ঢাকা, রোববার 17 February 2019, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ॥ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার : সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাসা-বাড়িতে রান্না করতে পারেননি অনেক নগরবাসী। দুপরের খাবারের জন্য নিরুপায় হয়ে ছুটতে হয়েছে খাবারের হোটেলে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, শ্যামলী, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, আদাবর, গাবতলী, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাকার নোটিশ আগে দেয়নি তিতাস। ফলে অধিক দুর্ভোগের শিকার হয় মানুষ।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে তা আগে জানানো হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিতাস গ্যাসের পরিচালক অপারেশনস প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান অনেকটা বিব্রত হন। তিনি বলেন, গ্যাস আশুলিয়া হয়ে আমিনবাজার দিয়ে ঢাকা শহরে প্রবেশ করে। আর এই গ্যাস প্রবেশের মুখে জিটিসিএল মেরামতের কাজের কারণে ঢাকা শহরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তারা আমাদের বলেছে, আজ সকাল ৮টা থেকে কাল সকাল ৮টা পর্যন্ত তাদের মেরামতের কাজ চলবে। আর এ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
গ্রাহকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিতাসের এ প্রকৌশলী বলেন, ঢাকা শহরে দুটি পথে গ্যাস প্রবেশ করে। একটি হচ্ছে পশ্চিমাঞ্চল, আরেকটি পূর্বাঞ্চল। আর পূর্বাঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করা গ্যাস পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত আসতে আসতে তা অনেকটা ফুরিয়ে যায়। ফলে চাপ একেবারেই থাকে না। এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
গতকাল শনিবার দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে সেসব এলাকার খাবার দোকানগুলোর সামনে অপেক্ষমানের দীর্ঘ লাইন। লোকজন দাঁড়িয়ে আছে খাবার কিনতে। হোটেলে গিয়ে খাবার না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। অনেকে ঘুরছেন এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে।
শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা মমতাজ রহমান জানান, সকাল থেকে গ্যাস সংকটের কারণে রান্না করতে পারছেন না। সকালের খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে পাশের হোটেল থেকে আর দুপুরের খাবারের জন্য সাহায্য নিতে হয়েছে ইলেকট্রিক চুলার। সব থেকে অসুবিধায় পড়েছেন পরিবারে শিশুদের নিয়ে। তাদের প্রয়োজনীয় বাড়তি খাবার দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে।’
এ বিষয়ে শ্যামলী ডেলিসিয়া হোলেটের ম্যানেজার রাসেল বলেন, ‘রাজধানীতে সকাল ৬টা থেকে গ্যাস নেই। তাই সকাল থেকে এ হোটেলে লোকজনের প্রচণ্ড ভিড়। সিলিন্ডারের গ্যাসে রান্না হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে সেই খাবার ফুরিয়ে যাচ্ছে। ভাত আছে তো তরকারি নেই এভাবেই আজ সারাদিন চলছে। এ মুহূর্তে কাস্টমার ফেরত গেলেও আমাদের কিছুই করার নেই। অনেক কাস্টমারকে নিরুপায় হয়ে ফেরত দিতে হচ্ছে।’
তেহারী ঘর হোটেলের সামনে খাবার নেওয়া জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন সোহেল রানা। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘সকালের দিকে হোটেল থেকে পরিবারের সবার জন্য রুটি কিনে খেয়েছি। আজ থেকে যে গ্যাস থাকবে না সে বিষয়ে আগে থেকে জানতান না।’
গ্যাস না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাস যে থাকবে না সেই বিষয়েটি মাইকিং করে জানানো হয়নি। আগে জানতে পারলে সেই হিসেবে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। তিনি আরও জানান, সব হোটেলে ভিড়। কোথায় খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কিছু করার নেই, বাধ্য হয়ে এ হোটেলের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।
কল্যাণপুরের একটি বস্তিতে বসবাস করেন মোতালেব মিয়া। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক, ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে ওই বস্তিতে থাকেন। গ্যাসের সংকট বিষয়ে সারাবাংলাকে জানান, সাকালে গ্যাস থাকবে না শুনে ছেলে-মেয়েদের দুপুরের খাবার কেনার টাকা দিয়ে এসেছেন। এছাড়া দুপুরে রাস্তার যেকোনো হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে নেবেন বলেও জানান তিনি।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য আশুলিয়া ও আমিনবাজার সিজিএস প্ল্যান্ট থেকে তিতাস সিস্টেমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এর ফলে আশুলিয়া, সাভার, আমিনবাজার, গাবতলী, মিরপুর, পাইকপাড়া, পীরেরবাগ, কল্যাণপুর, শ্যামলী, রিংরোড, মনসুরাবাদ, কাদিরাবাদ, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, আজিমপুর, হাজারীবাগ ও এসব এলাকা সংলগ্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বিঘিœত হতে পারে। কোথায় কোথাও গ্যাসের চাপ খুব কমও থাকতে পারে।
১৯৬৮ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে তিতাস গ্যাস। বর্তমানে কোম্পানিটি ১৩ হাজার ৭৪ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করছে। সবশেষ হিসাব অনুযায়ী এর গ্রাহক সংখ্যা ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৪।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ