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য।  তাই বিশেষ করে আমরা আতঙ্কিত, নির্বাচনকে সামনে রেখে যে প্রচারণা হয়েছে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে সহিংসতা, গণগ্রেফতার ও মুক্ত মত প্রকাশের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন দ্বারা। আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে যেসব আসনে তার মধ্যে শতকরা ৯৬ ভাগ আসনে তারা বিজয়ী হয়েছে, যা ২০১৪ সালে এই দল ও তার মিত্রদের জয়ী আসনের চেয়েও বেশি। ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল মূল বিরোধী দল। আর তাই অর্ধেকের বেশি আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন।
যদিও সরকার নিয়োজিত নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচন ন্যায়সঙ্গত হয়েছে কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, ব্যাপক জালিয়াতি ও ভোটারদের দমিয়ে রাখার অভিযোগগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত। প্রেস থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন সরকারিভাবে ছিল উন্মুক্ত। তবে সাংবাদিকরা দেখতে পেয়েছেন, কিছু ব্যালট বাক্স নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্যালটে পূর্ণ হয়েছে। আরো রিপোর্ট আছে যে, কিছু মানুষকে ভোট দেয়া থেকে বিরত রেখেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বলা হয়েছে, মধ্যাহ্ন ভোজের জন্য ভোটকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। অথবা বলা হয়েছে ব্যালট শেষ হয়ে গিয়েছে। অনেক ভোটার বলেছেন, তাদের ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। বিষয়টিকে আরো খারাপ করতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সুবিধা দিয়ে যাদের পাঠানোর কথা তারাসহ আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ক্রিডেন্সিয়াল ও ভিসা অনুমোদনে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
॥তিন॥
আমি প্রথমেই বলেছি যে, প্রথম তিন-চার দিন সরকারি মহলে নির্বাচনের বানোয়াট ফলাফলে আওয়ামী লীগ নিজেরা উল্লসিত হলেও এবং কয়েকটি বিদেশী রাষ্ট্রকে ভুল বুঝিয়ে অভিনন্দন আদায় করলেও নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কে এখন অনেকের মোহভঙ্গ শুরু হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি টিআইবি তাদের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, ৩০০ আসনের মধ্যে ৫০টি আসনের নির্বাচন তারা পর্যবেক্ষণ করেছে। এই ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৭টিতে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। এমনকি এই ৫০টির ৩৩টিতে আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেছে। টিআইবির এই প্রতিবেদনের পর বেশ তোলপাড় বয়ে যায়। যদিও এরকমের ঘটনা যে ব্যাপকহারে ঘটেছে তা বাংলাদেশের মানুষ সবাই কমবেশি জানেন, তারপরও টিআইবির মতো প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন তথ্য দেয়াটা সরকারের জন্য বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
এরপর গত ২২ জানুয়ারি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নামের সরকার সমর্থিত প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষকরা তাদের পূর্বের বক্তব্য ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে’ থেকে সরে এসে ‘আগের রাতে ব্যালটবাক্স ভরে রাখা’র কথা বলার পর সরকার আরেক দফায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। এই সংগঠনটি নির্বাচনের দিন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এবং নির্বাচনের পরের দিনও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে পরে জানা গেছে, এই ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টাদের একজন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আর একজন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য।
এ ছাড়াও সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের হয়ে কানাডীয় নাগরিক তানিয়া ফস্টার প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে বলেছিলেন, বাংলাদেশে কানাডার মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে গত ২২ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তানিয়া ফস্টার বলেছেন, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। ইতিপূর্বে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জন্য তিনি অনুতপ্ত বলেও জানান। তিনি জানতেন না যে, এর সাথে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং সার্কের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
নির্বাচন নিয়ে সর্বশেষ সরকারকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। ভোটের আগের রাতেই ব্যালটবাক্স ভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে দলটি। এজন্য প্রশাসনে অতি উৎসাহী একটি অংশ দায়ী বলে মনে করছে দলটি।
এই ধরনের উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, আল জাজিরাসহ অনেক পশ্চিমা প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ভোট ডাকাতির মেকানিজম উদ্ঘাটিত হচ্ছে। আর এদিকে সরাসরি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সরকার নিজেই। তারা এখন বিরোধী দল খুঁজে পাচ্ছে না। ইনুর জাসদ এবং মেননের ওয়ার্কার্স পার্টির এমপিদেরকে বিরোধী দলে বসতে বলা হচ্ছে। কিন্তু তারা বেঁকে বসেছে। তারা বলছে আমরা আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোটে থেকে ইলেকশন করলাম, নৌকায় চড়লাম, আওয়ামী লীগের সাথে মিলে বিএনপি ও জামায়াতের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করলাম। এখন কেন আমরা বিরোধী দলে যাবো? গত বারে আমরা মন্ত্রী ছিলাম। এবার কেন আমরা মন্ত্রী হবো না। গ্যাঁড়াকল লেগেছ জাতীয় পার্টিকে নিয়েও। এরশাদ যখন সিঙ্গাপুর ছিলেন তখন তার ভাই জিএম কাদের তার এমপিদেরকে নিয়ে বসেন এবং সোজা সাপটা বলে ফেলেন যে, তারা গতবারেও  ১৪ দলীয় জোটের সাথে ছিলেন, এবারেও  ১৪ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচন করেছেন। সুতরাং তারা গতবারেও সরকারী দলে ছিলেন এবং মন্ত্রী ছিলেন, এবারেও সরকারী দলেই থাকবেন এবং মন্ত্রী হবেন।
এসবের ফলে দেখা যাচ্ছে যে, জাতীয় সংসদে কোনো বিরোধী দল নাই। ৩০০ জন সদস্যই সরকারী দলের। কবির ভাষায়, অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। বিরোধী দলবিহীন পার্লামেন্ট? সরকার পড়ে মহা ফাঁপরে। এর দুই দিন পর সিঙ্গাপুর থেকে এরশাদ দেশে ফিরে আসেন। একথা কোনো পত্রিকা লেখেনি। কিন্তু বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, এরশাদ ফেরার পর তার ওপর প্রচন্ড চাপ আসে বিরোধী দলে বসতে। অনুমান করা যায় যে, এই চাপের ফলে এরশাদ তার এমপিগণকে বাধ্য করেন বিরোধী দলে বসতে। জাতীয় পার্টির সদস্য বিরোধী দলে বসলে কি হবে। তারাতো সেখানে যেয়ে ঠোঁট সেলাই করে বসে আছেন। এখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যে লাউ সেই কদু। আসলে ৩০ ডিসেম্বরের পর দেশে পরোক্ষভাবে একদলীয় সরকার  কায়েম হয়ে গেছে।
asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ