ঢাকা, রোববার 17 February 2019, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

টেকনাফে বদির ১৬ স্বজনসহ ১০২ ইয়াবাকারবারির আত্মসমর্পণ

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : অবৈধ অর্থ আর ক্ষমতার দাপটে গত এক দশক ধরে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকা হাজারো ইয়াবা ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের ডানা ভেঙ্গে মাটিতে নামানোর কাজটি শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সংখ্যার দিক থেকে ইয়াবা কারবারীদের ডানা ভাঙ্গার কাজ শুরুতে কম দেখা গেলেও পুলিশসহ আইনশৃংখলাবাহিনীর সদিচ্ছা থাকলে যে অপরাধের রাশ টেনে ধরা যায় সেটার প্রমাণ আবারো দিল কক্সাজারের টেকনাফে। গত কয়েক মাসে পুলিশের তৎপরতায় একটি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হয়ে গেলো ইয়াবার জেলাতে। ঢাক-ঢোল পেটানো অনুষ্ঠানে অন্ধকার জগত থেকে ফিরে আলোয় আসতে বাধ্য হয়েছে টেকনাফের চেনা জানা প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। এখন তাদের ঠিকানা কারাগার। মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও  সরকারের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল‘র উপস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন কক্সাজারের ১০২ জন ইয়াবা কারবারি। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারী এই ১০২ জনের মধ্যে ২৪ জন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা তালিকায় ‘গডফাদার’ হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ৩০ কেজি ইয়াবা ও ৩০টি অস্ত্র সমর্পণ করেন ইয়াবা কারবারিরা। এরপর তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। আত্মসমর্পণ করা ১০২ জনের মধ্যে কক্সাজারের সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদির চার ভাই ও ১২ আত্মীয়সহ ১৬ জন আছেন।
 দেশে প্রথমবারের মতো আত্মসমর্পণ করলেন মাদক কারবারিদের একটি অংশ। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এখনও আড়ালে থেকে যাচ্ছে ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বড় অংশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, কক্সবাজারে সরকারের তালিকাভুক্ত বড় ইয়াবা কারবারি আছেন ৭৩ জন। তাঁদের ২৪ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। এই ২৪ জনের মধ্যে আছেন সাবেক সাংসদ বদির চার ভাই আবদুল শুক্কুর, আবদুল আমিন, মো. শফিক ও মো. ফয়সাল, বদির ফুফাতো ভাই কামরুল ইসলাম রাসেল, ভাগনে সাহেদুর রহমান নিপুসহ ১৬ জন। এ ছাড়া আছেন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে দিদার মিয়া, হ্নীলার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নুরুল হুদা ও জামাল হোসেন, টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর নুরুল বশর নুরশাদ, নারী কাউন্সিলর কহিনুর বেগমের স্বামী শাহ আলম, টেকনাফ সদর ইউপি সদস্য এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দুই ভাই জিয়াউর রহমান ও আবদুর রহমান প্রমুখ। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ২ থেকে ১৬টি মামলা আছে।
৭৩ বড় ব্যবসায়ীর বাকি ৪৯ জনের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ছয়জন। বাদবাকি ৪৩ জনের কেউই আত্মসমর্পণ করেননি। এর মধ্যে তালিকার এক নম্বরে থাকা সাবেক সাংসদ নিজেও আত্মসমর্পণ করেননি। তালিকার দুই নম্বরে থাকা সাইফুল করিম বিদেশে অবস্থান করছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সব কটি তালিকায় ‘পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে আবদুর রহমান বদি ও বদির ৫ ভাই, এক বোনসহ ২৬ জন নিকটাত্মীয়ের নাম আছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এটি সরকারের অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযানের চলমান প্রক্রিয়া। যারা আত্মসমর্পণের সুযোগ নিয়েছেন, তাদের জন্য সেটি ভালো হয়েছে। যারা এই সুযোগ নেননি, তাদের ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হবে। কারণ, সরকার এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কেউ যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ইয়াবা ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াবা কারবারি অন্যদেরও আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় না দেওয়ার অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ইয়াবা চোরাচালান বন্ধ করতে সীমান্তকে কঠোরভাবে সুরক্ষা করা হবে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফসহ ১৯৩টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে ঢুকছে। মিয়ানমারকে ইয়াবা চোরাচালান বন্ধ করতে অনেকবার বলেছি। তারা বলে কিন্তু বাস্তবে কিছুই করে না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সীমান্তকে আমরা কঠোরভাবে সুরক্ষা করব।’
পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. জাবেদ পাটোয়ারী অন্য চোরাকারবারিদেরও আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের মধ্যে যারা ঘাপটি মেরে আছেন, তাদের কাছে কঠোর বার্তা দিতে চাই। হয় আত্মসমর্পণ করেন, নইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ এই মাদক পাচারে যুক্ত থাকলে তাদের বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন পুলিশ প্রধান।
আত্মসমর্পণকারীদের অভয় দিয়ে তিনি বলেন, “যারা আত্মসমর্পণ করেছেন, তাদের নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য যা যা করণীয়, তা করা হবে, আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে তাদের। আইনের মাধ্যমে স্বল্পসময়ে যেন তা নিষ্পন্ন করা যায়, সেই ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।”সারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় এরকম আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও জানান জাবেদ পাটোয়ারী। ইয়াবা নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা মাদককে নির্মূল করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।”
এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান আয়োজনে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজার অবস্থান করে সার্বিক প্রস্তুতির ততা¡বধান করছিলেন।
মাদকের বিরুদ্ধে গত বছরের ৪ মে থেকে চালানো অভিযানের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ‘ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে’ প্রায় তিনশ ইয়াবা কারবারি নিহত হন। এর মধ্যে ইয়াবার জেলা বলে খ্যাত কক্সবাজারেই ৪৪ জন নিহত হন।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, মাদক নির্মূলে ইয়াবা কারবারিদের ‘স্বাভাবিক জীবনে’ ফিরে আসা এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে আত্মসমর্পণের জন্য ইয়াবা কারবারিদের কক্সবাজার পুলিশ লাইনসে জড়ো করা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো বাহিনীর সম্পৃক্ততা নেই।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এরপর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁদের সাধারণ ক্ষমার কোনো সুযোগ নেই। যা হবে প্রচলিত আইনেই হবে।
পুলিশ সুপার জানান, ইয়াবা কারবারিরা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্মতি জানানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিশেষ উদ্যোগে জেলা পুলিশও তৎপরতা শুরু করে। এতে অনেকে সাড়া দিয়ে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে নিরাপদ হেফাজতে আসেন।
বাংলাদেশে বর্তমানে মাদকের মধ্যে ইয়াবা ট্যাবলেটের কথাই সবার আগে আসে। এই ইয়াবা আসে মূলত মিয়ানমার থেকে। ইয়াবা পাচার বন্ধে মিয়ানমার সরকারের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না বলে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই গত বছর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদকবিরোধী অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের প্রশ্নবিদ্ধ অভিযানে কয়েকশ জন নিহত হলেও ইয়াবা কারবার বন্ধ করা যায়নি। এই অবস্থায় নতুন বছরের শুরুতে ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের সুযোগ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এনামুল হক গত ১৫ জানুয়ারি ফেইসবুকে ঘোষণা দিয়ে প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণের কথা জানালে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়। কক্সবাজারের চিহ্নিত মাদক পাচারকারীদের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের আগ্রহ জানালে বিষয়টি আকার পেতে শুরু করে।
টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায় বিনিয়োগ লাগে না !
টেকনাফের কোনও ব্যক্তির ইয়াবা ব্যবসায় জড়াতে বিনিয়োগ লাগে না। মিয়ানমার থেকে বিনামূল্যে ইয়াবার চালান পাঠানো হয় টেকনাফের নির্ধারিত ব্যক্তির কাছে। এই ইয়াবার চালান পাঠানোর সময় কোনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ইয়াবা জব্দ হলে তার মূল্য পরিশোধ করতে হয় না। যে চালান নিরাপদে ব্যক্তিবিশেষের কাছে পৌঁছাবে কেবল তারই মূল্য পরিশোধ করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে এর মূল্য পরিশোধ করতে হয় দেশের মধ্যে। মিয়ানমারে সরাসরি কোনও টাকা বা অর্থ পাঠাতে হয় না। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত নির্ধারিত এজেন্টরা এ টাকা সংগ্রহ করে থাকেন। টেকনাফ, কক্সবাজার শহর, চট্টগ্রাম এবং ঢাকা কেন্দ্রিক এসব ব্যবসায়ী বৈধ ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার অর্থ সংগ্রহ করে দুবাই-সিঙ্গাপুর পাচার করে থাকে। এভাবেই ডালপালা ছড়াচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। টেকনাফের স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, টেকনাফে ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করলেও মূল হোতারা রয়েছে যাচ্ছে চোখের আড়ালেই। এদের ধরতে না পারলে ইয়াবা সাম্রাজ্যের পতন ঘটানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা কয়েকজন ইয়াবাকারবারির বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, ‘ইয়াবা পাচার, অর্থ লেনদেনসহ নানা বিষয়ে অনেক বড় বড় গডফাদার রয়েছে। মূলত এরাই ইয়াবা পাচারের নেপথ্যে কাজ করছে। আত্মসমর্পণকারীরা জানায়, তাদের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি বলা হলেও নেপথ্যে একটি শক্তিশালী চক্র রয়েছে। যে চক্রের সদস্যদের কারও নাম এখনও প্রশাসন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনও তালিকায় আসেনি। তারা নেপথ্যে অবস্থান করে এদের (আত্মসমর্পণকারী) দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘ইতোমধ্যে আত্মসমর্পণে আসা ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিতে এমন ৩০ জন এজেন্টের নাম পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আর এ টাকা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা হয় দুবাই ও সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত ইয়াবার মূল মালিকদের কাছে। আর দুবাই সিঙ্গাপুর ঘুরে এ অর্থ পৌঁছানো হয় মিয়ানমারে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মনে করছেন, ইয়াবা গডফাদারদের নেপথ্যে রয়েছে টাকা সংগ্রহকারী হুন্ডি ব্যবসায়ীরা। আর এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীর নেপথ্যের ব্যক্তিরা রয়েছে দুবাই এবং সিঙ্গাপুর। ইতোমধ্যে দুবাই এবং সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া থেকেও কিছু ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করতে দেশে ফিরেছেন। ফলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল টার্গেটে পরিণত হয়েছে।’
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টেকনাফের ইয়াবাকারবারিদের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছেন টিটি জাফর। এই টিটি জাফরের সিন্ডিকেটের ১০ সদস্য টেকনাফে অবস্থান করে নানাভাবে ইয়াবা অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন জালিয়াপাড়ার তাহের, আবদুল আলী, লেঙ্গা কামাল, সাইফুল, খোরশিদ। এছাড়া এই হুন্ডি চক্রের সদস্য জালিয়াপাড়ার ওসমান, ইসহাক, ইয়াছিন, গোদার বিলের টিক্কা কাদের, সাতকানিয়ার ওসমানের নামও এসেছে স্বীকারোক্তিতে। এর বাইরে টেকনাফের লামারবাজারের একটি বেকারি, একটি কাপড়ের দোকান, কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার বিকাল এজেন্সির নামও পাওয়া গেছে। তবে এরাও আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে।
এদিকে বরাবরের মতোই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছেন ইয়াবা সাম্রাজের আলোচিত ব্যক্তি সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, তার ভাই কাউন্সিলর মৌলভি মুজিবুর রহমান, ইয়াবা ডন হাজী সাইফুল করিম, বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভি আজিজ উদ্দিন ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন, টেকনাফের নুরুল হক ভূট্টো, ছিদ্দিক আহমদ। এসব ইয়াবাকারবারিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় না আনা হলে আবারও ইয়াবা পাচার ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ