ঢাকা, রোববার 17 February 2019, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাধীনতা সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের  প্রধান কবি ও সোনালী কাবিনখ্যাত আল মাহমুদের চির বিদায়ে শোকাহত বাংলাভাষী মানুষ। গভীর শোক ও দূঃখ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। তারা বলছেন, কবি আল মাহমুদের ইন্তিকালে যে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তিনি ছিলেন ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী একজন সৎ এবং দেশপ্রেমিক কবি। বিদেশী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার কবি মনের অন্তঃস্থলে ছিল শ্রদ্ধা, কোমলতা, ঔদার্য ও সংকীর্ণহীনতা। তিনি কবিতাকে চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে নতুন আঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছেন। সাহিত্য জগতে তার কৃতিত্ব ও অবদানের জন্য জাতি চিরদিন তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়া থেকে বঞ্চিত করায় ক্ষোভ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলছেন,  ক্ষমতাসীন সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি আল মাহমুদকে তার প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নিথর কফিনে রাষ্ট্রীয় সম্মানটুকুও জানানো হয়নি।
বিএনপির শোক: কবি আল মাহমুদ এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শোকবার্তায় মরহুম কবি আল মাহমুদ-এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, গুনগ্রাহী, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অপর এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মরহুম কবি আল মাহমুদকে দেশের একজন বরেণ্য প্রধান কবি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন প্রতিভাবান গর্বিত সন্তানকে হারালো যার অভাব সহজে পূরণ হবার নয়। গভীর অভিনিবেশ সহকারে সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে তার অংশগ্রহণ ছিল সর্বদা স্মরণীয়। সারাবিশে^র বাংলাভাষী মানুষ তাকে বর্তমান কালের প্রধান কবি হিসেবে অভিহিত করেন। তার কবি মনের অন্তঃস্থলে ছিল শ্রদ্ধা, কোমলতা, ঔদার্য ও সংকীর্ণহীনতা। তার ভাবাশ্রয়ে গৃহীত হয়েছে বাংলাদেশের আবহমানকালের প্রাকৃতিক প্রাচুর্য, মানুষের ভালবাসা, চিরায়ত ঐতিহ্য এবং সমাজে বিরাজমান মূল্যবোধ। দেশীয় সংস্কৃতিকে তাৎপর্যময় দৃঢ়ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তার অবদান ছিল অপরিসীম। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, শিশুতোষ, গীতিকার হিসেবে তিনি ছিলেন ঈর্ষণীয় উচ্চতায়। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত থেকে স্বৈরশাহীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য কারাবরণ করতেও দ্বিধা করেননি। সংবাদপত্রে তার ক্ষুরধার কলাম ছিল অসহায়-উৎপীড়িত মানুষের মনের ভাষা। তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী কবি। এই যুগজয়ী যুগপুরুষ এর মৃত্যুতে দেশবাসীর ন্যায় আমিও মর্মাহত ও শোকার্ত। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকাহত পরিবারবর্গ, ভক্ত ও শুভাকাক্সক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জামায়াতে ইসলামীর শোক: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মাহমুদের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ বলেন, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মাহমুদের ইন্তিকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার ইন্তিকালে আমরা একজন অতিপ্রিয় আপনজনকে হারানোর মত গভীর বেদনা অনুভব করছি। তার ইন্তিকালে গোটা জাতি গভীরভাবে শোকে মুহ্যমান।
তিনি বলেন, কবি আল মাহমুদের ইন্তিকালে যে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তিনি ছিলেন ইসলামীমূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী একজন সৎ এবং দেশপ্রেমিক কবি। বিদেশী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে গোটা দেশ ও জাতিকে এবং বাংলা সাহিত্যের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে গিয়েছেন। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশু-সাহিত্য রচনা করে কৃতিত্বের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক। তিনি তার নিজস্ব সক্রিয় ধারা ও বৈশিষ্ট্যেই নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার অবদানের জন্য জাতি তাকে চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
তিনি তার জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুনÑএ কামনাই করছি। তিনি তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, ভক্ত, অনুরক্ত ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে দোয়া করছিÑআল্লাহ তাদের এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শোক: কবি আল মাহমুদ-এর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
এক যৌথ শোকবার্তায় জামায়াত নেতৃবৃন্দ মরহুম কবি আল মাহমুদ-এর সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে অবাধ বিচরণ, তার রচিত ছড়া, কবিতা ও উপন্যাসের মাধ্যমে এদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, দেশপ্রেম, ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করে শোক প্রকাশ করে বলেন, তার ইন্তিকালে সাহিত্যাঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়। সাহিত্য জগতে তার কৃতিত্ব ও অবদানের জন্য জাতি চিরদিন তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোআ করেন, আল্লাহ যেন মরহুমের নেক আমলসমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতবাসী করেন এবং তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনকে সবর করার তৌফিক দান করেন।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের শোক: আল মাহমুদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
এক শোকবাণীতে মহানগরী উত্তর আমীর বলেন, কবি আল মাহমুদের মৃত্যুতে আমরা একজন প্রথিতযথা সাহিত্য প্রতিভা, বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী প্রবাদ পুরুষ ও অনন্য সাধারণ মনিষাকে হারালাম। তার লেখনীর প্রতিটি ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে দেশপ্রেম, আর্তমানবতা কল্যাণ ও ইসলামী আদর্শের জয়গান। তিনি আজীবন ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আর্তমানবতার মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পর মানবতাবাদ ও ইসলামী আদর্শের সুসমন্বয়ে সাহিত্য প্রতিভা আল মাহমুদের সমকক্ষ আর কেউই ছিলেন না। মরহুম একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, গাল্পিক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ও সম্পাদক ছিলেন। তিনি ত্রিশোত্তর আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম কবি। এই সভ্যসাচী সাহিত্য প্রতিভা সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি ও একুশে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি কর্মজীবনের সকল ক্ষেত্রে সফলতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। মনীষী কবি আল মাহমুদের মৃত্যুতে দেশ ও জাতি সর্বোপরি বাংলা সাহিত্যের যে ক্ষতি হয়েছে তা সহজেই পূরণীয় নয়। দেশ-জাতি ও বাংলা সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জাতি তাকে চিরদিনই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
মহানগরী আমীর মরহুম কবির রূহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফিরদাউস কামনায় মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করেন। তিনি তার পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করেন।
এরশাদের শোক: কবি আল মাহমুদ-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এক শোকবার্তায় “সোনালী কাবিন” এর কবি আল মাহমুদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পাশাপাশি কবি আল মাহমুদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
শোক বার্তায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, কবি আল মাহমুদের মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হলো, যা সহসাই পূরণ হবার নয়। বলেন আলোকিত মানুষ হিসেবে কবি আল মাহমুদ সাহিত্যে-কর্মের মাধ্যম আলো ছড়িয়েছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন কবি আল মাহমুদ বেঁচে থাকবেন তার কর্মের মাঝে। এরশাদের ডেপুটি  প্রেস সচিব খন্দকার দেলোয়ার জালালী এ তথ্য জানান।
বিএফইউজে ও ডিইউজের গভীর শোক: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মাহমুদের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম এক শোক বার্তায় বলেন, সোনালী কাবিনের কবি আল মাহমুদের মৃত্যুতে আধুনিক বাংলা সাহিত্য এক উজ্জ্ব নক্ষত্রকে হারালো। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে সক্রিয় থেকে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি সরকার বিরোধী হিসেবে পরিচিত  দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। কবি আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা কবিতার শহরমুখী প্রবণতার মধ্যেই ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ তার কবিতায় ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য কীর্তি।
শোক বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি আল মাহমুদকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও ঢাকায় দাফনের সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার কবির প্রতি অবিচার ও হীন-মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
ছাত্রশিবিরের গভীর শোক: আল মাহমুদের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এক যৌথ শোকবার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড.মোবারক হোসাইন ও সেক্রেটারি জেনারেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বাংলাদেশর এক উজ্জ¦ল নক্ষত্র। আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি তিনি। এছাড়া তিনি ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। তার অনবদ্য সৃষ্টি লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬) বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব সাহিত্য সত্তা ও ইসলামী সাহিত্যে তার ভূমিকা অতুলণীয়। তার রেখে যাওয়া সাহিত্য ভান্ডার নতুন নতুন কবি সাহিত্যিক তৈরীতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসা এবং সহযোগিতা মূলক ভূমিকা জাতি কখনোই ভুলবে না। ছাত্রশিবিরের প্রতি তার ভালবাসা ও প্রত্যাশা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ মহান এই কবির ইন্তিকালে ছাত্রশিবিরের প্রতিটি জনশক্তি শোকাহত। বাংলার জমিনে সাহিত্য জগতে তিনি প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবেন অনন্ত কাল। বাংলাদেশের মানুষ তাকে চিরদিন শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করবে।  নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবার যেন  ধৈর্যধারণ করতে পারে  সেজন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
তমদ্দুন মজলিসের শোক: কবি আল মাহমুদের মৃত্যুতে ভাষা আন্দোলনের স্থপতি সংগঠন তমদ্দুন মজলিসের পক্ষ থেকে সভাপতি ড. মুহাম্মাদ সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দীন খান এবং অভিভাবক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল গফুর ভিন্ন ভিন্ন বাণীতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, কবি আল মাহমুদ বাংলা সাহিত্যকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তিনি একাধারে কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, সংগঠক ছিলেন। তিনি তমদ্দুন মজলিসের বহু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তমদ্দুন মজলিসের প্রোগ্রামকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার মৃত্যুতে জাতি হারিয়েছেন এক অনন্য ব্যক্তিত্বকে। তার এই চিরবিদায় বাংলা সাহিত্যের জন্য অনেক বড় একটা ধাক্কা। যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তার জায়গা পূরণ হবার নয়। তমদ্দুন মজলিস তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছে সেই সাথে শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।
সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের শোক: কবি আল মাহমুদের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি কবি মোশারফ হোসেন খান ও সেক্রেটারি কবি শিল্পী যাকিউল হক জাকী ।
এক শোক বার্তায় তারা বলেন, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি তিনি। কবিতা, গল্প এবং উপন্যাসসহ সকল শাখাতেই  বিচরণ রয়েছে এই মহান কবির। তিনি ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কথাশিল্পী, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। তবে আল মাহমুদ কবি হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত। তিনি কবিতাকে চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে নতুন আঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তারা বলেন, বাঙ্গালি জাতির নিজস্ব সাহিত্য সত্তা ও সংস্কৃতিতে তার ভূমিকা অতুলনীয়। তার সাহিত্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বাংলা সাহিত্য জগতে তিনি প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবেন অনন্ত কাল। বাংলাদেশের মানুষ তাকে চিরদিন শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করবেন।  তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবার যেন  ধৈর্য্যধারণ করতে পারেন সেজন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
কিশোর কন্ঠের শোক: কিশোরকণ্ঠের প্রধান উপদেষ্টা, কবি আল মাহমুদের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মাসিক কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক কবি মোশাররফ হোসেন খান।
এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের মত কিশোরকণ্ঠ পরিবারও গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। তিনি বলেন, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মাহমুদ। কবিতা, গল্প এবং উপন্যাসসহ সকল শাখাতেই বিচরণ রয়েছে এই মহান কবির। তিনি ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কথাশিল্পী, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। তবে কবি হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত। তিনি কবিতাকে চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে নতুন আঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, বাঙ্গালি জাতির নিজস্ব সাহিত্য সত্তা ও সংস্কৃতিতে তার ভূমিকা অতুলনীয়। কিশোরকন্ঠ পত্রিকাকে জনপ্রিয়তায় পৌছাতে তার পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিশোরকণ্ঠ পরিবারের প্রতি তার ভালবাসা ও প্রত্যাশা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বাংলা সাহিত্য জগতে তিনি প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবেন অনন্ত কাল। বাংলাদেশের মানুষ তাকে চিরদিন শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করবেন। 
তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবার যেন ধৈর্য্যধারণ করতে পারেন সেজন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
লেবার পার্টি: গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক রহমান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন।
এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আল মাহমুদের ইন্তিকালে বাংলা সাহিত্য একজন শ্রেষ্ট কবি ও সাহিত্যিককে হারাল। দেশ ও জাতি একজন দেশপ্রেমিক মহান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী যোদ্ধাকে হারিয়েছে। কিন্তু দুঃজনক হলেও সত্য যে, ক্ষমতাসীন সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধ কবি আল মাহমুদকে তার প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নিথর কফিনে রাষ্ট্রীয় সম্মান টুকুও জানানো হয়নি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্মানী ও গুনী মানুষকে যে সমাজ সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে ব্যর্থ হয়, সে সমাজ ও রাষ্ট্রে গুনীজন জন্মে না। নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকার্ত পরিবার, সাহিত্যাঙ্গনের অগনিত লেখক, পাঠক ও গুনাগ্রহীদেও প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শোক: আল মাহমুদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সাধারন সম্পাদক আতিকুর রহমান যৌথ শোকবার্তায় বলেন, তার মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য বিশেষ করে ইসলামী সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতে যে বিরাট শুন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো সহজে পূরন হবার নয়। তার অবদানের জন্য তিনি স্বরনীয় হয়ে থাকবেন। জাতির এই দুর্দিনে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, তার শুন্যতা আমরা গভির ভাবে অনুবভ করছি।আমরা দোয়া করছি আল্লাহ তায়ালা যেনো তার সকল নেক আমল কবুল করে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দান করেন।
তিনি কবির শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন,ভক্ত -অনুরক্ত ও সহকর্মীদের প্রতি গভির সমবেদনা জানান এবং দোয়া করেন আল্লাহ যেনো তাদের এই শোক সহ্যকরার তাওফিক দেন।
বাংলাদেশ ন্যাপের শোক: কবি আল মাহমুদের ইন্তিকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।
এক শোকবার্তায় দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, রবীন্দ্রনাথ-নজরুলরা যেমন যুগে যুগে জন্মায় না। তেমনই আল মাহমুদের মতো কবিও যুগে যুগে জন্মায় না। বহু প্রতীক্ষার পর একজন বড় কবির আবির্ভাব ঘটে। রবীন্দ্র-নজরুলের পর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উচ্চ গগনে যিনি আসীন হয়েছিলেন, তিনি হলেন কবি আল মাহমুদ। বর্তমান বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ